রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গোপন তৎপরতা

নিষিদ্ধ এনজিওর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

সম্পাদকীয়

রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন ক্যাম্পে নিষিদ্ধ ঘোষিত পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন লস্কর-এ তৈয়বার নামে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করেছে। এর পেছনে স’ানীয় এক প্রভাবশালী নেতার তৎপরতার খবরও জানা গেছে। শুধু তাই নয়, রোহিঙ্গা নেতাদের বরাত দিয়ে সুপ্রভাত প্রতিনিধির পাঠানো প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইতিমধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত আরও ১২টি এনজিও সংস’া গোপনে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে ক্যাম্পে। তারা তাদের সংস’ার নামে রোহিঙ্গাদের মাঝে আর্থিক অনুদানও বিতরণ করছে।
মিয়ানমার সামরিক জান্তার নির্যাতনের শিকার হয়ে এদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা। তাদের কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন স’ানে ১২টি ক্যাম্পে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের মানবিক সাহায্য দিচ্ছে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস’া। অভিযোগ আছে, এরমধ্যে টেকনাফের কয়েকজন জামায়তপন’ী জনপ্রতিনিধির ছত্রছায়ায় উখিয়ার কুতুপালং, টেকনাফের হোয়াইকং ও শামলাপুরের ক্যাম্পে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। সুপ্রভাত প্রতিনিধির কাছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গোয়েন্দা কর্মকর্তাও লস্কর-এ তৈয়বার কার্যক্রম পারিচালনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তবে হাতে নাতে ধরতে না পারার কারণে অভিযুক্ত জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে ব্যবস’া নিতে না পারার কথাও বলেন তিনি।
রোহিঙ্গা সমস্যার শুরু থেকে এর সাথে পাকিস্তান ভিত্তিক বিভিন্ন গোপন সংগঠনের কর্মতৎপরতার খবর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। এমনকি আরাকানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সশস্ত্র সংগঠন আরসার সাথে পাকিস্তানের গভীর যোগাযোগের সংবাদও এখন প্রকাশ্যে আলোচিত বিষয়। শুরু থেকে রোহিঙ্গাদের নিয়ে বিভিন্ন ইসলামী উগ্রবাদী গোষ্ঠীর তৎপরতা লক্ষ করা গেছে। এরমধ্যে কিছু কিছু সংগঠন আছে যারা আন্তর্জাতিকভাবে জঙ্গি ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন। এদের কর্মতৎপরতা রোহিঙ্গাদের মধ্যে উগ্রবাদী ভাবধারার জন্ম দিতে পারে।
এমনিতেই রোহিঙ্গা বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য নানাভাবে সমস্যা তৈরি করেছে। বাংলাদেশকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং পরিবেশগতভাবে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। মিয়ানমার সরকারের সাঙ্গে বাংলাদেশ সরকার একটি চুক্তি সম্পাদন করেছে। সে হিসেবে রোহিঙ্গাদের সে দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। প্রাথমিক অবস’ায় এক লাখ রোহিঙ্গার তালিকা প্রস’ত করে সে দেশের সরকারের হাতে দেওয়া হয়েছে। সে সময়ও আরসা আরাকানে সেনাবাহিনীর ওপর আক্রমণের কথা স্বীকার করেছে। ফলে প্রতীয়মান হয় যে, এই গোষ্ঠী হয়ত রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে আন্তরিক নয়। এবং রোহিঙ্গাদের এদেশে রেখে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য সাধন করতে চায়।
কাজেই, এক্ষেত্রে সরকারি গোয়েন্দা সংস’াকে কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে এবং যে কোনো উপায়ে উগ্রবাদী সংগঠনগুলোকে ক্যাম্পে প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করতে হবে। সে সাথে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনগুলোর প্রতিনিধি ও তাদের আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস’া নিতে হবে। পরিসি’তি অবনতি হওয়ার আগেই প্রশাসনকে তৎপর হতে হবে।