ইইউ’র প্রতিনিধিদলকে নিয়ে ক্যাম্প পরিদর্শনকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই ফেরত

নিজস্ব প্রতিনিধি, উখিয়া
Capture

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে মর্মান্তিক নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সে দেশে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করেই ফেরত পাঠানো হবে। এ জন্য রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া একটু বিলম্বিত হচ্ছে জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘের অঙ্গ সংস’া ইউএনএইচসিআর-কে সম্পৃক্ত করে চুক্তি হয়েছে। তিনি বলেন, জাতিসংঘের এই সংস’াকে সাথে নিয়ে মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে স্বদেশে ফেরত পাঠাতে চায় বাংলাদেশ। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় তাড়াহুড়া করলে এই পরিসি’তি ব্যাহত হওয়ার আশংকা রয়েছে।
গতকাল উখিয়ার কুতুপালংয়ে নবগঠিত শরণার্থী ক্যাম্প মধুরছড়া কিউকিউ জোন এলাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৩২ সদস্যের প্রতিনিধিদলকে সাথে নিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।
ওইদিন সকালে ইইউ প্রতিনিধিদল রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে আসলে ক্যাম্পে অপেক্ষমাণ সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা ও বেসরকারি সংস’ার প্রতিনিধিরা তাঁদের স্বাগত জানান। পরে প্রতিনিধিরা রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে তাদের আবাসস’ল, থাকা-খাওয়া, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস’া, চিকিৎসা প্রভৃতি প্রত্যক্ষ করে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলেন। এসময় বেশ কয়েকজন ধর্ষিত ও নির্যাতিত স্বামীহারা রোহিঙ্গা মহিলা তাদের স্বজনহারানোর শোকাহত ঘটনাবলির বিবরণ দেন। পাশাপাশি মিয়ানমার সেনা কর্তৃক গুলিবিদ্ধ বেশ কয়েকজন পঙ্গু রোহিঙ্গা তাদের সর্বস্ব হারানোর কথা বলেন। দাবি জানান, মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হলে তাদেরকে যেন আবারো এদেশে ফিরে আসতে না হয়।
ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে ইইউ প্রতিনিধি দলের প্রধান জিন লামবারট বলেন, মিয়ানমারের পরিসি’তি এখনো উদ্বেগজনক। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আন্তর্জাতিকমহল মনে করে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর আগে মিয়ানমার সরকারকে নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। তিনি আরো বলেন, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের যে পরিসি’তি কথা বর্ণনা করেছেন, তাতে কোনোভাবেই সেই পরিবেশ তাদের অনুকূলে নয়। যে কারণে রোহিঙ্গারা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি করে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে মিয়ানমারের প্রতি আহবান জানান জিন লামবারট।
প্রতিনিধিদলের সাথে ছিলেন জেমস নিকলসন, রিচার্ড করবেট, ওয়াযিদ খান, সাজ্জাদ করিম, মার্ক তারাবেলাসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৩২ জন সদস্য।
পরিদর্শনের সময় রোহিঙ্গাদের সাথে আলাপ ছাড়াও ত্রাণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ ও আন্তর্জাতিক সংস’ার বিভিন্ন প্রকল্প ঘুরে দেখেন ইইউ প্রতিনিধিদল।