বালুখালী বস্তিতে চাঁদাবাজি

রোহিঙ্গাদের জন্য মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা

নিজস্ব প্রতিনিধি, উখিয়া

মিয়ানমারের রাখাইনদের অত্যাচার-উৎপীড়নে অতিষ্ঠ হয়ে এদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের নিকট থেকে গণহারে চাঁদাবাজির ঘটনা মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘায়ে পরিণত হয়েছে। রোহিঙ্গারা স’ানীয় গুটিকয়েক দুর্বৃত্তদের অনৈতিক দাবি অপারগপক্ষে পরিশোধ করলেও ভয়ে মুখ খুলছে না। তবে প্রত্যক্ষদর্শী স’ানীয়দের অভিযোগ, সর্বস্বান্ত এসব রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার নামে মোটা অংকের চাঁদাবাজি প্রতিরোধ করা না হলে দুর্বৃত্তরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে।
বালুখালী বস্তির আই-ব্লকের বাসিন্দা হুমায়ুন কবির, ছেনুয়ারা বেগম, আবুল বশর ও বেগম বাহারসহ কয়েকটি রোহিঙ্গা পরিবার অভিযোগ করে জানান, মিয়ানমারের সশস্ত্র রাখাইন ও সে দেশের বিজিপি সদস্যরা তাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে। যুবতী মেয়েদের ধর্ষণ করেছে। প্রাণ বাঁচাতে সর্বস্বান্ত হয়ে তারা বালুখালীর বনভূমির জায়গায় ঝুপড়ি বেঁধে ছেলেমেয়ে নিয়ে খেয়ে না-খেয়ে রাতযাপন করছি।
তারা আরো জানান, আয়ের উৎস বলতে তাদের কিছু নেই। সরকার, বেসরকারি সংস’া বা দাতাসংস’ার কেউ কোনো কিছু দান বা ত্রাণসামগ্রী দিলে দুবেলা দুমুঠোা অন্ন জোটে। তা না হলে উপবাসে ছেলেমেয়ে নিয়ে কান্নায় আত্নাহুতি দেওয়ার মত পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এছাড়া বালুখালী রোহিঙ্গা বস্তিতে চলছে নিরব চাঁদাবাজি। অন্যথায় ভিলেজার নামধারীরা রোহিঙ্গা বস্তিতে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ঝুপড়িঘর ভেঙে দেওয়া হচ্ছে বলে রোহিঙ্গাদের অভিযোগ।
সরেজমিন ঘুরে বালুখালী রোহিঙ্গা বস্তিতে দেখা যায়, প্রায় সাড়ে ৩ হাজার রোহিঙ্গা পরিবার আশ্রয় নিয়েছে এখানে। বন বিভাগের জায়গার ওপর ঝুপড়ি বানিয়ে রোহিঙ্গারা বসবাস করছে। স’ানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মনিরুল ইসলাম জানান, উখিয়ার ঘাট বনবিট কর্মকর্তা মোবারক আলী, মুন্সী মো. তরিকুল ইসলাম, মহসিন, হেডম্যান আমির হোসেন বন বিভাগের জায়গা দাবি করে পরিবার প্রতি ৩/৪ হাজার টাকা করে আদায় করছে। তাদের কথামতো টাকা না দিলে উচ্ছেদের নাম ভাঙিয়ে ঝুপড়িগুলো ভাঙচুর করছে।
এ ছাড়া রাত নামলে বালুখালী বস্তিতে কতিপয় স’ানীয় মদ্যপায়ী দুর্বৃত্তরা অবাধ বিচরণ করে যুবতী মেয়েদের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে বলে রোহিঙ্গা শেড মাঝি আবুল হোসেন জানিয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা জানান, লোকালয় থেকে দূরত্বে গড়ে ওঠা বালুখালী বস্তিকে ঘিরে স’ানীয় এক শ্রেণির নেশাখোর, চাঁদাবাজচক্রের অনৈতিক আবদার ও দাবিপূরণে অক্ষম হয়ে ইতিমধ্যে ১৫/২০ রোহিঙ্গা পরিবার বালুখালীর বস্তি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে।
স’ানীয় ইউপি সদস্য নুরুল আবছার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বালুখালী থেকে রোহিঙ্গা বস্তিটা অন্যত্র স’ানান্তর করলে স’ানীয় সুশীল সমাজের লোকজন ও শান্তিপ্রিয় গ্রামবাসী স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে সক্ষম হতো। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের কারণে তাকেও সব সময় দুশ্চিন্তায় ভুগতে হচ্ছে।