সোনাইছড়ির ত্রিপুরা পাড়ায় ৯ শিশুর মৃত্যু

রোগের নাম হাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

সীতাকুণ্ডের মধ্যম সোনাইছড়ির ত্রিপুরা পাড়ায় নয়টি শিশুর মৃত্যুর কারণ ছিল হাম। এ রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুদের রক্তের নমুনা পরীক্ষা করে হামকে শনাক্ত করেছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)।
গতকাল সোমবার আইইডিসিআর এর সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান স্বাস’্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। এসময় সেখানে চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকীও উপসি’ত ছিলেন।
ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী গতকাল সুপ্রভাতকে জানান, মৃত ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুদের রক্তের নমুনায় হামের জীবাণু শনাক্ত হয়েছে।
তিনি আরো জানান, ত্রিপুরা পাড়ায় নয়টি শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস’্য অধিদপ্তরের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন সংবাদ সম্মেলনে উপস’াপন করা হয়। এতে বলা হয়, দুর্গম ওই এলাকার ৮৫টি পরিবারের ৩৮৮ বাসিন্দাদের কয়েক দশকে কোনো টিকা দেওয়া হয়নি। স্বাস’্য কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে এ ঘটনার জন্য মহাপরিচালক দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তবে সারা দেশে হাম ছড়িয়ে পড়ার কোনো আশঙ্কা নেই বলে তিনি জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাস’্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, সীতাকুণ্ডের ত্রিপুরা পল্লীর মানুষগুলো কখনোই আধুনিক চিকিৎসা নেয়নি। আধুনিক চিকিৎসা নিলে নয় শিশুর প্রাণহানি ঠেকানো যেতো বলে জানান তিনি।
গত মাসের শেষ দিকে ত্রিপুরা পাড়ার শিশুদের মধ্যে জ্বর, ফুসকুড়ি, শ্বাসকষ্ট ও খিঁচুনির মত উপসর্গ দেখা দেয়। কিন’ অভিভাবকরা শিশুদের হাসপাতালে না নিয়ে কবিরাজি চিকিৎসা করেন। এতে গত বুধবার পর্যন্ত নয় শিশুর মৃত্যু হয়। পরে বিষয়টি স’ানীয় প্রশাসনের নজরে আসে। পরে অসুস’ অবস’ায় ওই এলাকা থেকে আরও ৪৬ জনকে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুদের সবাই এখন আশঙ্কামুক্ত বলে গতকাল সুপ্রভাতকে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন।