রেলের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস : কর্তৃপক্ষের নজিরবিহীন দায়িত্বহীনতা

রেলের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র আবার ফাঁস হয়েছে। পরীক্ষা শুরুর অন্তত দু ঘণ্টা আগে থেকে তা ছড়িয়ে পড়ে মোবাইলে-মোবাইলে। শুধু তাই নয় পরীক্ষার হলে মোবাইলসহ প্রবেশ করে এবং মোবাইল থেকে দেখে দেখে পরীক্ষা দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এর প্রতিবাদ করে এক পরীক্ষার্থী কর্তব্যরত ইনভিজিলেটরের কাছে নালিশ জানাতে গিয়ে নকলকারী পরীক্ষার্থীর হাতে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিতও হয়েছেন। ঘটনার এখানেই শেষ নয়, হলের এই মারামারির ঘটনা পরীক্ষা শেষে বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে। গত শুক্রবার সরকারি খাস্তগীর স্কুলে এমন ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দুজনকে আটক করতে বাধ্য হয় পুলিশ।
রেলের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের ৬৬ টি পদের বিপরীতে বিভিন্ন কেন্দ্রে মোট ৩২ হাজার পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন। গতকাল ছিল তৃতীয় শ্রেণির অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিকের পরীক্ষা। খাস্তগীর স্কুল কেন্দ্রে অংশ নিয়েছেন এক হাজার ৩৫৮ জন পরীক্ষার্থী।
এ বিষয়ে রেলওয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা আগের রাতেই ঘটেছে। সুপ্রভাত প্রতিবেদক ফাঁস হওয়া প্রশ্নের ছবি এসএমএস করে মহাব্যবস্থাপকের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র নিয়ে পরীক্ষা গ্রহণের বিষয়ে কারো জানারও সুযোগ হয়নি।
নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে দুর্নীতি বাংলাদেশ রেলওয়ের নিয়মিত ঘটনার পরিণত হয়েছে। যে কোনো এমনকি খালাসি পদের পরীক্ষায়ও দুর্নীতি হয়েছে অতীতে। রেলের নিয়োগ পরীক্ষার অনিয়ম নিয়ে এখনো আদালতে মামলা চলছে। এতে এখনো কারাবন্দি আছেন রেলওয়ে থেকে বরখাস্ত হওয়া সাবেক মহব্যবস্থাপক ইউসুফ আলী খান মৃধাসহ তিন কর্মকর্তা। এ ছাড়া সম্প্রতি রেলের পদোন্নতি পরীক্ষারও প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার অভিযোগ তদন্ত কমিটির রিপোর্টে শনাক্ত হয়েছে।
প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার ঘটনার পরও কর্তৃপক্ষ একই প্রশ্নপত্রে কেন পরীক্ষা নিলেন এবং হলে মোবাইলসহ প্রবেশ করে মোবাইল থেকে দেখে দেখে উত্তরপত্র লেখার অভিযোগ আনা সত্তেও সে পরীক্ষা কেন বাতিল করলেন না তা ব্যাখ্যার দাবি রাখে। যে কোনো পরীক্ষার আগে তার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার মতো ঘটনাও দেশে নৈমিত্তিক হয়ে উঠেছে। সে পরীক্ষা প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রায় সব ধরনের নিয়োগ পরীক্ষা পর্যন্ত বিস্তার লাভ করেছে।
এই অনিয়ম দুর্নীতির কারণের রেলওয়ের মতো বিশাল গণপরিবহন ব্যবস্থা প্রতিবছর লোকসান দিচ্ছে। এই দুর্নীতির কারণে বাংলাদেশ রেলওয়ে দেশের মানুষের কাঙ্ক্ষিত চাহিদা বা প্রয়োজন মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছে। একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে এমন ব্যবস্থা চলতে দেওয়া যায় না। যে বা যারা এমন দুর্নীতির সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তাদের আইনের মুখোমুখি দাঁড় করাতে হবে। জনগণের সম্পদের ক্ষতির হিসাব জনগণকে প্রদান করতে হবে।