রি-টেস্ট নেই সিলিন্ডারের চলন্ত বোমার মাঝে নগরবাসী

সম্পাদকীয়

শুধুমাত্র চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলরত ২০ হাজারের বেশি সিএনজি অটোরিকশার বেশিরভাগেরই গ্যাস সিলিন্ডার রি-টেস্ট করা নেই। শুধু সিএনজি অটোরিকশাই নয়, সিএনজি চালিত অন্যান্য যানবাহনের ক্ষেত্রেও একই অবস’া বলে জানা গেছে। প্রতিবছর গ্যাস সিলিন্ডার টেস্ট করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা কেউ মানছে না। টেস্ট করার সময় পেরিয়ে গেলেও এমন হাজার হাজার গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে চলাচল করছে নগরীর গ্যাস চালিত যানবাহনগুলো। ফলে অভিজ্ঞজনরা বলছেন, যানবাহনগুলো এক একটি বোমা নিয়ে চলাচল করছে।
নিয়ম অনুযায়ী সংযোজনের পাঁচ বছর পর প্রতিবছরই সিলিন্ডারগুলো রি-টেস্ট করার নিয়ম, প্রথমাবস’ায় মানসম্মত সিলিন্ডার সংযোজন করলেও ধীরে ধীরে কমদামি সিলিন্ডার লাগানোর প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। কমদামি সিলিন্ডারগুলো স্বাভাবিক কারণেই দীর্ঘদিন নিরাপদ থাকার কারণ নেই। কিন’ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ‘বিআরটিএ’র গাফেলতি ও দুর্নীতির কারণে মানহীন সিলিন্ডার দিয়েই চলছে অনেক যানবাহন ফলে প্রতিদিন মৃত্যুঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে নগরে।
সবচেয়ে উদ্বেগ-আতঙ্কের বিষয় হচ্ছে, গত কয়েক বছরে বিপুলসংখ্যক ডিজেলচালিত বাস-ট্রাক সিএনজিতে কনভার্ট করা হয়েছে। এসব বাস-ট্রাকে দুই থেকে ছয়টি পর্যন্ত সিলিন্ডার সংযোজিত হয়েছে। সিলিন্ডার সংখ্যার কারণে এসব গাড়ির নিরাপত্তা ঝুঁকিও বেশি। অথচ রিটেস্টের ব্যাপারে দূরপাল্লার এসব গাড়ি মালিকদেরও আগ্রহ নেই। পাঁচ বছরের বেশি মেয়াদের সিলিন্ডারের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে আরপিজিসিএল। জনবল সংকটের কারণে সিলিন্ডারের মান নিয়ন্ত্রণ, সিএনজি যন্ত্রপাতির ফিটনেস ইত্যাদি বিষয়ে তারা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না।
এ ব্যাপারে কারা দায়িত্ব পালন করবেন সে বিষয়টিও এখনো নির্ধারিত হয়নি। এটা সড়ক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেন বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞরা। সূত্র জানায়, সিএনজি সিলিন্ডারে প্রতি বর্গ ইঞ্চিতে ৩২শ’ পাউন্ড চাপে যখন গ্যাস ভরা হয় তখন রাস্তায় চলাচলকারী এক একটি গাড়ি যেন চলন্ত বোমা হয়ে ওঠে। গ্যাস ভরার সময় সিলিন্ডার ও গ্যাস উত্তপ্ত অবস’ায় থাকে।
সিলিন্ডার যথাযথ না হলে বড় রকমের অঘটন ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে। ইতিপূর্বে গ্যাস ভরার সময় সিএনজি স্টেশন এমন একাধিক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফারহান নূর বলেন, বিআরটিএ’তে একটি সিএনজি সেল স’াপনের মধ্য দিয়ে ফিটনেস ও নবায়নের সুযোগ সৃষ্টির প্রস্তাব দীর্ঘদিনেও বাস্তবায়ন হয়নি। গাড়ির ফিটনেসের সময় সিলিন্ডার রিটেস্টের সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক করা হলে সিলিন্ডার পরীক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হতো।
দীর্ঘ বারো বছর ধরে কোনো প্রকার রি-টেস্ট ছাড়া অনেক অটোরিকশা চলাচল করছে নগরীতে। গাড়ির সিলিন্ডার বিস্ফোরণে মৃত্যুর হার দিনদিন বৃদ্ধি পেলেও বিআরটিএ এর বিরুদ্ধে কোনো কড়া অভিযান পরিচালনা করেনি অতীতে। আমাদের দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার এমনিতেই বেশি। চালক, হেলপার থেকে শুরু করে পথচারী কেহই আমরা আইন মেনে চলতে ইচ্ছুক নই। যে কারণে প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনায় প্রচুর প্রাণহানির ঘটনা ঘটে থাকে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে অনিরাপদ ও মেয়াদোত্তীর্ণ গ্যাস সিলিন্ডার, যার একটির বিস্ফোরণে অনেক ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে।
শেষ পর্যন্ত বিআরটিএ অভিযানে নামছে বলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারিত হয়েছে। আমরা আশা করব বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ এবার এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেবে। সিলিন্ডার রি-টেস্ট করা ছাড়া যানবাহনগুলো চলাচল করতে না পারার ব্যবস’া নেবে। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তার কথা ভেবে কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।