রিজভী সংবাদ সম্মেলন কিভাবে করেন, প্রশ্ন হাছানের

সুপ্রভাত ডেস্ক গ্ধ

পুলিশের ওপর আক্রমণ করে বিএনপিনেতা রুহুল কবির রিজভী কিভাবে দলীয় কার্যালয়ে বসে সংবাদ সম্মেলন করেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ। গতকাল ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘যারা প্রতিনিয়ত আচরণবিধির কথা বলেন, তারা নিজেদের কার্যালয়ের সামনে হাজার হাজার লাঠি আর বাঁশ নিয়ে যেভাবে নির্বাচনী ফরম সংগ্রহ করতে গিয়েছেন, এটা আচরণবিধির কোথায় আছে?’ খবর বিডিনিউজের।
‘পুলিশকে ঘেরাও করে মারধর, কিলঘুষি মেরে পুলিশ ও র্যাবের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে, সেখানে আচরণবিধির ১১, ১৮ ধারা সুস্পষ্ট লঙ্ঘিত হয়েছে। আর এই ঘটনায় পুলিশ তিনটি মামলা করেছে, যেখানে পল্টন থানার মামলা নম্বর ২১ এবং ২২ এ রিজভী আসামি। পল্টন থানার মামলা নম্বর ২৩ এর ২৮ নম্বর আসামিও হচ্ছে রিজভী।’
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘পুলিশের কাছে প্রশ্ন- নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘন করে তারা যে হাঙ্গামা সৃষ্টি করেছে, সেখানে যিনি মামলার দুই নম্বর আসামি, কার্যালয়ে বসে কিভাবে অন্য দলের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করেন, বিষোদগার করেন? পুলিশ এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে অনুরোধ জানাব, এই সকল মামলার আসামি রিজভীসহ সমস্ত আসামিদের বিরুদ্ধে তড়িৎ ব্যবস’া নেওয়ার জন্য।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জীবনের ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘হাসিনা : আ ডটার’স টেল’-এর প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনী বন্ধের দাবি জানিয়ে রুহুল কবির রিজভী গত শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হবেন। সেখান এই প্রামাণ্যচিত্রে দেশের ইতিহাস, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ক্ষমতার পালাবদল নিয়ে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশিত হচ্ছে, যা নির্বাচনী আচরণবিধির লংঘন।
এ প্রসঙ্গে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এটির সাথে রাজনীতি বা ভোটের কোনো সম্পর্ক নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বিধায় রাজনীতির কিছু ঘটনা প্রবাহে ও বঙ্গবন্ধু হত্যার পর তার উপর যে নির্যাতন নিপীড়ন- এই বিষয়গুলো উঠে এসেছে। কিন’ এটার সাথে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। অথচ বিএনপি নেতা রিজভী এই ছবির সাথে নির্বাচনের আচরণবিধির কোথায় কি খুঁজে পেলেন সেটা আমার বোধগম্য নয়। তিনি এই প্রসঙ্গে যে ব্ক্তব্য রেখেছেন এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। একটি শিল্পকর্ম নিয়ে এ ধরনের বক্তব্য নিন্দনীয়।’
আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে তাদের গাত্রদাহের মূল কারণ হচ্ছে তাদের নেত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে কোনো শিল্পকর্ম বানানোর কোনো ঘটনা প্রবাহ নেই। খালেদা জিয়ার জীবনী লিখতে হলে বলতে হবে পাঁচটি জন্মদিনের কথা, তার নেতৃত্বে পরপর পাঁচবার বাংলাদেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, দুই পুত্র দুর্নীতির টাকা বিদেশে পাচার করেছে, দুর্নীতির দায়ে দশ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে।
‘খালেদা জিয়ার জীবন নিয়ে চলচ্চিত্র বানাতে হলে একটি হরর মুভি বানাতে হবে। কারণ হচ্ছে ভৌতিক ছবিতে নায়িকা মানুষ পোড়ালে সেই পোড়া মানুষের গন্ধ না পেলে ঘুমাতে পারে না, পোড়া মানুষের গন্ধ না পেলে তার স্বস্তি হয় না। সুতরাং খালেদা জিয়াকে নিয়ে কোনো ছবি বানাতে হলে এগুলোই উঠে আসবেই।’
সুপ্রিম কোর্টে ভোট চেয়ে মির্জা ফখরুল ও ড. কামাল নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন জানিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আপনারা নির্বাচনী আচরণবিধির কথা বলেন? গতকাল দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে রীতিমত সমাবেশ করে দেশের সর্বোচ্চ আদালত এবং আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মির্জা ফখরুল এবং ড. কামাল হোসেনরা ধানের শীষে ভোট চেয়েছেন, এটা আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন।’
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপসি’ত ছিলেন আওয়ামী লীগের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক সামসুন্নাহার চাপা, উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া।