খালেদার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা রায়ের অনুলিপি মেলেনি

সব দলকে ভোটে দেখতে চায় ইইউ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
khaleda-ziawb-(1)

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ দেখতে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। গতকাল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে ইইউ প্রতিনিধি দলের এক সদস্য জানতে চান, সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে থাকা বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ওই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন কি-না। জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানিয়ে দেন গোটা ব্যাপারটি নির্ভর করছে আদালতের ওপর।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার সঙ্গে ইইউ প্রতিনিধি দলের বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিলো আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে আলোচনা। নির্বাচনের ব্যয় কে বহন করে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কীভাবে হয়- এসব বিষয়ে দুই পক্ষে আলোচনা হয়।
সিইসি প্রতিনিধি দলকে জানান, রাষ্ট্রপতি পদে একক প্রার্থী থাকায় ভোটাভুটির কোনো প্রয়োজন পড়েনি। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আগের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদকে রাষ্ট্রের প্রধানের পদে বসানো হয়। একাধিক প্রার্থী থাকলে সংসদ সদস্যরা ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতেন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যয় প্রসঙ্গে সিইসি জানান, নির্বাচন কমিশনের চাহিদামাফিক সমস্ত ব্যয় সরকারই বহন করে থাকে।
তবে আলোচনায় সবকিছু ছাপিয়ে আসে খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় নিম্ন আদালতের দেওয়া ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড নিয়ে কারাবন্দি রয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন। নির্বাচনে অংশগ্রহণ সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। বিষয়টি দেশের পরিসীমা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিকভাবেও আলোচিত হচ্ছে।
এরই অংশ হিসেবে ইইউ প্রতিনিধি দলের এক সদস্য সিইসির কাছে জানতে চান যে আগামী নির্বাচনে খালেদা জিয়া অংশগ্রহণ করতে পারবেন কি-না। জবাবে কে এম নুরুল হুদা জানান, বিষয়টি নির্ভর করছে আদালতের ওপর। প্রতিনিধি দলকে তিনি এ সময় বলেন, ‘এটি আদালতের বিষয়। আদালত যদি অনুমতি দেন, তাহলে ইসির কিছু করার নেই। আর যদি আদালত অনুমতি না দেন, তাহলেও ইসির কোনো ভূমিকা থাকবে না। কমিশন সংবিধান ও আইন অনুযায়ী সবকিছু করবে।’
বৈঠকে আলোচ্য এসব বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন ইসি সচিবালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।
ইইউ প্রতিনিধি দলের নেতা জ্যঁ ল্যামবার্টও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চায় জানিয়ে তিনি বলেন, ইসিকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে হবে। স্বাধীন ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচনের বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়েছে। আগামী নির্বাচনে যাতে সর্বোচ্চসংখ্যক ভোটার ভোট দিতে পারেন এবং সব দল নির্বাচনের জন্য প্রস’তি নিতে পারে, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
রায়ের অনুলিপি মেলেনি
এদিকে, বুধবারও আশাহত হলেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। তাদের ধারণা ছিলো গতকাল খালেদা জিয়ার রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি পেয়ে যাবেন। সে অনুযায়ী আজ বৃহস্পতিবার উচ্চ আদালতে যাওয়ার সমস্ত প্রস’তিও সেরে রেখেছিলেন। কিন’ গতকাল সেই কাঙ্খিত অনুলিপি মেলেনি। খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া অনুলিপিটি বৃহস্পতিবার পাওয়ার আশা করছেন।
সানাউল্লাহ মিয়া জানান, অনুলিপি পেলে উচ্চ আদালতে খালেদার আপিল আবেদন করা হবে। পাশাপাশি জামিনের আবেদনও। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারামুক্ত হবেন বলে তার মত।
৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার সারসংক্ষেপ পড়েছিলেন ঢাকার বিশেষ জজ মো. আখতারুজ্জামান। ওই সময়ই তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে, মামলার মূল রায়টি ৬৩২ পৃষ্ঠার। গত সোমবার রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি পেতে তিন হাজার পৃষ্ঠার স্ট্যাম্প ফোলিও পেপার বিচারকের পেশকারের কাছে জমা দেন খালেদার আরেক আইনজীবী জয়নুল আবেদীন মেজবাহ। ওই কাগজেই রায়ের সত্যায়িত কপি লেখার কথা।
তবে আপিল ও জামিন আবেদনের পরে এ মামলায় খালেদার মুক্তির পথ খুলে গেলেও তা ফের বন্ধ হয়ে যেতে পারে অন্য ইস্যুতে। ইতোমধ্যে আরও দুটি মামলায় খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করার নির্দেশনা গেছে কারাগারে। শোনা যাচ্ছে, অন্তত আরও তিনটি মামলায় বিএনপি নেত্রীকে গ্রেফতার দেখানো হতে পারে।
গৃহপরিচারিকা রাখার নির্দেশনা
১১ ফেব্রুয়ারি সকালে খালেদা জিয়াকে ডিভিশন দেওয়ার জন্য আদালতের কাছে আবেদন করেন আইনজীবী আমিনুল ইসলাম কারাগারে। সকাল ১১টার পর ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এ শুনানি শেষে বিচারক আখতারুজ্জামান জেল কোড অনুযায়ী কারাগারে ডিভিশন দেওয়ার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে খালেদার সঙ্গে তার ব্যক্তিগত গৃহপরিচারিকা ফাতেমাকেও রাখার নির্দেশনা দেন আদালত। এ তথ্য জানিয়েছেন আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া। বিকালে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে ডিভিশন ও গৃহপরিচারিকা রাখার আদেশ পৌঁছে দেন আইনজীবীরা। এরপর গৃহপরিচারিকা ফাতেমাকে খালেদার সঙ্গে থাকার অনুমতি দেন কারা কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে খালেদার সঙ্গেই ফাতেমা আছেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।