তরিকত কনফারেন্সে অধ্যক্ষ ছৈয়্যদ মুনির উল্লাহ্

রাসূলপ্রেমে বেনজীর ব্যক্তিত্ব ছিলেন গাউছুল আজম (রা.)

মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটির তরিক্বত কনফারেন্সে একটি স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করা হয়
মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটির তরিক্বত কনফারেন্সে একটি স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করা হয়

কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফের মহান মোর্শেদ হযরতুলহাজ্ব আল্লামা অধ্যক্ষ ছৈয়্যদ মুহাম্মদ মুনির উল্লাহ্ আহ্মদী মাদ্দাজিল্লুহুল আলী বলেছেন, কাগতিয়া দরবারের প্রতিষ্ঠাতা গাউছুল আজম (রা.) ছিলেন যুগের সুন্নাতে মোস্তফার পূর্ণ প্রতিচ্ছবি ও প্রচারক রাসূলপ্রেমে বিলীন হয়ে যাওয়া এক কিংবদন্তী আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব। এ মনীষীর গোটা জিন্দেগীতে রয়েছে প্রিয় রাসূলের আদর্শ ও সকল সুন্নাত পরিপূর্ণ প্রতিফলন। তাই তো মেরাজুন্নবী (দ.)’র বরকতময় সময়ে তিনি প্রিয় রাসুলের সাথে আল্লাহর দিদার লাভে ধন্য হয়েছেন। বেছাল শরীফের পূর্বে নিজের জীবনের জমানো সব অর্থ তাঁরই প্রাণপ্রিয় নবীর ঘর কাগতিয়া কামিল কামিল মাদ্রাসায় দান করে নবীপ্রেমের যে বিরল দৃষ্টান্ত স’াপন করেছেন তা কেয়ামত পর্যন্ত মানুষ স্মরণ করবে।
মেরাজুন্নবী (দ.)’র বরকতময় সময়ে কাগতিয়া দরবারের প্রতিষ্ঠাতা আওলাদে মোস্তফা খলিফায়ে রাসুল হযরত শায়খ ছৈয়্যদ গাউছুল আজম রাদ্বিয়াল্লাহু আন্হুর বেছাল শরীফ উপলক্ষে আয়োজিত ঐতিহাসিক তরিক্বত কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
গতকাল শনিবার মহানগরীর বায়েজিদ গাউছুল আজম সিটির কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফ কমপ্লেক্স ময়দানে অনুষ্ঠিত এ কনফারেন্সের আয়োজন করে মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশ। কনফারেন্সে গাউছুল আজম (রা.) স্মরণে ‘আল হাবীবু মা‘আল হাবীবে ফিল ইস্রা’ নামে একটি স্মরণিকার মোড়ক উম্মোচন করা হয়।
প্রধান অতিথি আল্লামা অধ্যক্ষ ছৈয়্যদ মুহাম্মদ মুনির উল্লাহ্ আহমদী আরও বলেন, গাউছুল আজম (রা.) এর চরণে বৃক্ষ-তরুলতা পর্যন্ত ঝুঁকে পড়েছে। বেছাল শরীফের পূর্বে তাঁরই প্রতিষ্ঠিত সংগঠন মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটির মনোগ্রাম বিভিন্ন বৃক্ষ-তরুলতায় অলৌকিকভাবে অংকিত হয়ে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের ও কবুলিয়ত যেমন প্রকাশ পেয়েছে, তেমনি বেছাল শরীফের পরে এসে তাঁর রওজার ওপর পেয়ারা গাছটি যেন অবনত মস্তকে তাঁর চরণে ঢলে পড়ে তাঁর হক্কানিয়াতের সাক্ষ্য বহন করছে। এছাড়া সকলের সম্মুখে রাতের শেষভাগে তাঁর রওজার গম্বুজ, মসজিদের গম্বুজ ও হুজরা শরীফের ওপর দিয়ে বয়ে চলে অলৌকিক অপরূপ নূরের খেলা।
আল্লামা ছৈয়্যদ মুহাম্মদ মুনির উল্লাহ্ আহমদী যুব সমাজের উদ্দেশে বলেন, কাগতিয়ার গাউছুল আজম (রাঃ) এর দৈনন্দিন জীবন-কর্ম, তরিক্বত, আদর্শ ও দর্শন অনুসরণ-অনুকরণ করলে একজন সাধারণ যুবক-যুবতী, শিক্ষার্থীর জীবনে আসবে আমূল পরিবর্তন। তারা কোরআন-সুন্নাহর পরিপূর্ণ আমলের দিকে ধাবিত হয়ে সততা, সৎচিন্তা-চেতনা ও সাফল্যে ভরে ওঠবে তাদের গোটা জীবন।
অতিথিবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বংলাদেশ জমিয়াতুল মোদারের্ছীনের মহাসচিব অধ্যক্ষ আল্লামা শাব্বির আহমদ মোমতাজী, রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান এহছানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি ড. মো. আবুল মনছুর, আরবি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ড. এস এম রফিকুল আলম, ইসলামী স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ এনামুল হক মোজাদ্দেদী, চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট কম্পিউটার চিফ ইন্সট্রাক্টর মোহাম্মদ আব্দুস সালাম, গাছবাড়ীয়া সরকারি কলেজ ইংরেজি বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ কামরুল হাসান, এলবিয়ন ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের ব্যবস’াপনা পরিচালক মো. নেজাম উদ্দিন ও এলবিয়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. রাইসুল উদ্দিন সৈকত।
আল্লামা শাব্বির আহমদ মোমতাজী বলেন, মুনিরীয়া যুব তবলীগের প্রতিষ্ঠাতা গাউছুল আজম (রা.) ছিলেন মুসলিম জাহানের অহংকার। তাঁকে হারিয়ে দেশ, জাতি তথা মুসলিম মিলাতের যে ক্ষতি হয়েছে তা কখনো পূরণ হবে না।
অধ্যাপক মুহাম্মদ ফোরকান মিয়া বলেন, প্রিয় রাসুলের সকল আদর্শে আদর্শবান কিংবদন্তীতুল্য পুরুষ গাউছুল আজম (রা.) ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান। যাঁর কাছ থেকে একজন যুবক পেয়েছে ব্যক্তিচরিত্রের সংশোধনে আত্মশুদ্ধির প্রেরণা, মা-বাবা পেয়েছে তাদের বিপথগামী সন্তানকে পরিশীলিত, সমাজ পেয়েছে এক ঝাঁক আলোকিত যুবক।
রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান এহছানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল বলেন, আজ রাউজান, ফটিকছড়িতে যুবকদের মাঝে যে শান্তি ও শৃঙ্খলা বিরাজ করছে এর নেপথ্যে প্রধান ভূমিকা রেখেছিলেন কাগতিয়ার গাউছুল আজম (রা.)। এ মনীষীর কাছে শুধু রাউজান নয়, সমগ্র দেশ ও জাতি আজীবন ঋণী থাকবে।
অধ্যক্ষ আ.খ.ম. আবু বক্কর ছিদ্দিক বলেন, যেখানে দেশের অধিকাংশ যুবক অশ্লীলতা, উগ্রতা-সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদ সহ ইভটিজিং এর মতো ঘৃণিত অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ছে সেখানে আজকের কনফারেন্সে মুনিরীয়া যুব তবলীগের সাথে সম্পৃক্ত হাজার হাজার যুবক কর্মীর উপসি’তি আমাকে মুগ্ধ করেছে।
কনফারেন্সে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আল্লামা মুফতি মুহাম্মদ ইব্রাহীম হানফি, আল্লামা মুফতি আনোয়ারুল আলম ছিদ্দিকি, আল্লামা মোহাম্মদ আশেকুর রহমান, আল্লামা এমদাদুল হক মুনিরী, আল্লামা মুহাম্মদ সেকান্দর আলী ও আল্লামা মুহাম্মদ মুহাম্মদ ফোরকান।
মিলাদ ও কিয়াম শেষে প্রধান অতিথি দেশ, জাতি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মুনাজাত করেন। বিজ্ঞপ্তি

  1. গাউছুল আজমের একটা কেরামতও আমজনতা দেখলনা নিজস্ব প্রচারক এজেন্টরা ছাড়া তারাও যে কেরামতগুলো প্রচার করে তা লাড্ডুম (আঞ্চলিক ভাষায়) গাছের পাতা ও পেয়ারা গাছের মধ্যে সীমাবদ্ধ কেন ? গাউছুল আজম কত বড় বিষয় তার পরিধি কতটুকু তা এরা কখন বুঝবে? যাকে একটা থানার সব লোক চিনেনা মানেনা তাকে যদি কেউ সারা দুনিয়ার জন্য গাউছুল আজম বলে প্রচার করে তবে সেটাকে ভন্ডামী বলাইটা যথাযথ…

আপনার মন্তব্য লিখুন