প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ ভেস্তে যাচ্ছে

রামগড়ে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচিতে নিয়োগে অনিয়ম

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি

জেলার রামগড় উপজেলায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কর্র্তৃক বাস্তবায়িত ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচিতে নিয়োগে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে ‘ঘরে ঘরে চাকুরী’ কর্মসূচিবাস্তবায়নের আলোকে বর্তমান সরকার চালু করেছিল ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি। সেই হিসেবে এই প্রকল্পের আওতায় অস্থায়ী কর্মসংস্থানের জন্য রামগড় উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ২শ জন বেকার যুব ও যুবমহিলাকে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করে। নিয়োগের ক্ষেত্রে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনের নির্দিষ্ট কিছু শর্ত দিয়েছিল। নিয়োগদানের ক্ষেত্রে ওই সকল শর্ত মেনে নিয়োগদানের কথা থাকলেও তা মানেনি রামগড় উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা। ফলে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগ ভেস্তে যাচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রামগড় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে বর্তমানে চাকরিরত অফিস সহায়ক জয়নাল আবেদীন (গাইবান্ধা জেলার বাসিন্দা) নিয়োগ পান ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচিতে। তিনি পার্বত্য অঞ্চলে নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগের শর্ত মোতাবেক জেলা প্রশাসক কর্তৃক প্রদত্ত স্থায়ী বাসিন্দা সনদ উপস্থাপনের কথা থাকলেও জয়নাল আবেদীনের ক্ষেত্রে মানা হয়নি সেই শর্ত। নিয়ম বহির্ভূতভাবেই তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তার নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখতে চাইলে দেখাতে পারেননি উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আবুল বাশার পাটোয়ারী।
এছাড়া ন্যাশনাল সার্ভিসে নিয়োগপ্রাপ্ত আরও অনেকে রয়েছেন যারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এবং অনেকেই নিজের প্রতিষ্ঠান নিয়ে ব্যবসায় পরিচালনা করে আসছেন। এর মধ্যে জাকির হোসেন ভূঁইয়া রামগড় হর্টিকালচার সেন্টারে কর্মরত, নুর হোসাইন সিভিল ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে বর্তমানে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত, নির্মল ত্রিপুরা রামগড় সরকারি ডিগ্রী কলেজে কর্মরত, কাউছার হাবিব (পবন) বর্তমানে দেশের বাহিরে অবস্থানরত, ইমরান হোসেন ব্র্যাকে কর্মরত, বিদ্যুৎ চন্দ্র দেবনাথ মোবাইল লোডের দোকানদার। তদন্ত করলে থলের বিড়াল আরো মিউ করবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আবুল বাশার পাটোয়ারী প্রধানমন্ত্রীর এমন একটি বিশেষ উদ্যোগকে হাস্যকরভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করে বলেন, ধানের ভিতর চিটা থাকবেই, এগুলো কোনো ব্যাপার না।
এসব অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল মামুন মিয়া বলেন, নিয়ম বহির্ভূত কোনো লোক এই প্রজেক্টে ঢুকে থাকলে তাকে অভিযোগের ভিত্তিতে বাদ দেওয়া হবে।