রাফসানজানির শেষ বিদায়ে জনতার ঢল

সুপ্রভাত ডেস্ক

ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আলি আকবর হাশেমি রাফসানজানিকে শেষ বিদায় জানাতে রাজধানী তেহরানে তার শেষকৃত্যে দলে দলে যোগ দিয়েছে মানুষ। হৃদরোগে আক্রান্ত রাফসানজানি গত রোববার তেহরানের হাসপাতালে ৮২ বছর বয়সে মারা যান। তাকে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির পাশে সমাহিত করা হয়েছে। খোমেনি ১৯৭৯ সালে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
অন্যদিকে, ১৯৮০’র দশক থেকে ইরানের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন রাফসানজানি। ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার বাস্তববাদী নীতিমালা, অর্থনৈতিক উদারীকরণ, পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সুসম্পর্ক এবং ইরানের নির্বাচিত পরিষদগুলোর ক্ষমতায়ন অনেক ইরানির কাছেই সমাদৃত হয়েছে। আবার কট্টরপনি’রা একে বাঁকা চোখেও দেখেছে। কিন’ মঙ্গলবার রাফসানজানির শেষকৃত্যে তার সমর্থক ও বিরোধীরা সবাই একসঙ্গে যোগ দিয়ে তাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে একতার পরিচয় দিয়েছে। রাফসানজানির শেষকৃত্য অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। তার সঙ্গে রাফসানজানির কফিনের সামনে হাটু গেড়ে বসে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ইরানিরা। পাশেই রাখা রাফসানজানির সাদা পাগড়ি ছুঁয়েও শোক করেন কেউ কেউ। তেহরান বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের চারপাশের রাস্তায় অগনিত শোকার্ত মানুষের ঢল দেখা গেছে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে। রাফসানজানি ছিলেন ইরানের ইসলামিক বিপ্লবের স্তম্ভ। তার মৃত্যুতে ‘ইসলাম মূল্যবান সম্পদ হারাল’ বলে মন্তব্য করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। বিশ্বব্যাপী অন্যান্য দেশগুলো থেকেও রাফসানজানির প্রতি শ্রদ্ধা ও শোক বার্তা এসেছে।
ইরানে যারা রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির দাবি তুলেছিলেন এবং সংবিধানের আওতায় কাজ করা দলগুলোর আরও রাজনৈতিক স্বাধীনতার পক্ষে সোচ্চার হয়েছিলেন রাফসানজানি ছিলেন তাদেরই একজন।

আপনার মন্তব্য লিখুন