রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে না

সুপ্রভাত ডেস্ক

এবার সংশোধিত বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা আগের চেয়ে ২৫ থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা কমার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ‘এই (২০১৭-১৮) অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৪০ শতাংশ বেশি ধরা হয়েছিল। এটি অর্জন করা সম্ভব হবে না।’
গতকাল সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বৃহৎ করদাতা ইউনিটে (এলটিইউ) রাজস্ব হালখাতা ও বৈশাখী উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভাশেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। খবর বাংলা ট্রিবিউন এর।
মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘এই অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৩ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি থাকবে। সংশোধিত বাজেটে এ লক্ষ্যমাত্রা কমানো হবে।’

প্রসঙ্গত, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এনবিআরের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল দুই লাখ ৪৮ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। মার্চ পর্যন্ত আদায় হয়েছে এক লাখ ৪৪ হাজার ৩১১ কোটি ২৮ লাখ টাকা। অর্থবছরের ৯ মাসে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার সাত কোটি ৭০ লাখ টাকা। মার্চ পর্যন্ত রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১৪ শতাংশ, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সাত শতাংশ কম।
মতবিনিময় সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘রাজস্ব হালখাতায় ৪০৩ কোটি ১৬ লাখ টাকার বকেয়া আয়কর আদায় হয়েছে। ভ্যাটের হিসাবটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে এটি প্রায় ৩০০ কোটি টাকা হতে পারে। আর কাস্টমসে তা ২০০ থেকে ৩০০ কোটি টাকা হবে।’
মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘বৃহৎ করদাতা ইউনিটের (এলটিইউ) আয়কর শাখা হালখাতায় ৬৫ কোটি টাকার বকেয়া কর আদায় করেছে। ভ্যাট আদায় এখনও প্রত্যাশার তুলনায় কম হয়েছে। করের আওতা বাড়ানোর লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। উৎসে করের মনিটরিং আরও বাড়ানো হবে।’
সভায় স্বাস’্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালিক বলেন, ‘এনবিআরে তথ্য প্রযুক্তি তথা আইটির যত প্রয়োগ হবে, রাজস্ব সংগ্রহ তত বাড়বে। দেশে স্বচ্ছতা বাড়বে, দুর্নীতি কমবে।’ এনবিআরের নীতি আরও সহজ ও করবান্ধব করা দরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মাত্র ৩৫ লাখ লোক আয়কর নিবন্ধিত। ১৬ কোটি মানুষের দেশে এটা অন্তত ১ কোটি হওয়া উচিত। মাত্র ১৫ লাখ লোক আয়কর দেয়, এটা বাড়ানো দরকার।