দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভা

রাজনীতির ইতিহাসে বর্বরোচিত ও কলঙ্কিত দিন ২১ আগস্ট

দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত গ্রেনেড হামলা দিবসের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন ড. অনুপম সেন
দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত গ্রেনেড হামলা দিবসের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন ড. অনুপম সেন

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা সংগঠনের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংগঠনের আন্দকিল্লা কার্যালয়ে সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য বিশিষ্ট সমাজ বিজ্ঞানী ড. অনুপম সেন।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক প্রদীপ দাশের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম চৌধুরী, সংসদ সদস্য ওয়াসিকা আয়েশা খান, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, আবুল কালাম চৌধুরী, মো. ইদ্রিস, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট জহির উদ্দিন, শ্রম সম্পাদক খোরশদ আলম, আবু জাফর, বোরহান উদ্দিন এমরান, ডা. তিমির বরণ চৌধুরী, নুরুল আবছার চৌধুরী, গোলাম ফারুক ডলার, বিজয় কুমার বড়ুয়া, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য চেয়ারম্যান নাছির আহমদ, আনোয়ারুল ইসলাম খান সওকত, চেয়ারম্যান মো. মুছা, এস এম ছালেহ, মাহবুবুর রহমান সিবলী, আবু আহমদ জুনু, আবু সৈয়দ, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগ সভাপতি আ ম ম টিপু সুলতান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক পার্থ সারথী চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শামীমা হারুন লুবনা, আতিকুর রহমান চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার আবুল কাশেম, মোয়াজ্জেম হোসেন বাদল, কেন্দ্রীয় যুবলীগ সদস্য জাহেদুর রহমান সোহেল, নুর নাহার জালাল, জান্নাত আরা মঞ্জু, অ্যাডভোকেট পাপড়ী সুলতানা, কৃষ্ণা দাশ, সঞ্চিতা বড়ুয়া, জীবন আরা বেগম, তামান্না সুলতানা, জান্নাতুল ফেরদৌস জান্নাত, জাহানারা সিদ্দিকী, অধ্যাপক ফাহমিদা বিনতে আজিজ, নাসরিন সুলতানা, নিলুফার জাহান বেবী, জেসমিন আক্তার, কিষন বড়ুয়া, শফিউল আজম শেফু, শহিদুল ইসলাম, রাজিন দাশ রাহুল, এস এম বোরহান উদ্দিন, রাশেদুল আরেফিন জিসান, মিজানুর রহমান, আবদুল মোনাফ, খোরশেদ আলম ইমতিয়াজ, তারেকুর রহমান, মো. মহিউদ্দিন, কে এম পারভেজ, কাজী ওয়াশিম, আবু বকর জীবন, আবদুল্লাহ আল মামুন, দিদারুল আলম, বাবলা দাশ, মোহাম্মদ আলী, মো. শওকত, মোহাম্মদ জিল্লু, মো. আজিজ প্রমুখ।
প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য বিশিষ্ট সমাজ বিজ্ঞানী ড. অনুপম সেন বলেন, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা ছিল তৎকালীন জামাত-বিএনপি সরকারের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অংশ। বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনীতির ইতিহাসে বর্বরোচিত ও কলঙ্কিত দিন ২১ আগস্ট। হামলার মূল টার্গেট ছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী (তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী) শেখ হাসিনা। সেদিন আমাদের কয়েক শ’ নেতা-কর্মী ও সমর্থক আহত হন। এই হামলার শিকার বহু লোক এখনও শরীরে ক্ষতচিহ্ন বয়ে বেড়াচ্ছেন। হামলায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেলেও তাঁর শ্রবণেন্দ্রীয় গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তিনি বলেন, ১৯৭৫ থেকে ২০০৪ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি হত্যাকাণ্ড হয়েছে, এসব হত্যাকাণ্ড শুধু হত্যাকাণ্ড নয়, একটা জাতির আদর্শকে, স্বপ্নকে হত্যা করা। বাঙালি জাতিকে মেধাহীন করা এবং রাজনৈতিক শূন্যতা সৃষ্টি করা। যাতে অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র থেকে পাকিস্তানি ভাবধারায় ধর্মান্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করা। এজন্যই বঙ্গবন্ধু এবং জাতীয় চার নেতাকে হত্যার পর তারা সর্বপ্রথম আঘাত হানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর।
সভায় দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘১৯৭১ সালে পাকিস্তানিরা মহান মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির উপর গণহত্যা চালিয়েছিল, তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট নির্মম নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল। আর ২০০৪ সালের ২১ আগস্টে গ্রেনেড হামলায় হত্যাকাণ্ড ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের ধারাবাহিকতার অংশ। জামায়াত-বিএনপি সরকারের মদদপুষ্ট হায়নারা শেখ হাসিনাকে হত্যা করার জন্য একের পর এক গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল।’ তিনি জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি সমৃদ্ধ, অসাম্প্রদায়িক দেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান। বিজ্ঞপ্তি