রাজনীতিক ও ব্যবসায়ী

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

মহিউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে আমার পরিচয় হয় ’৬০ এর দশকে। আমি ৬০ সালে মেট্রিক পাশ করি। তারপর কমার্স কলেজে ভর্তি হই। তখন আমি, সাবেক এমএনএ আবু সালেহ, আমাদের এক বছরের সিনিয়র ছিলেন, উনি এবং আমার বন্ধু প্রফেসর শায়েস্তা খান, অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ (মারা গেছেন) আমরা কয়েকজন ঘনিষ্ট ছিলাম। আমি রাজনীতির সাথে যুক্ত না হলেও নির্বাচনের সাথে যুক্ত হই ১৯৫৪ সালের নির্বাচন থেকে। ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে পুরোপুরি যুক্ত হই কলেজে ভর্তি হওয়ার পর থেকে। সে সময়ে মহিউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে পরিচয়। তখন সে বোধহয় পলিটেকনিক বা ও ধরনের কোথাও পড়তেন। সেখান থেকে পাশ করার পর সিটি কলেজে গেছেন। সে থেকে মহিউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে আমার পরিচয়। তখন ছাত্ররাজনীতির মূল জায়গা ছিল চট্টগ্রাম কলেজ। সব কলেজ থেকে আমরা চট্টগ্রাম কলেজে গিয়ে জড়ো হতাম। আমরা তখন সবাই ছিলাম কর্মী। আমাদের নেতা ছিলেন প্রয়াত মুবিদুল আলম, আবদুল মান্নান, আবু সালেহ, ফেরদৌস আহমদ কোরেশি। মহিউদ্দিন চৌধুরী সে সময় কর্মী থাকলেও ভীষণ সাহসী ছিল। যেটা সে মনে করতো সেটাই সে করে ফেলত। পরে সে জহুর আহমদ চৌধুরীর সঙ্গে ঘনিষ্ট হয়। জহুর আহমদ চৌধুরী তাকে ট্রেড ইউনিয়নের কিছু কিছু কাজের সাথে যুুক্ত করেছিলেন। মহিউদ্দিন চৌধুরীর বৈশিষ্ট্য হলো সে ছিল ভীষণ সাহসী। মৃত্যু হবে না বেঁচে থাকবে তা সে ভাবতো না। যেটা করার সেটা করবেই।
সে কিন’ অত্যন্ত ভদ্র ছিল। ব্যবহার ছিল অমায়িক। তার একটা কাজ খুব প্রশংসনীয় তা হলো বিজয় মেলা। যা পরবর্তীতে সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। তার সবচেয়ে বড় কাজ ছিল ১৯৯১ সালের এপ্রিলে যে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় হয়েছিল এবং তাতে লাখ লাখ মানুষ মারা পড়েছিল। সে সময় সে আর্ত মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করেছিল। নিজহাতে গোসল দিয়ে অনেক মানুষকে কবরস’ করেছিল সে। নিজে শত শত লাশ টেনেছে। যতদিন দাফন শেষ হয়নি ততদিন সে ওখানে ছিল। মুসলিম হলে লঙ্গরখানা খুলেছিল সে।
আসল জিনিস যেটা, আমি বলব দেশের স্বার্থে সে অনেক মহৎ একটি কাজ করেছে। ১৯৯৬-৯৭ সালে এসএসএস যখন ঘাঁটি করতে চেয়েছিল তখন সে তার প্রতিবাদ করে তা বন্ধ করেছিল। এরজন্য তাঁকে আমি অ্যাপ্রিসিয়েট করি।
মহিউদ্দিন যদি ব্যক্তিস্বার্থের জন্য করতো তাহলে বহু কিছু সে করতে পারত। অনেক টাকা সে আমেরিকা থেকে পেতো। কিন’ সে লোভ লালসা ত্যাগ করেছে মাতৃভূমির স্বার্থে। অনেকের রক্তচক্ষুকে সে উপেক্ষা করেছে। সে তার সিদ্ধান্তে অনড় ছিল।
আমার সাথে তার আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিল। আমি তার বয়সে বড় ছিলাম। সে কিন’ সিনিয়রদের খুব সম্মান করতো। ১৯৯৪ সালের মেয়র নির্বাচন থেকে তার জন্য কাজ করেছি। আমৃত্যু তার সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক ছিল।