রাঙ্গুনিয়ায় ১২ হাজার হেক্টর রোপা আমন পানির নিচে

শান্তি রঞ্জন চাকমা, রাঙ্গুনিয়া

টানা বৃষ্টিতে আবারও রাঙ্গুনিয়া জুড়ে বন্যা দেখা দিয়েছে। উপজেলার পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়নে রোপা আমন লক্ষ্যমাত্রা ১৫ হাজার হেক্টর। এরমধ্যে প্রায় ১২ হাজার হেক্টর রোপা আমন পানির নিচে রয়েছে। উত্তর চট্টগ্রামের শস্যভান্ডার খ্যাত গুমাইবিল প্রায় ৬ হাজার হেক্টর জমি পানির নিচে রয়েছে। গতকাল শনিবার কর্ণফুলী নদীর চন্দ্রঘোনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের ফেরি পারাপার বন্ধ রয়েছে। চন্দ্রঘোনা-বান্দরবান সড়কে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এছাড়াও বন্যার পানি দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় রাঙ্গুনিয়ার শত শত গ্রামের মানুষ শংকিত হয়ে পড়েছে।
কাপ্তাই-চট্টগ্রাম, রাঙামাটি-চট্টগ্রাম, চন্দ্রঘোনা-বান্দরবান, চৌমুহনী-রানীরহাট সড়কের কিছু কিছু এলাকায় পানি প্রবাহিত হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। কর্ণফুলী নদীর পানি বৃদ্ধিতে কোদালা, শিলক, সরফভাটা, বেতাগী, পোমরা, চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ আতংকে রয়েছে। টানা বৃষ্টি ও পার্বত্য এলাকার পাহাড়ি ঢলের পানি ইছামতি খাল দিয়ে অতিরিক্ত পানি কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে। পানির স্রোত বেশি থাকায় পারুয়া, রাজানগর, ইসলামপুর, দক্ষিণ রাজানগর, লালানগর, হোছনবাদ, স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া, পৌরসভার কয়েক একর জমি বিলীন হয়ে গেছে।
উপজেলার চন্দ্রঘোনা, হোছনাবাদ, মরিয়মনগর, স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়ন নিয়ে ৬ হাজার হেক্টর নিয়ে গুমাইবিল এলাকা। গুমাইবিলে প্রায় ৫ হাজার কৃষক চাষাবাদ করেন। গুমাইবিলে কৃষকরা ৫০% আমন রোপা চাষ শেষ করেছে। আরো ২০% জমিতে চাষ হবে। বাকী ৩০% জমি অনাবাদি থাকবে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। গুমাইবিল চন্দ্রঘোনা ব্লকের কৃষক মোহাম্মদ ফোরকান চাষি বলেন, চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়নে চলতি রোপা আমন মৌসুমে প্রায় ২ হাজার কৃষক কোটি কোটি টাকা খরচ করে চাষাবাদ করেছেন। গত দু’দিনের বৃষ্টিতে গুমাইবিলের ৪-৫ ফুট পানির নিচে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। ৩ একর জমিতে আমনের চাষ করেছি। প্রতি ৪০ শতক জমিতে খরচ পড়েছে ৫-৬ হাজার টাকা। এক সপ্তাহের মধ্যে পানি সরে না গেলে রোপা আমনের ক্ষতি হবে।
কৃষকরা জানান, কাপ্তাই লেকের ১৬টি স্প্রিলওয়ে দিয়ে পানি অতিমাত্রায় ছাড়া হলে বন্যার পানি দ্রুত নামতে পারবে না। রোপা আমন রক্ষায় কৃষকরা স্প্রিলওয়ে দিয়ে পানি না ছাড়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস’াপক জানান, কাপ্তাই বাঁধ রক্ষায় অতিরিক্ত পানি স্প্রিলওয়ে দিয়ে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে।