রাউজানে সড়কের হুমকি বালুবাহী ভারী যানবাহন

নিজস্ব প্রতিনিধি, রাউজান

রাউজান উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের হলদিয়া, বইজ্যার হাট, গর্জনিয়া, উত্তর সর্তা, এলাকায় সর্তা খাল থেকে পাম্প বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন হচ্ছে অর্ধ শতাধিক স্পটে। একইভাবে হলদিয়া ইউনিয়নের বৃকবানুপুর, বন্দাবনপুর, জানিপাথর এলাকায় ডাবুয়া খাল থেকে পাওয়ার পাম্প বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হছে। এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা কোন প্রকার ইজারা না নিয়ে সর্তা খাল ও ডাবুয়া খাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে দীর্ঘদিন। সর্তা খাল থেকে বালু উত্তোলন করার ফলে হলদিয়া বইজ্যার হাট এলাকায় সড়ক ও বসতভিটা খালের ভাঙনের মুখে। গত বছর বর্ষায় পাহাড়ি ঢলে দুইজানের মৃত্যু হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, হলদিয়া ভিলেজ রোড, হজরত আলী হোসেন শাহ সড়কসহ আড়াই শতাধিক পরিবারের বসতঘর। একইভাবে পাম্প দিয়ে উত্তর আইলীখীল সড়কের ব্রিজের নিচ থেকে বালু উত্তোলনের ফলে গত বর্ষার মৌসুমে ব্রিজটি ধসে যায়। রাউজানের হলদিয়া ভিলেজ রোডে প্রতিদিন বালু ভর্তি ভারি ট্রাক ও জিপ চলাচল করে। ফলে সড়কটি এরইমধ্যে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এলাকার লোকজন জানায়, হলদিয়া ইউনিয়নের গর্জনিয়া, উত্তর সর্তা, বইজ্যার হাট, হচ্ছার ঘাট এলাকায় পাওয়ার পাম্প বসিয়ে এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সিন্ডিকেট করে সর্তার খাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। বালু ভর্তি ভারি যানবাহন সড়ক দিয়ে চলাচল করায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতে স’ানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর দফায় দফায় সড়কের সংস্কারকাজ করলেও পুনরায় তা চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কে গর্ত সৃষ্টি হয়ে বৃষ্টির পানি জমে এলাকার বাসিন্দা ও স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ হচ্ছে। উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি জোনায়েদ কবির সোহাগ বলেন, রাউজানে কর্ণফুলী নদীতে নোয়াপাড়া কচুখাইন এলাকায় একটি বালু মহাল ইজারা দেওয়া হয়েছে। হালদা নদী, সর্তা খাল, ডবিুয়া খাল, খাসখালী খাল, রাউজান খাল, মুখছড়ি খাল, মঙ্গলছড়ি খাল, ফটিকছড়ি খাল, কর্ণফুলী নদীর আর কোথাও বালু মহাল ইজারা দেওয়া হয়নি। সর্তা খালসহ অন্যান্য খাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে রাউজান উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম হোসেন রেজাসহ একাধিবার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে আবারো অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে তিনি জানান।