রাউজানে প্রকাশ্যে চলছে পলিব্যাগ বিক্রি দূষিত হচ্ছে পরিবেশ

শফিউল আলম, রাউজান

রাউজানে প্রশাসনের নাকের ডগায় চলছে পলিথিন ব্যাগ বিক্রি। ছোটবড় সব বাজারে লোকালয়ের দোকানপাটসহ অলিগলিতে হাত বাড়ালেই মিলছে নিষিদ্ধঘোষিত, পরিবেশ দূষণকারী পলিথিন। প্রশাসনের কঠোর নজররদারি না থাকার ফলে নিষিদ্ধ এই পলিথিন সবধরনের পণ্যবহনে হাতে হাতে ব্যবহার করা হচ্ছে। যা ব্যবহারে মারাত্মকভাবে মানুষ ও পরিবেশের ক্ষতিসাধন করলেও পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মর্কতারা কুম্ভকর্ণের মত থাকায় এই অবস’ার সৃষ্টি হচ্ছে। এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী নিষেধাজ্ঞার নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে পলিব্যাগ উৎপাদন করে দেদারসে বাজারজাত করে যাচ্ছে। সেখান থেকে এনে ব্যবসায়ীরা প্রকাশ্যে দোকান দিয়ে বসেছে। পুলিশ প্রশাসনের সামনে দক্ষিণ রাউজানের প্রাণকেন্দ্র নোয়াপাড়া পথের হাটে সবজি মার্কেটের পাশে এস এম শপিং সেন্টারের শুভ এন্টারপ্রাইজ, খায়েজ শপিং সেণ্টারের আর্দশ স্টোর, শুঁটকির দোকান, মাছের দোকানের পাশে, পাইনিয়র হাসপাতালের নিচে এক ব্যক্তি ভ্রাম্যমাণভাবে প্রকাশ্যে পলিথিন ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। রাউজান উপজেলার প্রসাশনের নজরদারির অভাবে এসব পলিব্যাগ ১৪ টি ইউনিয়নের বাজারগুলোতে সহজে ছড়িয়ে পড়ছে। পরিবেশের বির্পযয় ঘটানো নিষিদ্ধ এই পলিথিন হাতের নাগালে পাওয়ার কারণে পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যাগের ব্যবহার বাড়ছে না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে, যেমন সিমেণ্ট-সারসহ ১৪টি পণ্যে পলিব্যগ ব্যবহারের অনুমোদন থাকলেও এসবের বাইরে ভয়ানকভাবে বাড়ছে পলিথিনের ব্যবহার। বাংলাদেশে ১৯৮২ সালে প্রথম পলিথিন ব্যাগের বাজারজাত ও ব্যবহার শুরু হয়। এটি সহজে পরিবহন ও স্বল্পমূল্যে পাওয়ার কারণে অল্পসময়ে মানুষের হাতে হাতে পৌঁছে যায়। কিন’ ব্যবহারের পর এটি যত্রতত্র ফেলে দেওয়ার কারণে পরিবেশের মারাত্মক বির্পযয় ঘটায়। এটি ক্ষতিকারক পণ্য হিসেবে চিহ্ণিত হয়। এই ক্ষতিকারক পলিথিন বন্ধ করার লক্ষে ২০০২ সালে পলিথিন ব্যাগ উৎপাদন, আমদানি, বাজারজাত, ক্রয়-বিক্রয়, প্রর্দশন, মজুত ও বিতরণ নিষিদ্ধ করা হয়। এ বিষয়ে আইন করা হলেও আইনের যথাযখ প্রযোগ না হওযায় পণ্যটি নিষিদ্ধের পরও অবাধ ব্যবহার অব্যাহত থাকে। সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক বছরে ৬৪টি অবৈধ পলিথিন উৎপাদন কারখানা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমেও বিভিন্ন সময় অবৈধ পলিথিন জব্দ ও জরিমানা করা হয়। এ প্রসংগে সচেতনমহলের অভিমত, আইন আর জনসচেতনতা যাই বলুন, কাজে আসবে না। যতক্ষণ না সংশ্লিষ্টরা পলিথিন ব্যাগ বন্ধে যথাযথ ব্যবস’া গ্রহণ করবেন না।

আপনার মন্তব্য লিখুন