রাউজানে নৌকা ধানের শীষ ও জগ প্রতীকের প্রচারণা জমজমাট

শফিউল আলম, রাউজান

রাউজান পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থী দেবাশীষ পালিত, বিএনপির প্রার্থী আবদুল্লাহ আল হাসান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম চৌধুরী রানার সাথে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে এলাকায় গুঞ্জন চলছে। দেবাশীষ পালিত নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
আবদুল্লাহ আল আল-হাসান ধানের শীষ প্রতীক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম চৌধুরী রানা জগ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন। নৌকার দেবাশীষ, বিএনপির হাসান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রানার সাথে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে এলাকায় ঘুরে ধারণা পাওয়া গেছে।
দেবাশীষ পালিত নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রচারনা চালালেও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন ছাড়া জেলা ও স’ানীয় আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মী তার পক্ষে প্রচারণায় নেই। অপর দিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম চৌধুরী রানা জগ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পূর্বে আওয়ামী লীগের সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী রানার জগ প্রতীকের পক্ষে রাউজান পৌর এলাকার ৯টি ওয়ার্ডের শত শত তরুণ-যুবক মাঠে নেমেছে। আবদুল্লাহ আল-হাসানেরন ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে শুধু একদিন কিছু সময়ের জন্য বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা গোলাম আকবর খোন্দকারসহ বিএনপি কিছু নেতাকর্মী গণসংযোগ করেন। পৌর এলাকার বিভিন্ন স’ানে ঘুরে, এলাকার ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এবার তারা যোগ্য ও সৎ প্রার্থীকে মেয়র নির্বাচিত করবেন।
গহিরার বাসিন্দা গৃহিণী রোকেয়া বেগম জানান, গতবার কাজী আবদুল্লাহ আল-হাসানকে মেয়র বানিয়ে পৌর এলাকার মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এবার যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিয়ে মেয়র বানাবো। ঢেউয়া পাড়া এলাকার বাসিন্দা নুরুল আলম জানান, অতীতে কাজী আবদুল্লাহ আল-হাসান ও দেবাশীষ পালিতকে মেয়র বানিয়েছিলাম, এবার তরুণ স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম চৌধুরী রানাকে মেয়র হিসেবে চাই
সাইফুল ইসলাম চৌধুরীর সাথে নির্বাচনী প্রচারণায় আওয়ামী লীগের কোনো দলীয় নেতাকর্মী বহিষ্কার হওয়ার ভয়ে না থাকলেও প্রতিদিন এলাকার শত শত তরুণ-যুবক তার জগ মার্কায় ভোট চেয়ে প্রচরণা চালাচ্ছে। তারা প্রতিটি ওয়ার্ড ও অলিগলিতে সাইফুল ইসলাম চৌধুরীকে নিয়ে প্রচরণা চালানোর ফলে এলাকা মুখর হয়ে উঠেছে।
আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী দেবাশীষ পালিত পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে সকাল থেকে সারদিন নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়ে গণসংযোগ করছেন। পালিত বলেন, নৌকা প্রতীকের পক্ষে মানুষ জেগে উঠেছে। ৩০ ডিসেম্বর নৌকা প্রতীকের বিজয় হবেই।
বিএনপির প্রার্থী কাজী আবদুল্লাহ আল হাসান ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে বিভিন্ন স’ানে গণসংযোগ করছেন। তিনি বলেন, ভোটারদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হলে আবারো আমি মেয়র নির্বাচিত হবো। স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী মীর মনসুর আলম মেবাইল ফোন প্রতীকে ভোট চেয়ে বিভিন্ন স’ানে গণসংযোগ করে যাচ্ছেন। নির্বাচন যত কাছে আসছে, প্রচারণাও জোরেশোরে চালিয়ে যাচ্ছেন চার মেয়র প্রার্থী। ব্যানার ফেস্টুন, পোস্টারে ছেয়ে গেছে পৌর এলাকা ।
নির্বাহী অফিসার ও রিটার্নিং অফিসার কুলপ্রদীপ চাকমা জানান, প্রার্থীরা আচরণবিধি ভঙ্গ করলে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস’া গ্রহণ করবে।
এই নির্বাচনে ১৯টি ভোটকেন্দ্রে ৩০ ডিসেম্বর ৪৫ হাজার ৯৪জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। রিটার্নিং অফিসার কুলপ্রদীপ চাকমা জানান, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সকল প্রকার প্রস’তি নেয়া হয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন