রহস্যময়

উৎপলকান্তি বড়ুয়া
Untitled-1

আমাদের বন্ধু রনজন। বাড়ি আমাদের পাড়াতেই। একসাথে ঘুরে বেড়াই। একসাথে খেলি। একই মাঠে। পড়ি ক্লাস সিক্সে একই ইশকুলে। এমন কি প্রাইভেটও পড়ি একই স্যারের কাছে।
গত দু’দিন ধরে রনজনের অসুখ। প্রচণ্ড গায়ে জ্বর। একশ চার ডিগ্রির উপর। ইশকুলে যাচ্ছে না তাই। একসাথে মাঠে খেলতে পারছে না আমাদের সাথে। ওর মা বলেছেন, ডাক্তার দেখিয়েছেন। ভাইরাস জ্বর। ওষুধ দিয়েছেন, সেরে যাবে। তবে পাঁচ-ছয়দিন সময় লাগবে।
সন্ধ্যায় খেলা শেষ। মাঠ থেকে সবাই একসাথে ফিরছি। আজ রনির বেগ ভলি করে গোল করার আলোচনাটা বেশ জমেছে। চমৎকার গোল। সবার মুখে রনির প্রশংসা।
রনজন কই যাস?
অই তো দিলুমামার দোকানে। সরিষার তেল আনতে। সামনের দিক থেকে আসতে থাকে রনজন। জনির প্রশ্নের জবাব দিতে দিতে তাদের পাশ কেটে চলে যায়।
রনজন? কোথায় রনজন? কাকে রনজন বলছিস? তপু আশ্চর্য হয়ে প্রশ্ন করে জনিকে।
কেনো, অই যে যায় রনজন। দিলুমামার দোকানে যাচ্ছে! জনি পেছন ফিরে অঙ্গুলি নির্দ্দেশ করে রনজনকে দেখানোর চেষ্টা করে। কিন্তু না। রনজনের ছায়াটুকুওতো নেই। গেলো কোথায়?
সাবু জনিকে উদ্দেশ করে সাথে সাথেই বলে,
কী বলছিস! রনজনের তো গায়ে জ্বর। সে এখানে আসবেও বা কোত্থেকে? তোর কি মাথা খারাপ হলো?
মাথা খারাপ বলছিস কি! রনজনকে আমিও তো দেখলাম, জনির কথার জবাব দিতে দিতে আমাদের পাশ কেটে চলে গেলো। রনির কথার সাথে সায় দিয়ে এবার মনু বললো,
হ্যাঁ তাইতো, রনজন এখনিই তো গেলো আমাদের সামনে দিয়ে। আমিও তো দেখেছি।
তপু ও সাবু একসাথে বলে ওঠে,
তোরা কী বলছিস বুঝতে পারছি না। রনজন এখানে আসবে কী করে। ওর তো গায়ে প্রচণ্ড জ্বর।
সাবু বললো, মাঠে খেলতে আসার সময়েই তো দেখে আসলাম তার গায়ে জ্বর। সাবু কিছুতেই বিশ্বাসে নিতে পারছে না জনির এ কথাকে।
রনজনই যদি হলো, তাহলে সে মুহূর্তে হাওয়া হয়ে গেলোও বা কোথায়?
তাই তো! তাই তো! বলে, মনু বলে ওঠে- কিন্তু হ্যাঁ রনজন সঙ্গে সঙ্গে হাওয়া হয়ে গেলো কোথায়?
জনি, সঙ্গে হাঁটতে থাকা সবাইকে হঠাৎ থামিয়ে দিয়ে বললো, শোন, কোনো দেরি নয়। চল তো, রনজনের বাসায় যাওয়া যাক, এক্ষুণি।
যেই বলা সেই কাজ। সবাই রনজনের বাসায় হাজির।
রনজন তার বিছানায় প্রচণ্ড জ্বরে কাতরাচ্ছে তখনও। তপু বললো, দেখ তোরা রনজন শুয়ে আছে খাটে। রনজন ছিলো না সেটা। তোদের ভুল ছিল।
রনজনের মা বললেন, রনজন জ্বরের বেগে কাতরাচ্ছে সেই থেকে। দুপুরের দিকে কমলেও বিকেল থেকে জ্বরের বেগ বেড়েছে আরো। রনজন বাইরে গেলো কিনা জানতে চাইলে রজনের মা আশ্চর্য হয়ে বললেন, কি বলছো বাবা তোমরা! তোমাদের কি মাথা খারাপ হয়েছে? জ্বরের বেগে ওর দু’চোখ খোলার উপায় নেই। সাথে সারা শরীরের প্রচণ্ড ব্যথা। আর সে যাবে বাইরে! তোমরা কেনো বলছো এ কথা বাবারা?
খানিকটা সামনে সরে এসে তপু, জনি, সাবু, রনি, মনু একসাথে হয়। সাবু বললো, কিছু বুঝলি? তা হলে রনজনের মতো ওটা কে ছিলো?
সবাই একসাথে দারুণরকম আশ্চর্য হয়ে বলে- তাইতো! একে অপরের মুখ চাওয়া চাওয়ি করে। সকলের ভেতরে ভেতরে একটা ভয়ের রেশ ছড়িয়ে পড়ে মুহূর্তেই।