রমযান, রোযা ও রোযাদার

মাহে রমযান একটি মাস, যাতে সারা বছরের বাধ্যতামূলক অনেক নেক আমল ছাড়াও আরো অনেক ইবাদত এ মাসভর সংযুক্ত হয়। যেমন-একমাসভর সারাদিনমান সিয়ামের কৃচ্ছ্রসাধন। ফরয রোযা শুধু এই মাসেরই প্রধান ইবাদত। এছাড়া হাদীসের পরিভাষায় ‘তাতাওউ’ তথা বাড়তি সুন্নাত হিসাবে তারাভীহ্র নামায, কদরের পবিত্র রাত, ই’তিকাফ, পবিত্র কুরআনের সবিশেষ চর্চা-এসবই এই মাসেরই মহিমাকে করে তুলেছে উচ্চকিত।
রমযান মুবারক মাসটির আছে স্বতন্ত্র ফযীলত ও মর্যাদা, এর বিশেষ ইবাদত রোযারও রয়েছে এন্তার মহিমা। আর এ বৈশিষ্ট্যের ইবাদত যারা পালন করে তাঁরাও হয়ে ওঠেন আলাদা মহিমায় সমুজ্জ্বল। নূর নবীজির নুরের বাণী হতে শিরোনাম বিষয়ে একটু আলো ছড়ানো যেতে পারে।
সর্বাধিক বর্ণনাকারী রা-ভী সায়্যিদুনা আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে
বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেন, যখন মাহে রমযানের আগমন হয়, তখন আসমানের মতান্তরে বেহেশতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়। আর জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। শয়তানদের শেকল পরানো হয়। (বুখারী ও মুসলিম) ইমাম আহমদ, তিরমিযী ও ইবনে মা-জাহ্্’র আনীত বর্ণনায় রয়েছে, যখন মাহে রমযানের প্রথম রাত উপসি’ত হয়, তখন উদ্ধত শয়তান জিনদের কয়েদখানায় বন্দি করা হয়। জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করা হয়, যেগুলো (মাসভর) আর খোলা হয় না। জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়, যা আর বন্ধ করা হয় না। এক আহ্বানকারী হাঁকতে থাকে, হে কল্যাণ সন্ধানী অগ্রবর্তী হও, হে অকল্যাণকামী ক্ষান্ত হও। কিছু লোক জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভ করে থাকে। এ প্রক্রিয়া প্রতি রাত অব্যাহত থাকে।
মাহে রমযান পেলে এ মাসভর বিশেষ একটি ইবাদত বাধ্যতামূলক হয়ে যায়, যা পালন করতে বয়ঃপ্রাপ্ত, সুস’ প্রতিটি মুমিন নর-নারী বাধ্য। অন্যথায় নিজ স্রষ্টা উপাস্যের অবাধ্য হওয়ার শামিল। সেটা হল রোযা। রোযার ফযীলত পূর্ববর্তী রমযানের মাস আগমনের সুসংবাদ সম্বলিত হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। রমযান আসলে জাহান্নামে তালা পড়ে যায়। রমযানের রোযার ফযীলত বান্দাকে গুনাহ্ থেকে পবিত্র করে, জাহান্নাম থেকে আযাদ করে দেয়। বস’ত রোযাদারকে জাহান্নাম থেকে রক্ষার সহায়ক শক্তি হয় রোযা। হযরত ওসমান বিন আবুল আ’স (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমি নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি। ইরশাদে নবভী হল, ‘রোযা জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার জন্য ঢালস্বরূপ’। (সুনানে নাসায়ী) যুদ্ধের ময়দানে ঢাল যেভাবে শত্রুর আক্রমণ থেকে যোদ্ধার জীবন রক্ষা করে, অনুরূপ রোযাও দোযখের আগুন থেকে রোযাদারকে বাঁচিয়ে রাখে। আবার নফস ও শয়তানের কুমন্ত্রণা আল্লাহ্র বান্দাকে দোযখের আগুনের খোরাক বানায়। রোযার হালতে রোযাদারের মনঃস্তাত্ত্বিক যুদ্ধে রোযার ভাবনাই তাকে নফস ও শয়তানের শিকার হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে।
ইবনে হিব্বান ও মুসনাদে আহমদ বর্ণিত সহীহ হাদীস থেকে জানা যায়, যখন মৃত ব্যক্তিকে কবরে রাখা হবে তখন তার ডান পাশে নিজের নামায এসে দাঁড়াবে। বাম দিক থেকে আসবে রোযা, শিয়রে আসবে কুরআন এবং পায়ের দিকে এসে যাবে সদকা।
রোযার কারণেই রোযাদার আল্লাহ্র কাছে এতই প্রিয় হয়ে ওঠে যে, কিয়ামতের দিন তাঁর মুখের গন্ধও আল্লাহর কাছে মুশকে আম্বরের চেয়েও পবিত্র বিবেচিত হবে। (সহীহ্ মুসলিম শরীফ) রোযাদারের জন্য বেহেশতে আলাদা প্রবেশদ্বার হবে, যার নাম ‘রাইয়ান’। এ দরজা রোযাদার ছাড়া আর কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। (প্রাগুক্ত) রোযাদারকে ইফতার করালে সমান সওয়াবে অন্যজন উপকৃত হতে পারে।।