রমজানে কাঁচাবাজার সবজিতে স্বস্তি, ক্রেতা হয়রানি মাছ-মাংসে

মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ

রমজানে ক্রেতা সাধারণের কাছে স্বস্তির খবর হয়ে এসেছে সবজির বাজারে। গত দুয়েক দিনের ব্যবধানে কাঁচা মরিচ থেকে শুরু করে শসা, বেগুন, টমেটো প্রভৃতি সবজির দাম কেজিতে সর্বনিম্ন ৫ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৩০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।
এ যেন গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহের মধ্যে এক পশলা স্বস্তির বৃষ্টি! তবে ঠিক এর উল্টো চিত্র রয়েছে মাছ-মাংসের বাজারে। জেলা প্রশাসন ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংগঠন কর্তৃক সবধরনের খাদ্য-পণ্যের দোকানে মূল্য-তালিকা টাঙানো বাধ্যবাধকতা করে দেওয়া হলেও অনেকেই বিশেষত মাছ-মাংসের বিক্রেতারা তা থোড়াই কেয়ার করছেন। তারা নানা কূট-কৌশলে এই সংযমের মাস রমজানেও ক্রেতাসাধারণের সাথে প্রতারণা করে যাচ্ছেন প্রকাশ্যে।
বহদ্দারহাট কাঁচা বাজারের প্রবেশমুখে অবসি’ত ২০-৩০টা মাংসের দোকান। গতকাল দোকানগুলোতে ঢুঁ মেরে দেখা যায়, শুরুর দুয়েকটা দোকানে মূল্য-তালিকা টাঙালেও বাকি কোন দোকানেই মূল্য-তালিকা দৃষ্টিগোচরে আসেনি। যারা মূল্য-তালিকা রাখছে তা কেবল লোকদেখানো এবং অকস্মাৎ ম্যাজিস্ট্রেটের উপসি’তিতে জরিমানার হাত থেকে বাঁচার জন্যই রেখেছে। কারণ তাদের বিক্রিত দামের সাথে মূল্য-তালিকার দামের কোন মিল নাই। তাদের টাঙানো মূল্য-তালিকায় গরুর মাংস (হাড়সহ), গরুর মাংস (হাড় ছাড়া) ও খাসির মাংস যথাক্রমে ৫৫০ টাকা, ৫৮০ টাকা ও ৬৫০ টাকা লেখা থাকলেও তারা বিক্রি করছে ৬০০ টাকা, ৬৫০ টাকা এবং ৭০০ টাকা। আবার কয়েকটি দোকানে মূল্য-তালিকার ঝুলানো বোর্ড দেখা গেলেও তা ছিল অন্যদিকে উল্টানো। এর কারণ কি জানতে চাইলে বিক্রেতার সহাস্য জবাব-‘বাতাসে উল্টে গেছে!’
বাজারের ভেতরের দিকে আরেকটি মাংসের দোকানে গিয়ে দেখা গেল, বিক্রেতা মাংস কুটে পানি ভর্তি বালতিতে চুবিয়ে রেখেছেন। বালতি থেকে মাংস তুলে তা কেজি দরে বিক্রি করছেন। কুটা মাংস পানিতে রাখার কারণ জানতে চাইলে বিক্রেতা বলেন, মাংসে ময়লা লাগছে, তাই সাফ করছেন।
ঘটনাস’লে উপসি’ত অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক বৃদ্ধ ছগির হোসেন বলেন, আদতে মাংসে ময়লা-টয়লা কিছু লাগেনি, এটা নিছক অজুহাত মাত্র। মাংস বিশেষত পানিতে রাখলে এর ওজন অনেকটা বেড়ে যায়। ওরা দিন-দুপুরে এভাবে ক্রেতাদের সাথে প্রতারণা করে। প্রতিবাদ জানালেও কোন লাভ হয় না।
সংশ্লিষ্ট অভিযোগের ব্যাপারে কথা হয় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রঞ্জন চন্দ্র দে’র সাথে। তিনি সুপ্রভাতকে বলেন, পুরো রমজান মাসই বাজার তদারকিতে তৎপর আছি। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আলাদাভাবে মাংসের বাজারে সন্ধান চালাব।
গতকাল বহদ্দারহাট, চকবাজার ও ষোলশহর কর্ণফুলী মার্কেটের কাঁচা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিকেজি কাঁচা মরিচ ৪০ টাকা, শসা ৩৫ টাকা, টমেটো ৩০ টাকা, কাকরোল ৪০ টাকা, বেগুন ৫০ টাকা, তিত কড়লা ৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪০ টাকা, পটল ৪০ টাকা, শিম ৪০ টাকা, ঢেড়স ৪০ টাকা, বরবটি ৪০ টাকা, দেশি লাউ ৩০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ২৫ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ২৫ টাকা, কচুর ছড়া ৪০ টাকা, ললিত আলু ১৮ টাকা এবং দেশি আলু ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়াও গতকাল বাজারে প্রতিকেজি ধনিয়া পাতা (দেশি) ৮০ টাকা এবং পুদিনা পাতা ২৫০-৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
বাজারে মাছের সরবরাহ আগের চেয়ে বাড়লেও দামে খুব একটা স্বস্তিভাব দেখা যায়নি। গতকাল বাজারে আকারভেদে রুই মাছ বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা, কাতলা ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, চিংড়ি আকার ভেদে ৪৮০ থেকে ৬০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা, পাঙ্গাস ১৫০ টাকা, মলা মাছ ১৫০ থেকে ২০০ টাকা, লইট্টা ১২০ থেকে ১৬০ টাকা, কই ৪০০ টাকা, কেচকি ২০০ টাকা, বাটা মাছ ৪৮০ টাকা, কোরাল ৪৬০-৫২০ টাকা, রূপচাঁদা (সাদা) ৯০০ টাকা, রূপচাঁদা (কালো) ৫০০ টাকা এবং ইলিশ প্রতিকেজি ১০০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
গতকাল বাজারে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১৫০ টাকা, সোনালি মুরগি (পাকিস্তানি) ৩০০ টাকা ও দেশি মুরগি ৪২০-৪৬০ টাকা বা ক্ষেত্র বিশেষে আরও বেশি দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে। বাজারে মুরগির মাংসের দাম চড়া থাকলেও রমজান শুরুর পর থেকে মুরগির ডিমের দাম ডজনে ১২-১৪ টাকা পর্যন্ত কমে গেছে। রমজান শুরুর আগে পাইকারিতে যেখানে মুরগির ডিমের ডজন ৮৪ টাকায় বিক্রি হত বর্তমানে তা ৬৫-৭০ টাকায় নেমে এসেছে। খুচরা বাজারেও বর্তমানে প্রতিজোড়া মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২-১৩ টাকা।