অমর একুশে বইমেলার দ্বিতীয় দিনে বক্তারা

রবীন্দ্রনাথ বাংলাভাষাকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরেছেন অন্য ব্যঞ্জনায়

নিজস্ব প্রতিবেদক

‘রবীন্দ্রনাথ বিশ্বসাহিত্যের এক উজ্জ্বল বিস্ময়। তিনি ভাষাকে সমৃদ্ধ করেছেন এবং একই সাথে সাহিত্যকেও সমৃদ্ধ করেছেন। এখানেই শেষ নয় তিনি ভাষা ও সাহিত্যকে বিশ্বসভায় তুলে ধরেছেন এক অনন্য ব্যঞ্জনায়।’
গতকাল অমর একুশে বইমেলার দ্বিতীয় দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দৈনিক পূর্বকোণের পরিচালনা সম্পাদক জসিম উদ্দিন চৌধুরী উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
গতকাল সোমবার বিকেলে নগরীর কাজীর দেউড়ি এম এ আজিম স্টেডিয়ামের জিমনেসিয়াম মাঠে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত অমর একুশে বইমেলার দ্বিতীয় দিনে ছিল রবীন্দ্রনাথকে ঘিরে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
ড. আনোয়ারা আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামসুদ্দোহা, অমর একুশে বইমেলার যুগ্ম আহ্বায়ক মহিউদ্দিন শাহ আলম নিপু, সাউদার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রকৌশলী আলী আশরাফ, নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামসুদ্দোহা বলেন, রবীন্দ্রনাথ বিশ্বসাহিত্যের এক সৃষ্টিশীল বিস্ময়। ফলে আমাদের মন বিকশিত হয় যখন আমরা রবীন্দ্র সাহিত্য পাঠ করি।
বইমেলার যুগ্ম আহ্বায়ক মহিউদ্দিন শাহ আলম নিপু বলেন, তরুণ প্রজন্মকে বইমুখী করে গড়ে তুলতে পারলে সমাজে অনেক পরিবর্তন আসবে। চট্টগ্রামে এবার সম্মিলিতভাবে একুশের বইমেলা হচ্ছে। বইয়ের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম ভবিষ্যত জাতি গঠনে ভূমিকা রাখবে।
অধ্যক্ষ ড. আনোয়ারা আলম বলেন, বৃহত্তর পরিসরে রবীন্দ্রনাথকে অনুধাবনের প্রয়াস রবীন্দ্র-চর্চায় অন্য এক মাত্রা যোগ করে। আর এর মধ্যদিয়ে রবীন্দ্রচর্চায় আমাদের তরুণ প্রজন্ম রবীন্দ্রজীবন ও সৃষ্টির মধ্য থেকে ইতিবাচক ভবিষ্যত গড়ার প্রেরণা খুঁজে পায়।
পুরো আলোচনা অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন সাহাবুদ্দিন মজুমদার। আলোচনা অনুষ্ঠানের পর মঞ্চে পরিবেশিত হয় রবীন্দ্র সংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্যানুষ্ঠান। এতে দলীয় সংগীত পরিবেশন করে সংগীত ভবন, একক সংগীত পরিবেশন করেন কাবেরী সেনগুপ্ত, শ্রেয়সী রায়, কান্তা দে, শীলা চৌধুরী। দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে ওডিসি অ্যান্ড টেগোর ডান্স মুভমেন্ট। একক আবৃত্তিতে অংশ নেয় রাশেদ হাসান, মিলি চৌধুরী, অঞ্চল চৌধুরী, আয়েশা হক শিমু ও মাহবুবুর রহমান মাহফুজ। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন সেজুতি দে।
গতকাল মেলায় ওয়াই ফাই কর্নার উদ্বোধন করা হয়।
উল্লেখ্য, উক্ত বইমেলায় ঢাকা ও চট্টগ্রামের নামকরা ১১০টি প্রকাশনা সংস’া মেলায় অংশ নিয়েছে। মেলার ওয়াই-ফাই জোন উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা। এছাড়াও ছয়টি বই এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
আজ বইমেলার তৃতীয় দিনে অনুষ্ঠান সূচির মধ্যে রয়েছে কাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য ড. মোহিত উল আলম। সভাপতিত্ব করবেন প্রফেসর মো. আইয়ুব ভূঁইয়া।
সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নজরুল সংগীত পরিবেশন করবে নজরুল শিল্পী সংস’া, আবৃত্তি ও দলীয় নৃত্য অনুষ্ঠান পরিবেশন করবে চারুতা নৃত্যকলা একাডেমি। এছাড়া রয়েছে আবৃত্তি অনুষ্ঠান।