রঙের দ্যুতি ছড়িয়ে গেল হৃদয়ে-হৃদয়ে

সিফায়াত উল্লাহ
Valentine-Day_crb-(1)

বাসন্তী রঙের শাড়ি আর খোঁপায় ফুল দিয়ে কাজির দেউড়ি সড়কের পাশ দিয়ে হাঁটছিলেন নুসরাত। ডান হাতে ছিল ভ্যানিটি ব্যাগ। বাম হাতটি ইমরানের মুঠোয়। বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয়েল শিক্ষার্থী নুসরাত। নগরীর আগ্রাবাদের বাসিন্দা। অন্যদিকে ইমরান পড়ছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। কলেজ লাইফে তাদের প্রেম। ছয় বছর পেরিয়েছে সম্পর্কের বয়স। ক্লাস-পরীক্ষার ব্যস্ততায় বর্তমানে দুজনে খুব একটা ঘুরতে পারেন না। তাই বলে ভালোবাসা দিবসেও মিস হবে; এমনটা মানতে নারাজ এই জুটি।
তারা বলেন, ভালোবাসা প্রতিদিন। তবে যেহেতু একটি দিনকে ঘিরে সবাই উৎসবের আমেজে মেতে উঠে। তাই প্রতিবছর ভালোবাসা দিবসের দিন আমরা দুজন একসঙ্গে ঘোরাঘুরি করি। সারাবছর একাডেমিক ব্যস্ততা থাকে। এজন্য এতে বেশি বেড়ানো সম্ভব হয় না। কিন’ আজকে বিশেষ দিন। তাই একসঙ্গে দিনটা কাটাচ্ছি। আমরা একে অপরকে উপহার দিয়েছি। এছাড়াও বিকেলের দিকে যাবো রেস্টুরেন্টে। আর খেয়ে ফিরবো
বাসায়। এ জুটির মতো গতকাল বুধবার নগরীর বিভিন্ন স’ানে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস ডে বা ভালোবাসা দিবস উদযাপন করেছেন অনেকেই। ঋতুরাজ বসন্তের দ্বিতীয় দিন প্রায় যুগলের পোশাকে ফুটে উঠেছে বসন্তের আবহ। উৎসবে আনন্দে তরুণ-তরুণীসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ দিনটি ভালোবাসার রঙে ছড়িয়ে দিয়েছেন। পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন জায়গায় আয়োজন ছিল নানান অনুষ্ঠানের।
বিয়ের পর প্রথম ভালোবাসা দিবস উদযাপনে বুধবার সকালেই ঘর থেকে বেরিয়েছেন নব দম্পতি আসাদ আইমান ও ফাইজা আফরিন। আসাদ বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা। আর ফাইজা আপাতত গৃহিনী। ডিসি হিলে কথা হয় তাদের সঙ্গে। সুপ্রভাতকে তারা বলেন, ভালোবাসা দিবস সবার জন্য। অনেকেই মনে করেন প্রেমিক যুগলরা এ দিনটি উদযাপন করেন। আসলে তা নয়। আমরা এখানে এসে অনেক বয়স্কদের দেখেছি। যারা ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে বেরিয়েছে।’
তারা বলেন, ‘ভালোবাসা হচ্ছে পবিত্র। সবার উচিত এটিকে পবিত্র রাখা। নোংরামিতে কখনো ভালোবাসা প্রকাশ হয় না।’
এছাড়াও দিনের প্রথম প্রহর থেকেই নগরীর চেরাগী পাহাড় মোড়সহ বিভিন্ন এলাকার ফুলের দোকানগুলোতে ছিল তারুণ্যের ভিড়। চেরাগী পাহাড় মোড়ে কয়েকজন ফুলের দোকানির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বসন্ত বরণ ও ভালোবাসা দিবস পর পর হওয়াতে তাদের ব্যবসা ভালোই চলছে। তবে কৃত্রিম ফুলের ছড়াছড়িতের হতাশ কিছু ব্যবসায়ী।
অন্যদিকে মেগা মল বা গিফ্ট শপগুলোতে চোখে পড়েছে ভিড়। প্রিয়জনের উপহারটির জন্য অনেককে দেখা গেছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে। তাছাড়া বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় বাড়ে রেস্টুরেন্টগুলোতে। সেখানে চোখে পড়ে প্রেমিক যুগল থেকে শুরু করে নানা শ্রেণি পেশার মানুষের আনাগোনা। খাওয়ার ফাঁকে একান্ত আলাপে চলে ভালোবাসার বিনিময়।
দিনভর সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে চলে ভালোবাসার কথামালা, কবিতা প্রকাশ। প্রিয়জনের সঙ্গে ঘোরাঘুরি, আড্ডার ছবিও প্রকাশ করেন অনেকেই। এছাড়াও দিবসটি ঘিরে নগরীর বিনোদন স্পটগুলো ছিল লোক লোকারণ্য। এসব স’ানে আয়োজন ছিল গোলাপবিনিময়, প্রেমের কবিতা পাঠ, স্মৃতিচারণের মতো অনুষ্ঠান। এছাড়াও এদিনে পথশিশুদের মাঝে খাবার বিতরণ, গরীব অসহায়দের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও বয়স্ক পুনর্বাসনের কেন্দ্র ব্যতিক্রমী কর্মসূচি পালন শুরু করেছে কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
প্রতিবছর বছর ভ্যালেন্টাইন ডে’র মাহেন্দ্রক্ষণ গণণা শুরু হয় ফেব্রুয়ারির ৭ তারিখ থেকে। এদিন পালন করা হয় রোজ ডে। এরপর ৮ ফেব্রুয়ারি প্রপোজ ডে, ৯ ফেব্রুয়ারি চকোলেট ডে, ১০ ফেব্রুয়ারি টেডি ডে, ১১ ফেব্রুয়ারি প্রমিজ ডে, ১২ ফেব্রুয়ারি হাগ ডে, ১৩ ফেব্রুয়ারি কিস ডে উদযাপনে শেষ হয় দীর্ঘ প্রতীক্ষা। ১৪ ফেব্রুয়ারি পালন করা হয় ভ্যালেন্টাইনস ডে। এর মধ্য দিয়ে শেষ হয় এ আয়োজন।