যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত বাংলাদেশের দুশ্চিনত্মা ও সমস্যা

আজহার মাহমুদ

ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সময়ের সংঘাত সম্পর্কে কম-বেশি হয়তো সকলেই অবগত আছেন। ড্রোন হামলায় ইরানের কুদস বাহিনীর প্রধান জেনারেল কাশেম সোলাইমানি নিহত হয়েছেন।

এরপর ইরান ইরাকের মার্কিন ঘাটিতে হামলা চালায়। ঘটনা হয়তো আরও বেশকিছু হতেও পারে। তবে এসব ঘটনার মাধ্যমে শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ড়্গতি হবে তা নয়, বরং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য অসি’তিশীল পরিসি’তির মুখে পড়েছে।

তবে অসি’তিশীল পরিসি’তির ছাপ পড়েছে বাংলাদেশেও। কারণ বাগদাদসহ ইরাকের বিভিন্ন শহরে প্রায় দুই লাখ বাংলাদেশী শ্রমিক রয়েছে। আমাদের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে যারা মা-মাটি-দেশ ছেড়ে বিদেশ থেকে অর্থ উপার্জন করে দেশে পাঠায় তাদের চিনত্মা আমাদেরও করতে হবে। বাংলাদেশের সরকারের জন্য এটা একটা বড় দায় হয়ে উঠবে যদি মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারা না যায়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন বলেছেন, উত্তেজনাকর পরিসি’তির প্রেক্ষাপটে ইরান ও ইরাকসহ আশপাশের দেশগুলোতে থাকা বাংলাদেশের নাগরিকরা যেনো সতর্কতামূলক ব্যবস’া নেন সেজন্য দূতাবাসগুলোকে সহায়তা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে এতেই সব শেষ হতে পারে না। দেশগুলোতে বাংলাদেশী যেসকল নাগরিক রয়েছে তারা যদি সেখানে অনিরাপদবোধ করেন, তবে তাদের দ্রম্নত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস’া করা হোক।

খবরের সূত্রমতে জানা গেলো, ইরান এবং ইরাকে দূতাবাসের কর্মকর্তারা বলেছেন, এই দু’টি দেশে থাকা বাংলাদেশীদের সরিয়ে নেয়ার মতো পরিসি’তি এখনও হয়নি এবং এখনই তাদের তেমন চিনত্মা নেই।

কিন’ বিবিসির সূত্র থেকে জানা যায় ভিন্ন খবর। মধ্যপ্রাচ্যে থাকা কয়েকজন শ্রমিক জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে উৎকন্ঠা কাজ করছে।

উৎকন্ঠা হোক আর ভয় হোক, আগেই বলেছি নিরাপদবোধ না করলে দেশের সরকারকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস’া নিতে হবে। নতুবা সরকার এ দায় এড়াতে পারবে না। এছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের এমন পরিসি’তিতে বাংলাদেশ চরম ড়্গতির মুখেও পড়বে।

কারণ বাংলাদেশের বড় শ্রম বাজার কিন’ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোই। শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের বেশিরভাগ দেশই উদ্বিগ্ন থাকবে এমন ঘটনায়। কারণ মধ্যপ্রাচ্যে সকল দেশেরই লোকজন রয়েছে।

আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইতোমধ্যে জানিয়ে দিয়েছেন যে বাংলাদেশ কারো পড়্গে নয়। বরং বাংলাদেশ উভয় দেশের বন্ধু। তবে বাংলাদেশ চায় না কোনো অসি’তিশীল পরিবেশ তৈরী হোক। বাংলাদেশ মতো অন্য দেশগুলোও এমন প্রত্যশা করেন। তবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র কি চায়? সেটাই এখন সবার মূল লড়্গ্য। সংঘাত কি এখানেই থামবে? নাকি চলবে! প্রশ্ন অনেক। তবে উত্তর দিবে সময়।

কিন’ এ প্রশ্ন-উত্তরের মাঝখানে যেন বাংলাদেশের মানুষের কোনো ড়্গতি না হয় সেটাই কাম্য। আমাদের দেশের বিরাট সংখ্যক জনবল সেখানে কাজ করে, পরিসি’তি খারাপ হলে তাদের অসুবিধা হবে। এবং তারা যদি দেশে ফিরে আসে তবে অচল হয়ে যাবে অর্থনীতির চাকা। বাংলাদেশে রেমিটেন্স ফাইটররাই অর্থনীতির চাকাকে সচল করে রেখেছে এখনও। তাই এদের যেমন নিরাপত্তাও দিতে হবে, তেমনি তাদের কর্মড়্গেত্র সচল রাখতে হবে। দুটোই একটি দেশের জন্য গুরম্নত্বপূর্ণ বিষয়।

যারা দেশের জন্য দিন-রাত পরিশ্রম করবে তাদের জন্য দেশের পড়্গ থেকেও কিছু করা উচিত বলে আমি মনে করি। সেই সাথে আমি বিশ্বাস করি, বিশ্বের অন্যতম দুই শক্তিধর দেশ তাদের যুদ্ধ থেকে বিরত রাখবে। এবং বিশ্বের মধ্যে শানিত্ম প্রতিষ্ঠা করবে। কারণ বিশ্ব শানিত্ম চায়। অশানিত্মর বিরম্নদ্ধে বিশ্ব এক হলে অবশ্যই শানিত্ম ফিরে আসবে। তাই সকল দেশের উচিত এই সংঘাত এখানেই বন্ধ করার জন্য আহ্বান করা। বিশ্বনেতারা সকলেই চাইলে এটি সমাধান করতে পারে। যদিও জটিল একটি বিষয়, তবুও অসম্ভব নয়।

শুধু তাই নয়, পুরো বিশ্বের কথা চিনত্মা করে হলেও দু-দেশের থেমে যাওয়া উচিত।

সম্প্রতি ইউক্রেনের একটি যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বসত্ম হয়েছে মিসাইল আক্রমণে, এর দায় ইরান স্বীকার করে অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে কিন’ এতে ইরানের ঘরে বাইরে ড়্গতি হয়ে গেলো। ইরানের শত্রম্নরা এর সুযোগ নেবে। ইরানের রাজনৈতিক-সামরিক ব্যবস’াপনাও ঝুঁকির মুখে পড়লো। ট্রাম্পের বেপরোয়া নীতির খেসারত দিচ্ছে সারা মধ্যপ্রাচ্য।