যানজট, দুর্ঘটনা, ভোগান্তি চরমে : নগরীর সড়ক সংস্কার কবে

বর্ষা মৌসুম শেষ হলেও মহানগরীর সড়ক সংস্কারের কাজে কোন গতি নেই। ভাঙাচোরা সড়কে যানজট, দুর্ঘটনা, ভোগান্তি এখন নগরবাসীর জন্য অসহনীয় হয়ে উঠেছে। নগরীর ব্যস্ত সড়কগুলোর বেহাল দশা নিয়ে সংবাদ, প্রতিবেদন নিয়মিত গণমাধ্যমে এলেও চসিক এর কোন তৎপরতা নেই।
মেয়র আশ্বাস দিয়েছিলেন বর্ষা মৌসুমের পরপরই নগরীর সড়কগুলির সংস্কার কাজ শুরু করা হবে। সংস্কার কাজ টেকসই করতে গুণগত মান বজায় রাখা এবং কাজ পরিদর্শন নিয়মিত করতে প্রকৌশলীদের তিনি নির্দেশও দিয়েছিলেন। নগরীর ৩০ শতাংশ সড়কের ক্ষতি হয়েছে উল্লেখ করে এর সংস্কারে চসিক থেকে সরকারের কাছে বরাদ্দও চাওয়া হয়েছে বলে ইতোপূর্বে জানা গেছে।
নগরীর বহদ্দারহাট থেকে কাপ্তাই রাস্তার মাথা, পোর্ট কানেকটিং রোড, আগ্রাবাদ এক্সেস রোড, শাহ আমানত সেতু সংযোগ সড়ক, আরাকান সড়ক, হালিশহর সড়ক, কাপাসগোলা সড়ক, ২নম্বর গেইট সড়ক ও জিইসি মোড়ের সড়কগুলোর অবস্থা বেহাল হয়ে রয়েছে। নগরীর অনেক ব্যস্ত সড়ক, গলি-উপগলিরও জরাজীর্ণ দশা।
শুকনো মৌসুমে নগরীর অর্থনীতি ও ব্যবসা বাণিজ্য চাঙ্গা হয়ে উঠে, এই সময় বন্দরে আমদানি, রপ্তানি, দেশের অভ্যন্তরে পণ্যসরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে উন্নত যোগাযোগ অবকাঠামো অপরিহার্য, তদুপরি চট্টগ্রাম মহানগর ও সন্নিহিত এলাকায় সরকারের যে সব উন্নয়ন কাজ চলছে সে সব অব্যাহত রাখতেও সড়কের সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ নিয়মিত হওয়া উচিত।
সরকার থেকে চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন, খাল পুনরুদ্ধারসহ নানা প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে কিন্তু সেবাদানকারী সংস্থাগুলির পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সমন্বিত প্রচেষ্টা না থাকলে জনগণের অর্থেরই অপচয় হবে কেবল।
সম্প্রতি ফ্লাইওভারের নীচে রাস্তা সংস্কার নিয়ে চসিক ও চউক বাকযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছে। এমনকি একই দলের নেতারা তর্ক ও বিবৃতি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ছেন যা সরকার ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।
নগরবাসী প্রত্যাশিত নাগরিক সেবা না পাওয়ায় তাদের মধ্যে ক্ষোভও বাড়ছে। সম্প্রতি গৃহকর নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। এর সুরাহা করতে মেয়রের জনবান্ধব এবং দূরদর্শী পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন বলে ভুক্তভোগী নাগরিকদের অভিমত।
আমরা মনে করি, চট্টগ্রাম মহানগরীর সার্বিক সমস্যার সমাধান, উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিশেষ মনিটরিং সেল প্রয়োজন। বিভিন্ন সংস্থার জেদাজেদি, তর্কবিতর্ক এবং আমলাতান্ত্রিক মানসিকতার অবসান হওয়া জরুরি।
নগরবাসী কেবল মেয়র, কাউন্সিলর নির্বাচিত করেননি সংসদ সদস্যদেরও নির্বাচিত করেছেন, তাই সংসদ সদস্য কিংবা মন্ত্রীগণ নগরবাসীর দুর্ভোগে নির্বিকার থাকতে পারেন না।