মৎস্যচাষ ও বনায়নে সফল পদুয়ার বিধু ভুষণ

শান্তি রঞ্জন চাকমা, রাঙ্গুনিয়া

রাঙ্গুনিয়ার দূর্গম পদুয়া ইউনিয়নে ফলাহারিয়া গ্রামে মৎস্য ও সামাজিক বনায়ন করে সফলতা পেয়েছেন আত্মপ্রত্যয়ী যুবক বিধু ভূষণ মুৎসুদ্দী। এসএসসি পাশ করার পর দীর্ঘদিন কর্মহীন থাকার পর বিধু মৎস্য ও বাগান করার পরিকল্পনা নেন। শুরুতে একটি পুকুরে মাছ চাষ শুরু করেন। পর্যায় ক্রমে তিনটি পুকুরে মাছ পালন এবং তিন একর পতিত পাহাড়ি ভূমিতে হাজার হাজার বিভিন্ন জাতের গাছের চারা সৃজন করেন। বিধু ভূষণ মুৎসুদ্দী এলাকার যুব সমাজকে অধঃপতন থেকে রক্ষা ও সামপ্রদায়িক ভেদাভেদ ভুলে সামাজিক কাজে সম্পৃক্ত হন। তিনি মাছ চাষ, ফলজ-বনজ বনায়ন সহ বিভিন্ন ধরনের আত্মকর্মসংস’ান মূলক কর্মকান্ড, বাল্যবিবাহ, মাদক প্রতিরোধ ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে জড়িত হন। ২০১২ সালে সফল মৎস্য চাষি ও ২০১৮ সালে আত্মপ্রত্যয়ী হিসেবে উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে পুরস্কারসহ নানা সম্মাননায় ভূষিত হন। এলাকায় যুবকদের মাঝে মাদকের বিস্তার রোধ, বাল্যবিবাহসহ সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধে এলাকার যুবকদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। মাদক ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের পাশাপাশি এসব বন্ধে সচেতনতামূলক নানা কর্মকান্ড পরিচালনায় দায়িত্বে আছেন। উপজেলা মৎস্য সম্প্রসারণ প্রতিনিধি হিসেবে বিধু ভূষণ মুৎসুদ্দী পদুয়ায় কাজ করছেন। বিধু ভূষণ মুৎসুদ্দী বলেন, পদুয়ার অপর মৎস্য খামারি মো. এরশাদ মাহমুদের সফলতা দেখে তিনি উৎসাহিত হন এবং ২০০৯ সালে যুব উন্নয়ন থেকে তিন মাসের প্রশিক্ষণ নেন। ২০১০-১১ অর্থবছরে রাঙ্গুনিয়া যুব উন্নয়ন অফিস থেকে ৩০ হাজার টাকা লোন সহ তার জমানো ২০ হাজার টাকা নিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন। প্রথম বছরে মাছ চাষ করে প্রায় ৫০ হাজার টাকা লাভ করেন। এছাড়া ৩ একর পাহাড়ি ভূমিতে রোপিত আকাশমনি, গামারিসহ বিবিধ প্রজাতির প্রায় ৪ হাজার গাছ পরিপক্ক হয়েছে।