মেয়েদের স্কুলে না পাঠানো হেফাজত আমিরের অভিমত তার নিজস্ব : নওফেল

নিজস্ব প্রতিবেদক

শিক্ষা ব্যবস’ায় নারীদের নিয়ে হেফাজতে ইসলামের আমীর আলস্নামা শফীর মনত্মব্যের জবাবে শিড়্গা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল তা উনার (হেফাজত অমীরের) ব্যক্তিগত অভিমত বলে মনত্মব্য করেছেন।
গতকাল সকালে নিজ বাসায় সংবাদকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন শিড়্গা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। হেফাজতে আমীরের নারীদের নিয়ে এ মনত্মব্য প্রসঙ্গে শিড়্গা উপমন্ত্রী নওফেলকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘যিনি এ মনত্মব্য করেছেন, তিনি তাঁর ব্যক্তিগত মতামত দিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের শিড়্গানীতি প্রণয়ন, শিড়্গা পরিচালনা বা শিড়্গাখাতের কোনো নির্বাহী দায়িত্বে নেই। স্বাধীন দেশে যেকোনো নাগরিক বাক স্বাধীনতার মাধ্যমে মনের ভাব প্রকাশ করতে পারে। তিনিও যেহেতু এ দেশের নাগরিক তাই নিজের একটি বিশেস্নষণ দিয়েছেন। তবে তা রাষ্ট্রীয় নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আমি সম্মানের সঙ্গে বলব, আমরা সকলেই যারা বাক স্বাধীনতার চর্চা করছি, আমরা যেন এ বিষয়টা মাথায় রাখি যে সংবিধান অনুসারে আমাদের সকলের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।’
বাক স্বাধীনতা প্রসঙ্গে উপমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা যেন কোনো ধরনের বৈষম্যমূলক মনত্মব্য না করি, তা সকলের কাছে আহ্বান জানাই।
পাঠ্যপুসত্মকে সাম্প্রদায়িক ইস্যু যুক্তকরণ প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে নওফেল বলেন, পাঠ্যপুসত্মকে সামপ্রদায়িকীকরণ দেশের জন্য বিপজ্জনক। বিগত সময়ে যারা এ ধরনের কাজ করেছে তারা বিচারের আওতায় রয়েছে। পাঠ্যপুসত্মকে সামপ্রদায়িকীকরণ বা বিভাজন সৃষ্টি করা, কোমলমতিদের মানসিকতায় এসব বিভাজন দিয়ে দেওয়া, দীর্ঘমেয়াদে সমাজের সি’তিশীলতা নষ্ট করবে। শিড়্গায় যদি সামপ্রদায়িকীকরণ করা হয় তাহলে অদূর ভবিষ্যত নয়, নিকট ভবিষ্যতও আমাদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে পড়বে।
আওয়ামী লীগ ধর্মনিরপেড়্গ রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসী উলেস্নখ করে নওফেল বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান ধর্মনিরপেড়্গ রাষ্ট্র গঠন করতে আমাদের বাধ্য করেছে। আমরা অবশ্যই ইসলামের অনুশাসন মেনে চলব, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তাদের অনুশাসন মেনে চলবেন। অসামপ্রদায়িক, ধর্মনিরপেড়্গ কারিকুলাম অত্যনত্ম প্রয়োজন। পাশাপাশি ধর্মীয় শিড়্গার মানোন্নয়নও খুবই দরকার। এতে সামাজিক অসি’তিশীলতা সৃষ্টি হবে না।
উলেস্নখ্য, গত শুক্রবার হাটহাজারী দারম্নল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার ১১৮তম বার্ষিক মাহফিলে মাদ্রাসার পরিচালক আলস্নামা শফী’র দেওয়া একটি বক্তব্য ও ভিডিও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়। সেখানে বলা হয়, মেয়েদেরকে স্কুল-কলেজে না দিতে এবং দিলেও সর্বোচ্চ ক্লাস ফোর বা ফাইভ পর্যনত্ম পড়ানোর জন্য ওয়াদা নিয়েছেন আহমদ শফী। পরে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও আলোচনা হয়।