ছাত্রলীগের দুপক্ষের মধ্যে আবার সংঘাতের শঙ্কা

মেয়র নাছিরের অনুসারীদের ব্যানার ছিঁড়া নিয়ে উত্তেজনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম কলেজে ছাত্রলীগের দুপক্ষের মধ্যে আবার সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারীদের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা নিয়ে কলেজে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
নাছিরের অনুসারী ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের টাঙানো ১০টি ব্যানার মঙ্গলবার রাতে কে বা কারা ছিঁড়ে ফেলে। গতকাল বুধবার এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছে নাছিরের অনুসারী ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। একই সময় মহিউদ্দিনের অনুসারীরাও পাল্টা বিক্ষোভ করে। এনিয়ে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
চট্টগ্রাম কলেজে মেয়র আ জ ম নাছিরের পক্ষে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রলীগ নেতা এম কায়সার উদ্দিন সুপ্রভাতকে বলেন, ‘ক্যাম্পাসে আমাদের ১০টি ব্যানার ছিল। মঙ্গলবার রাতে মুখোশ পরা কয়েকজন যুবক ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে এগুলো ছিঁড়ে ফেলে।’
মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী কলেজের ছাত্রলীগের কর্মীরা এসব ব্যানার
ছিঁড়ে ফেলেছে বলে ধারণা করছেন তিনি।
ছাত্রলীগ নেতা এম কায়সার উদ্দিন বলেন, ‘আমরা ঘটনাটি নাছির ভাইকে (মেয়র) অবহিত করি। তিনি প্রতিপক্ষ এখন গায়ে পড়ে সংঘাতে লিপ্ত হতে চায় জানিয়ে তাদের ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কলেজে মহিউদ্দিন চৌধুরী পক্ষের মাহমুদুল করিম সুপ্রভাতকে বলেন, ‘আমরা শুধু শুধু কেন তাদের ব্যানার ছিঁড়তে যাবো ? এটা অবিশ্বাস্য কথা।’
এদিকে দুপক্ষের মধ্যে আবার যে কোনো মুহূর্তে সংঘাতের আশঙ্কায় চিন্তিত হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম কলেজ প্রশাসন। যদিও কলেজ প্রশাসন মঙ্গলবার থেকে আইডি কার্ড ও ইউনিফর্ম পরিহিত ছাত্র ছাড়া বহিরাগত কাউকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। গত রোববার ও সোমবার দুই দফায় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে চট্টগ্রাম কলেজ প্রশাসন এমন কঠোর অবস’ানে আসে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সামনে ক্যাম্পাসে কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলে পুলিশকে কঠোর অবস’ান নিতে নির্দেশ দিয়েছে কলেজ প্রশাসন।
জানতে চাইলে চকবাজার থানার ওসি মীর মো. নুরুল হুদা গতকাল সুপ্রভাতকে বলেন, ‘দুপক্ষের মধ্যে আজ (গতকাল) উত্তেজনা ছিল। সামনে যদি তারা সংঘর্ষে লিপ্ত হয় পুলিশ কিন’ কারও মুখের দিকে তাকাবে না। আমরা সর্বোচ্চ ব্যবস’া নেব।’
সোমবার চট্টগ্রাম কলেজে সাবেক সিটি মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি’র অনুসারী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে দুপক্ষের ১৩ জন আহত হয়। এরআগের দিন রোববারও ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে।
জানা গেছে, এ ঘটনার পর মন্ত্রী বিএসসি’র অনুসারী ছাত্রলীগের কর্মীরা কৌশলগত কারণে নীরব অবস’ান নিয়েছেন। কিন’ এখন মেয়র নাছিরের পক্ষের কর্মীদের সাথে মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মন্ত্রী বিএসসি’র অনুসারী চকবাজার এলাকার স’ানীয় যুবলীগ কর্মী নূর মোস্তফা টিনুর চট্টগ্রাম কলেজ প্রতিনিধি সুভাষ মল্লিক সবুজ গতকাল সুপ্রভাতকে বলেন, ‘আমরা আপাততে নীরব থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কিন’ কেউ আমাদের সাথে গায়ে পড়ে লাগতে চাইলে পাল্টা জবাব দেবো।’