শারদীয় দুর্গোৎসব

মৃৎশিল্পীদের প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ

সপ্তাহখানেক পর শুরু হবে রং করার কাজ

রুমন ভট্টাচার্য

শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে নগরীর মৃৎশিল্পীদের কারখানাগুলো এখন দেবী দুর্গার প্রতিমাই ভরপুর। পাশাপাশি রয়েছে লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের প্রতিমাও। প্রতিটি কারখানার চারপাশে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে বিভিন্ন আকারের প্রতিমা।

ইতোমধ্যে তৈরিকৃত অধিকাংশ প্রতিমাই অর্ডার হয়ে গেছে। বাকি যেগুলো রয়েছে সেগুলো পূজার আগেই অর্ডার হওয়ার আশা মৃৎশিল্পীদের। কারণ পূজার বাকি রয়েছে আরও এক মাস।
আগামী ৯ অক্টোবর শুভ মহালয়া। মহালয়ার দিন থেকেই শুরু হয় শারদীয় দুর্গোৎসবের ক্ষণগণনা। অর্থাৎ মহালয়ার একসপ্তাহ পরেই শারদীয় দুর্গাপূজা। কিন’ ইতোমধ্যেই মৃৎশিল্পীরা তাদের প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ করেছেন। এখন বাকি শুধু রংয়ের প্রলেপ দেওয়ার। সপ্তাহখানেক পরেই শুরু হবে রং করার কাজ এমনটাই জানালেই মৃৎশিল্পীরা।

সরেজমিন নগরীর সদরঘাট এলাকার স্বর্গীয় দুলাল পাল প্রতিমালয় লোকনাথ শিল্পালয়, নটরাজ শিল্পালয় কারখানাগুলো ঘুরে পাওয়া গেল এমন তথ্য ও চিত্র।
মৃৎশিল্পীরা জানান, সনাতনী প্রতিমার চেয়ে ওরিয়েন্টাল প্রতিমার চাহিদাই এখন খুব বেশি। কারণ ওরিয়েন্টালে ঝামেলা ও টাকা দুটোই সাশ্রয়। তবে নতুন করে প্রতিমা তৈরির কোনো অর্ডার নেওয়া হচ্ছে না।

কথা হয় সদরঘাট স্বর্গীয় দুলাল পাল প্রতিমালয়ের সত্ত্বাধিকারী মৃৎশিল্পী সুকান্ত পাল এর সাথে। তিনি বলেন, ‘কারখানায় ৩ ভাইসহ মোট ১১ জন কাজ করছি। এবার সবমিলিয়ে ৩৮টি প্রতিমা তৈরি করেছি। এর মধ্যে ৩৩টি অর্ডার হয়ে গেছে। ২-৩টি ছাড়া বাকি সব চট ও মাটির শাড়ির তৈরি। তবে অন্যবারের চেয়ে এবারে দাম তুলনামূলক ভালো। প্রতিমাগুলো আগেভাগে তৈরি করার কারণে এখন ব্যস্ততা একটু কম। একসপ্তাহ পরে শুরু হবে রংয়ের কাজ। তখন ব্যস্ততা বাড়বে পুরোদমে।’

একই এলাকার লোকনাথ শিল্পালয়ের প্রোপাইটর মৃৎশিল্পী অমল পাল জানান, এবার কারখানায় ৪০টি প্রতিমা তৈরি করেছি। ৩২টি প্রতিমার অর্ডার হয়ে গেছে। প্রতিদিন ১২ জন মৃৎশিল্পী কাজ করছে। আমার কারখানায় ২টি ছাড়া বাকি সব মাটির শাড়ি। কারণ ক্রেতাদের মাটির শাড়ির চাহিদাই বেশি। কারণ মাটির শাড়ির প্রতিমাই ঝামেলা ও টাকা দুটোই সাশ্রয়। গতবারের চেয়ে এবার দাম মোটামুটি ভালো পাচ্ছি।’

নটরাজ শিল্পালয়ের স্বত্বাধিকারী মৃৎশিল্পী মহাদেব পাল জানান, কারখানায় ২ ভাইসহ মোট ৭ জন প্রতিদিন কাজ করছি। এবার সবমিলিয়ে ২৫টির মত প্রতিমা তৈরি করেছি। ১৫টি অর্ডার হয়েছে। আরো ১০টি অর্ডারের বাকি আছে। এগুলো অর্ডার হবে কিনা চিন্তায় আছি। কারণ গতবার ২টি প্রতিমা বিক্রি হয়নি। এবারও যদি থেকে ২-৩টি থেকে যায় তাহলে লোকসান গুণতে হবে। তবুও আশা রাখছি কারণ এখনও হাতে প্রায় এক মাস সময় আছে।’