স্কুলছাত্র অপহরণ

মূল পরিকল্পনাকারী গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক

নগরীতে স্কুলছাত্র অপহরণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মো. জসিম নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত রোববার রাতে বাকলিয়া থানাধীন মাস্টারপুল খেজুরতলা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এরআগে গত ২৪ জানুয়ারি সাইফুল ইসলাম শামীদ (১১) নামে সরকারি মুসলিম হাই স্কুলের এক ছাত্রকে স্কুল ছুটির পর দুর্বৃত্তরা অপহরণ করে প্রাইভেটকারযোগে অজ্ঞাত স’ানে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখে। পুলিশের অভিযানের মুখে অপহরণকারীরা ছেলেটিকে ফেলে গেলে ঘাটফরহাদবেগ এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ।
এদিকে গ্রেফতারের পর মো. জসিম জিজ্ঞাসাবাদে অপহরণের কথা স্বীকার করে। অপহরণ কাজে ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটিও গতকাল সকাল সাড়ে ৯টায় নগরের সাব এরিয়া এলাকা হতে উদ্ধার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার হওয়া জসিমের গ্রামের বাড়ি কুমিলস্না জেলার দেবীদ্বার থানাধীন উনজুরি ইউনিয়নের মাইজপাড়ায়। তার বাবার নাম রবিউলস্নাহ। বর্তমানে সে থাকে বাকলিয়া থানাধীন মাস্টারপুল খেজুরতলা এলাকায়।
কোতোয়ালী থানার ওসি মো. মহসীন জানান, গত ২৪ জানুয়ারি সকাল সাড়ে দশটায় রেয়াজউদ্দিন বাজারের

ব্যবসায়ী শামসুল ইসলামের ছোট ছেলে সাইফুল ইসলাম শামীদকে অপহরণ করে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মুক্তিপণ হিসেবে ৫০ লাখ টাকা দাবি করে অপহরণকারীরা। বিষয়টি অবহিত করার পর পুলিশের তাৎড়্গণিক তৎপরতায় ভিকটিম শামীদকে ওইদিন বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে নগরের ঘাটফরহাদবেগ এলাকা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতোপূর্বে জসিমের সহযোগী মো. সাইফুল ইসলাম স্বপন (৩০) ও মো. আলমগীরকে (২৫) গ্রেফতার করে পুলিশ। স্বপন শামীদের বাবা শামসুল ইসলামের গাড়িচালক।
পুলিশ জানায়, জসিমের পরিকল্পনায় অপহরণের ঘটনা ঘটে। ঘটনার আগের দিন বেলা ১১টার দিকে নগরের সিনেমা প্যালেস এলাকায় একটি চায়ের দোকানে বসে সহযোগীদের নিয়ে স্কুলছাত্র শামীদকে অপহরণের পরিকল্পনা করে জসিম। তাদের পরিকল্পনায় ছিল, ছেলেটাকে একঘণ্টা গাড়িতে আটকে রাখতে পারলে তার বাবা শামসুল ইসলাম ৫০ লাখ টাকা দেবে। তার অনেক টাকা। তিনি রিয়াজউদ্দিন বাজারের ব্যবসায়ী। বিদেশ থেকে কম্বল আমদানি করেন। মানুষের বিপদ-আপদে সাহায্য করেন।
অপহরণ কাজে ব্যবহারের জন্য জসিম একটি প্রাইভেটকার সরবরাহ করবে বলে জানায়। মুক্তিপণের টাকা আদায় হলে তাকে অতিরিক্ত টাকা দিতে হবে বলেও জানায় সে। জসিমের কথায় রাজি হয় সহযোগীরা।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২৩ জানুয়ারি স্কুল ছুটির পর শামসুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়িচালক স্বপন প্রাইভেটকারে করে শামীদকে সিনেমা প্যালেস এলাকায় নিয়ে জসিমকে চিনিয়ে দেয়। পরের দিন ২৪ জানুয়ারি সকালে জসিম তার প্রাইভেটকারে সহযোগীদের নিয়ে মুসলিম হাই স্কুলের সামনে অবস’ান করে।
স্কুল ছুটির পর জসিম শামীদকে বলে, ‘তোমার বাবার গাড়ি নষ্ট। আমরা তোমাকে পৌঁছে দেব।’ একথা বলে প্রাইভেট কারে উঠিয়ে আন্দরকিলস্না হয়ে সাব এরিয়ার দিকে যায়। এ সময় সহযোগীরা গাড়িতে ছিল। জসিম তার হাতে থাকা ছুরি দিয়ে ওই ছাত্রকে মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে চুপ থাকতে বলে। অন্যরা মোবাইল ফোনে তার বাবা শামসুল ইসলামকে ফোন করে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
শামসুল ইসলাম বিষয়টি থানায় অবহিত করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে ঘাটফরহাদবেগ এলাকা থেকে শামীদকে উদ্ধার করে।