মূল্যবৃদ্ধি ও ভেজাল প্রতিরোধে নজরদারি বাড়াতে হবে

মাহমুদুল হক আনসারী

কৃষি অধিদপ্তর, কৃষি বিপণন কেন্দ্র, নতুন জাতের খাদ্যজাতীয় পণ্য উৎপাদন, বিপণন করে সমাজকে সচল রাখার চেষ্টায় আছে। দেশে প্রায় ১৭ কোটি মানুষের বসবাস। প্রতিদিন খাদ্যের চাহিদা বাড়ছে, চাউল, ডাল, মাছ, মাংস, তরি-তরকারির প্রয়োজন বেড়েই চলছে। কৃষি জমি কমে তৈরি হচ্ছে বাড়ি ঘর, মার্কেট, ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন। প্রায় ৮০ হাজার গ্রামে এখন কৃষিজমি অনেক কমে যাচ্ছে। কৃষিজমি কমলেও ফসল ফলাদির উৎপাদন বাড়ছে জমি থেকে। যে কোন সরকারের চেয়ে বর্তমান সরকার কৃষকবান্ধব সরকার। সার, ডিজেল, পানি এবং সারের জন্য এখন আর কৃষকদের আন্দোলন করতে হয় না। কৃষক তাদের সব ধরনের সুযোগ সুবিধা ঘরে বসেই পাচ্ছে।
সমস্যা একটি, সেটা হচ্ছে, মধ্যস্বত্বভোগীরা কৃষকের লাভ আত্মসাৎ করছে, কৃষক ক্ষেতে অল্পমূল্যে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। মাঝপথে মজুদদাররা উচ্চমূল্যে তা বাজারজাত করে অতি মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে। সাধারণ মানুষ প্রতারিত ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। কৃষকের কাছ থেকে নির্ভেজাল পণ্য ব্যবসায়ীরা নিয়ে সে পণ্যে নানা ধরনের কীটনাশক মিশিয়ে খাদ্যে মারাত্মক ভেজাল সৃষ্টি করছে। ফলে খাদ্যের মান, ভিটামিন নষ্ট হচ্ছে। নির্ভেজাল আর তাজা খাদ্য ভেজাল দিয়ে ও মান নষ্ট করে বাজারে উচ্চমূল্যে সরবরাহ করে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন করে অসাধু ব্যবসায়ীগণ।
‘ভোক্তার অধিকার আইন’ যথাযথভাবে প্রয়োগ করার মাধ্যমে খাদ্যনিরাপত্তা জনগণ ভোগ করতে পারে। দোকান, বাজার, মার্কেটে ঘোষণা ছাড়া মনিটরিং থাকতে হবে। দেখা যায়, একই বাজারে, একই মূল্যের ভিন্ন ভিন্ন মূল্যতালিকা। অনেক দোকানে মূল্যতালিকা টানানো হয় না। দোকানির কথামত ক্রেতাকে মূল্য দিতে হচ্ছে। ওজনে কারচুপি, পণ্যে ভেজাল, মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্যে ঘষামাজা করে পুনরায় বিক্রি, কোনো অবস্থায় তাদের ভেজাল পণ্যবিক্রি থেকে বাঁচার উপায় নেই। মরিচ, মসল্লা, চাউল, আটা, ময়দায় ভেজাল আরো বেশি। ধান, চাউলের উচ্ছিষ্ট দিয়ে কেমিক্যাল যুক্ত মরিচ আর মসল্লার গুঁড়া প্যাকেট করে সাধারণ মানুষকে খাওয়াচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। চাল, আটা ময়দায় ভেজাল, তেলে ভেজাল, মাছ মাংস তরি তরকারিতে ফরমালিন – কী খাবে মানুষ! হোটেল, রেস্তোরাঁর পোড়া তেল, বাসি খাবার খেতে হচ্ছে শহরের খেটেখাওয়া দিনমজুর মানুষকে। মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত হোটেল রেস্তোরাঁয় জরিমানা করে কিন্তু বছরের ৩৬৫ দিন তারা গলাকাটা মূল্য নিয়ে জনগণকে প্রতারিত করছে। মূল্য নির্ধারণ না থাকায় হোটেলের খাবারে খুব বেশি মূল্য নেয়া হয় ক্রেতার নিকট থেকে। এ সকল হোটেল রেস্তোরাঁর অযৌক্তিক মূল্য নিয়ন্ত্রণে থাকা দরকার। বেকারি খাদ্যে মূল্য নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে উঠছে। পণ্যের ভিতরের চেয়ে উপরের মলাট চকচকে, এখানেই তাদের চাহিদা আর মূল্য বেশি। আমাদের দেশের খাদ্যের বাজার খুবই অনিয়ন্ত্রিত। মানহীন বাজার, ইচ্ছেমতো মূল্য। বিএসটিআই থাকলেও খাদ্যের মান রক্ষায় তাদের ভূমিকা নিয়ে জনগণের অনেক অভিযোগ আছে।
এর প্রয়োজনীয় সরবরাহ, যোগান, উৎপাদন, তদারকি, নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রের দায়িত্ব। অসাধু, কৃত্রিম সংকটসৃষ্টিকারী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। সামনে পবিত্র রমজান মাস। এখন থেকেই পণ্য মওজুদ করে অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট ও মূল্য বৃদ্ধির ষড়যন্ত্র করতে পারে। এ সুযোগ যেন তারা না পায়, স্থানীয় ও জাতীয় প্রশাসনকে তদারকি বাড়াতে হবে। সকল পণ্যের সরবরাহ জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে হবে।

লেখক : প্রাবন্ধিক