মুরাদপুর-অক্সিজেন সড়ক খোঁড়াখুঁড়িতে দুর্বিষহ জীবনসিফায়াত উল্লাহ

মুরাদপুর থেকে অক্সিজেন সড়কে অনেক দিন ধরেই ওয়াসার খোঁড়াখুঁড়ি চলছে। সড়কের একপাশ শেষ হতে না হতেই আরেক পাশেই শুরু হচ্ছে এই খননকাজ। বছর খানেক ধরে চলতে থাকা এই খোঁড়াখুঁড়ি জনসাধারণকে বেশ ভোগান্তিতে ফেলেছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন বলছে, সড়কে প্রায় জায়গায় ওয়াসার পাইপলাইন বসে গেছে। তবে এখনো কিছু কিছু অংশে কাজ হচ্ছে। ওয়াসা সড়কটি বুঝিয়ে দিলে এবছরের এপ্রিলের আগেই সড়কটি মেরামত কাজ সম্পূর্ণ শেষ হবে।
উত্তর চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির মানুষদের যাতায়াতের প্রধান সড়ক এটি। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে লক্ষাধিক মানুষের যাতায়াত হয়। কিন’ সাড়ে চার কিলোমিটারের সড়কটিতে যাতায়াতে প্রতিদিন ঘন্টার পর ঘন্টা যাত্রীদের কাটাতে হচ্ছে গাড়িতে। এছাড়া ধুলোবালির কারণে সড়কের আশপাশের ব্যবসায়ীদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে খোঁড়াখুঁড়ির কারণে মানুষের দুর্ভোগ এখন স’ায়ী রূপ নিয়েছে। হামজারবাগের এলাকার ব্যবসায়ী ছগির মিয়া বলেন, সড়কের পাশে দোকান। ধুলোবালিতে ভরা থাকে মালামাল। এজন্য অনেকেই জিনিসপত্র কিনে না।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আহমেদ রাজীব বলেন, মুরাদপুর হয়ে প্রতিদিন ক্যাম্পাসে যেতে হয়। আগে এক ঘন্টায় পথ শেষ হতো। এখনতো কয়েকঘন্টা লাগে অক্সিজেন পার হতে।’
গতকাল সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, অক্সিজেন থেকে আমিন জুট মিল পর্যন্ত ওয়াসার খোঁড়াখুঁড়ি কাজ শেষ। আতুরার ডিপো, সঙ্গীত সিনেমা, এক নম্বর গেইটে লিকেজের কাজ চলছে। বর্তমানে অক্সিজেন থেকে আমিন জুট মিল পর্যন্ত সড়কের পশ্চিম পাশে বিটুমিন বসিয়েছে সিটি করপোরেশন । এছাড়াও পুরো সড়কের ভাঙা আইল্যান্ডগুলো ঠিক করছে করপোরেশন।
একপাশের কাজ শুরু ব্যাপারে পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোবারক আলী বলেন, ‘সড়কটি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পশ্চিম ষোলশহর, শুলকবহর ও পাঁচলাইশ ওয়ার্ডের আওতাধীন। আমার এলাকায় অংশে খোঁড়াখুঁড়ি শেষ হলে করপোরেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করি। এরপর করপোরেশন কাজ শুরু করে।’
গত বছরের শুরুতে মদুনাঘাট পানি সরবরাহ প্রকল্পের জন্য পাইপলাইন বসাতে চট্টগ্রাম ওয়াসা মুরাদপুর থেকে অক্সিজেন পর্যন্ত সড়কটি খুঁড়ে ফেলে। এতে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টির হয়। তখন থেকেই যানবাহন চলাচলে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে যাত্রীরা।
এব্যাপারে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ সুপ্রভাতকে বলেন, এই সড়কের রেললাইন, ব্রিজ ও কালভার্টগুলোর নিচের ওয়াসার খোঁড়াখুঁড়ি এখনো চলছে। এরমধ্যে অক্সিজেন থেকে আতুরার ডিপোর কাছাকাছি পর্যন্ত আমরা সড়কের উপর ম্যাকাডাম করে বিটুমিন বসিয়েছি।’
তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন লোকাল বিটুমিন দিয়ে কাজ করে না। ইস্টার্ন রিফাইনারি থেকে করপোরেশন বিটুমিন ক্রয় করে। প্রতিষ্ঠানটি কিছুদিন আমাদের বিটুমিন সাপ্লাই কম দিয়েছে। তাই কাজ শুরু করতে দেরি হয়েছে।’
প্রকৌশলী মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের পর্যাপ্ত বিটুমিন মজুদ আছে। ওয়াসা পুরোপুরি সড়কটি আমাদের কাছে বুঝিয়ে দিলে একযোগে কাজ শুরু করবো। এপ্রিলের আগে এ সড়কের কাজ শেষ করার টার্গেট নিয়েছি আমরা।’
অন্যদিকে ওয়াসার কাজের গতির ব্যাপারে জানতে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস’াপনা পরিচালক (এমডি) একেএম ফজলুল্লাহকে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।