মুরগি-সবজিতে স্বস্তি মাছের বাজারে হাঁসফাঁস

নিজস্ব প্রতিবেদক

মুসলিম সম্প্রদায়ের কোরবানির ঈদ এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের মনসা পূজা ঘিরে বাজারে কমেছে মাংসের চাহিদা। এর প্রভাবে দাম কমেছে মুরগির, সি’তিশীল রয়েছে গরু-খাসিসহ যাবতীয় মাংসের দাম। গত তিন-চারদিনের ব্যবধানে জাতভেদে মুরগির দাম কমেছে কেজিপ্রতি ৫-১০ টাকা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাজারে বেড়েছে উল্লেখ্যযোগ্য পরিমাণে শাক-সবজির যোগান। কিন’ ঈদ করতে মানুষ শহর ছেড়ে গ্রামমুখী হওয়ায় নগরীর বাজারগুলোতে কমছে ক্রেতার সংখ্যা। ফলে সবজির দাম রয়েছে নিম্নমুখী।

অন্যদিকে পুরো ওল্টো চিত্র মাছের বাজারে। বাজারে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছের সরবরাহ বাড়লেও দাম এখনও ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। গত প্রায় একমাস ধরে মাছের বাজারের আগুনে উত্তাপ চলতি সপ্তাহেও বহাল রয়েছে।
গতকাল বহদ্দারহাট কাঁচা বাজারসহ নগরীর কয়েকটি বাজার ঘুরে উপরের চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। গতকাল কেজিপ্রতি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১৩০ টাকা, লেয়ার মুরগি ১৭০ টাকা, পাকিস্তানি সোনালী মুরগি ২৫০ টাকা ও কেজিপ্রতি দেশি মুরগি ৩৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া গতকাল বাজারে হাড়সহ গরুর মাংস বিক্রি হয়েছে ৪৫০-৪৮০ টাকা, হাড় ছাড়া গরুর মাংস ৫৫০ টাকা এবং খাসির মাংস কেজিতে ৬২০-৬৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
সবজির বাজারে গতকাল কেজিপ্রতি কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে ৮০-১০০ টাকা, টমেটো ৮০ টাকা, কাকরোল ৫০ টাকা, বেগুন ৪৫-৫০ টাকা, তিত করলা ৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৩০-৪০ টাকা, পটল ৪০ টাকা, ঢেড়স ৪০ টাকা, বরবটি ৫০ টাকা, দেশি লাউ ৩০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ও মিষ্টিকুমড়া ২৫-৩০ টাকা, শসা ৩০ টাকা, কচুর লতি ৩০ টাকা, কচুর ছড়া ৩৫-৪০ টাকা, কচুর পোপা ৩০-৪০ টাকা, ললিত আলু ২০ টাকা এবং দেশি আলু ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে বাজারে নতুন আসা আগাম শীতকালীন সবজির মধ্যে শিম ৮০-১০০ টাকা, মুলা ৫০-৬০ টাকা এবং বাঁধাকপি ১০০-১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া গতকাল বাজারে মাঝারি সাইজের এক আঁটি মিষ্টিকুমড়া শাক বিক্রি হয়েছে ৩৫-৪০ টাকা, পাট শাক ২৫-৩০ টাকা, লাল শাক ২৫-৩০ টাকা, পুঁই শাক ৩০ টাকা, পালং শাক ১৫-২০ টাকা এবং জোড়া আঁটি কলমি শাক ১৫-২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

গতকাল বাজারে আকার ভেদে রুই মাছ বিক্রি হয়েছে ২৫০-৩৫০ টাকা, কাতলা ৩০০-৪০০ টাকা, চিংড়ি আকার ভেদে ৪৮০ থেকে ৭০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৫০-১৭০ টাকা, পাঙ্গাস ১৫০ টাকা, মলা মাছ ১৬০ টাকা, বাইলা মাছ ৪৫০-৫৫০ টাকা, লইট্টা ১৪০ টাকা, কই ৩৫০-৪০০ টাকা, কেচকি ১৮০ টাকা, বাটা মাছ ৫৫০-৬০০ টাকা, কোরাল ৫০০-৬০০ টাকা, সাদা রূপচাঁদা ৭০০-৯০০ টাকা এবং কালো রূপচাঁদা ৪৫০-৫৫০ টাকা। অন্যদিকে ছোট আকারের (কেজিতে ধরে ৩-৪টা) ইলিশ বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ৫০০ টাকা, মাঝারি আকারের (কেজিতে ধরে ২টা) ইলিশ ৬০০-৭০০ টাকা এবং বড় আকারের (কেজিতে ১টা বা ১টার ওজন সর্বোচ্চ দেড় কেজি পর্যন্ত) ইলিশ ৮০০-১২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
জানতে চাইলে বহদ্দারহাটের মাছ বিক্রেতা দিদারুল ইসলাম রানা সুপ্রভাতকে বলেন, দুয়েকদিন পর পর সমুদ্রে বিপদ সংকেত থাকায় জেলেরা নিয়মিত মাছ ধরতে পারছে না। ফলে বাজারে ইলিশ আসলেও যে পরিমাণে আসার কথা সে পরিমাণে আসছে না। তাছাড়া অনেকেই এখন কোরবানির সময়ে মাছ খাওয়ার জন্য অগ্রিম মাছ কিনে রেফ্রিজারেটরে জমা করে রাখছে, তাই দাম একটু বাড়তি।