মিয়ানমার থেকে আসছে প্রচুর কোরবানির পশু

জিয়াবুল হক, টেকনাফ

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমার থেকে আসছে প্রচুর গরু-মহিষ। ট্রলারে করে পালে পালে কোরবানির পশু আসছে প্রতিনিয়ত। টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ করিডোর হয়ে প্রতিদিন আসতে শুরু করেছে এসব পশু।

গতকাল সোমবার সকালে সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ করিডোরে গিয়ে দেখা যায়, মিয়ানমার থেকে পালে পালে নিয়ে আসা অনেক পশু মাঠে রাখা হয়েছে। সেগুলো বেচাকেনাও হচ্ছে। এই দিন মিয়ানমার থেকে ট্রলারে করে প্রায় ১৫ হাজার গবাদিপশু এসেছে। এর মধ্যে এক হাজারের উপরে গরু, বাকিগুলো মহিষ। আগের দিন রোববার মিয়ানমার থেকে এক হাজার ২২৩টি পশু ছোট-বড় পাঁচটি ট্রলারে করে আমদানি করেন ব্যবসায়ী মো. ইসলাম, মো. শফিক, মনিরুজ্জামান, হাসান আহমেদ ও মো. কবির।

আমদানিকারক মোহাম্মদ শরীফ মেম্বার বলেন, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে মিয়ানমার থেকে প্রচুর সংখ্যক পশু আসছে। এবার দামও কিছুটা বাড়তি। আমার কাছে আসা ৭৮টি পশু বেপারিদের কাছে বিক্রি করেছি। আগে এইসব গরু বিক্রি করেছিলাম প্রতিটি ৪০ হাজার টাকা করে। এখন ৫০ হাজার করে বিক্রি করেছি। কোরবানের আগে আরও পাঁচ শতাধিক পশু আমদানি করা হবে বলে তিনি জানান।
টেকনাফ শুল্ক স্টেশন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, আসন্ন কোরবানির ঈদের বাকি মাত্র ৮ দিন। পশু আমদানি রাজস্ব আদায়ে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। দেশে পশুর চাহিদা পূরণে আমদানি অব্যাহত রয়েছে। চলতি আগস্ট মাসের ১৩ দিনে ৬ হাজার ২৫৪টি পশু আমদানি করা হয় মিয়ানমার থেকে। যার বিপরীতে সরকার রাজস্ব পেয়েছে ২৮ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। তাছাড়া জুলাই মাসে এসেছে ৬ হাজার ১০৬টি পশু। ঈদকে সামনে রেখে আমরা ব্যবসায়ীদের মিয়ানমার থেকে আরও বেশি পশু আনতে সহযোগিতা করছি।
উখিয়ার গরু ব্যবসায়ী মো. ছোটন জানান,

গত বছরের মতো এবারও টেকনাফ থেকে গরু কেনার জন্য এসেছি। গরু ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইসমাইল জানান, আসন্ন কোরবানির ঈদ উপলক্ষে পশু আমদানি ক্রমাগত বাড়ছে। যেসব পশু মিয়ানমার থেকে আনা হচ্ছে, সেগুলো ব্যবসায়ীরা কিনে এখন থেকে চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স’ানে পাঠিয়ে দিচ্ছেন।
এ ব্যাপারে টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রণজিত কুমার বড়ূয়া বলেন, কোরবানির পশু সরবরাহের ক্ষেত্রে রোডে যেন কোনো রকম চাঁদাবাজি না হয়, তা নজরে রাখা হচ্ছে। তার পাশাপাশি গরু আসার সময় ট্রলারে যাতে অস্ত্র ও মাদক না আসতে পারে, সেদিকে লক্ষ্য রাখছে পুলিশ।