বিশ্বজনমত সংগঠিত হচ্ছে

মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ করুন

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতন-নিপীড়নের প্রতিবাদে সরব হচ্ছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। রোহিঙ্গা শরণার্থী পরিস্থিতি এবং তাদের ওপর মিয়ানমারের আইনশৃংখলা বাহিনীর নৃশংসতার বিবরণ ও তথ্য সংগ্রহ করতে জাতিসংঘের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে আসছে এ মাসেই।
ইসলামি ঐক্যসংস্থা (ওআইসি) রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আলোচনার জন্য সংস্থার সদস্য দেশগুলির পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের বৈঠক ডেকেছে কুয়ালালামপুরে ১৯ জানুয়ারি।
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশের সাথে আলোচনায় বসার কথাও বলেছে মিয়ানমার। কয়দিন আগে বাংলাদেশের ড. মুহম্মদ ইউনূস সহ শান্তিতে নোবেল জয়ী ১৩ জন এবং সাথে আরও কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি রোহিঙ্গাদের ওপর দমন নিপীড়ন, হত্যাযজ্ঞ বন্ধে পদক্ষেপ নিতে নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তারা মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচিকে রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধে সাহসী ও মানবিক ভূমিকা নিতে বলেছেন।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আরো সক্রিয় হবে এবং একটি আদি জনগোষ্ঠীকে রক্ষা ও তাদের নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখবে বলে আমরা আশা করি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগের মুখে মিয়ানমারের সরকার এখনো নির্বিকার রয়েছে, রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে মিয়ানমার সরকার একটি কমিশন গঠন করেছে যা আন্তর্জাতিক জনমতকে বিভ্রান্ত করার প্রয়াস।
সম্প্রতি রোহিঙ্গাদের ওপর অকথ্য নির্যাতনের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে মিয়ানমার সরকার বেকায়দায় পড়ে।
রাখাইন রাজ্যে গণমাধ্যমের কর্মী এবং আন্তর্জাতিক সাহায্যকারী সংস্থাকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।
মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার কয়েকটি সংস্থা রোহিঙ্গাদের জন্য সাহায্য পাঠানোর প্রস্তাব করলেও মিয়ানমার সরকার তাতে সায় দেয়নি।
দুর্দশাগ্রস্ত ও আশ্রয়হীন রোহিঙ্গাদের মানবিক যাহায্যের এই প্রচেষ্টায় মিয়ানমার সরকার যাতে বাধা না দেয়, প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক রেডক্রস সংস্থা ও জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার তত্ত্বাবধানে হলেও ত্রাণসামগ্রী বিতরণের প্রয়াস নেয়া হয় সে ব্যাপারে তাদের পদক্ষেপ নেয়া উচিত।
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নির্মূল করতে মিয়ানমার সরকার তাদের নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে তাদের ওপর নিপীড়ন নির্যাতন অব্যাহত রেখেছে কয়েক দশক ধরে, জাতীয় ইতিহাস থেকে রোহিঙ্গাদের মুছে মেলতে মিয়ানমার সরকার উদ্যোগ নিয়েছে, সুচি এবং মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গাদের বাঙালি বলছে অথচ ইতিহাস এবং নানা তথ্য বলছে রোহিঙ্গারা রাখাইন (পূর্বতন আরকান) রাজ্যের আদি অধিবাসীদের অন্যতম, তাদের হাতে এই অঞ্চলের আবাদ এবং বসতি স্থাপন হয়েছে – এ বিষয়গুলো মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ এবং বিশ্ববাসীকে জানাতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। আমাদের লেখক – গবেষকরা এ ব্যাপারে সক্রিয় হবেন বলে আমরা আশা করি।
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে ৫০ হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে মর্মে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ। সরকারিভাবে ত্রাণশিবির খুলে তাদের আশ্রয়, খাবার ও চিকিৎসার বন্দোবস্ত করা প্রয়োজন। এর আগেও কয়েক লক্ষ রোহিঙ্গা আমাদের দেশে বাস করছে।
জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত হবে স্বদেশ থেকে বিতাড়িত এই জনগোষ্ঠীকে তাদের দেশে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা। ওআইসিভুক্ত দেশগুলির এ ব্যাপারে বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। প্রয়োজনে মিয়ানমার সরকারের ওপর সীমিত অবরোধ আরোপ করতে জাতিসংঘ পদক্ষেপ নিতে পারে। হত্যা-নির্যাতন করে, সকল মানবিক অধিকার পদদলিত করে একটি জনগোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্ন করা হবে, বিশ্বমানবতা কি তা কেবল নির্মোহ অবলোকন করবে?

আপনার মন্তব্য লিখুন