মিয়ানমারের উদ্দেশ্যে দেশ ছেড়েছে আলীকদমের ১৮ মুরুং পরিবার

নিজস্ব প্রতিনিধি, আলীকদম

বান্দরবানের আলীকদম ও থানচিতে বসবাসরত মুরুংরা স্বদেশ ছেড়ে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র মিয়ানমার চলে যাচ্ছে এমন খবর পাওয়া গেছে। তবে এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কোন ব্যবস’া নেয়নি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত প্রায় এক মাসে আলীকদম উপজেলা থেকে দেশান্তরী পরিবারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮তে। উপজেলার ৪ নম্বর কুরুক পাতা ইউনিয়নের রালাই পাড়া থেকে ৫ পরিবার, মাংরুম পাড়া খেবে ২ পরিবার, মেনক্লাং পাড়া থেকে ১ পরিবার, বুতু পাড়া থেকে ২ পরিবার, মেননি ঁ ১১ পৃষ্ঠার ২য় কলাম
ঁ শেষ পৃষ্ঠার পর

পাড়া থেকে ১ পরিবার, মনইয়ম পাড়ার ১ পরিবার এবং তেচ্চা পাড়ার ৬টি পরিবার নিয়ে মোট ১৮টি পরিবার এ পর্যন্ত দেশত্যাগ করেছে। সম্প্রতি মায়ানমারে অনুপ্রবেশকালে মায়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পাতানো স’লমাইন বিষ্ফোরণে ১ জন নিহত হয়েছে এবং একই পরিবারের নারী শিশুসহ আরো ৩ জন আহত হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আলীকদমে দায়িত্বরত ৫৭ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন (বিজিবি)র অধিনায়ক লে. কর্নেল হোসেন রেজা বলেন, একটি পাড়ায় ১০টি পরিবার ছিল, তার মধ্যে ৯টি পরিবারসহ বেশ কিছু পরিবার মিয়ানমার চলে গেছে বলে আমরা খবর পেয়েছি। বিশেষ করে ক্ষরা মৌসুমে পাহাড়ে খাদ্য সংকট থাকে। তাছাড়া মিয়ানমার সরকার তাদেরকে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দেবে; এ ধরনের কিছু গুজবের কারণে তারা দেশ ত্যাগের মত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। তবে বিজিবির পক্ষ থেকে তাদেরকে বোঝানো হচ্ছে এবং বহির্গমন প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস’া নেওয়া হচ্ছে।
উপজেলার ৪ নম্বর কুরুক পাতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ম্রো বলেন, প্রতিয়িতই মুরুং পরিবারগুলো মায়ানমারের দিকে ধাবিত হচ্ছে। সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করে অনেকেই ফেরত আসলেও আমার জানা মতে এ পর্যন্ত ১৮টি পরিবার মায়ানমার চলে গেছে। আমি বিষয়টি জানার পর থেকে বিভিন্ন পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে মায়ানমার যাওয়ার বিষয়ে লোকজনকে নিরুৎসায়িত করে আসছি। আমি মনে করি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আরো দৃঢ় ভূমিকা পালন করা উচিত। যাতে কোন অবস’ায় একজন লোকও সীমান্ত পাড়ি দিতে না পারে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি দিলে এ পরিসি’তি থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব হবে।