মিয়ানমারকে চাপ দিতে জাতীয় সংসদে প্রস্তাব গ্রহণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের সৃষ্টি হয়েছে মিয়ানমারের হাতে, তাই তাদেরকেই এই সমস্যার সমাধান করতে হবে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া সব শরণার্থীদের ফিরিয়ে নিয়ে তাদের জন্য নিরাপদ এলাকা গঠন করে তাদের সুরক্ষা দিতে হবে। এবং কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে হবে। গত সোমবার জাতীয় সংসদে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে এসব কথা বলেন। রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা বা আর্থিক সুবিধা নেওয়ার বিরুদ্ধে তিনি সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন। প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা নারী-শিশু-বৃদ্ধের ওপর অমানুষিক নির্যাতনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
জাতীয় সংসদে আলোচনার পর রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিয়ে নাগরিকত্ব প্রদান, জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তোলা এবং আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে বিশ্বসম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বানসম্বলিত একটি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।
বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ঢাকায় অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের প্রতিনিধিদের রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে অবহিত করেছে, বিদেশী কূটনীতিকবৃন্দ এই ইস্যুতে বাংলাদেশের গৃহীত পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন।
আমরা আশা করি, এ মাসে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিশ্ব সম্প্রদায় এই ইস্যুতে সোচ্চার হবেন এবং একটি সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্ন করার মিয়ানমারের ফ্যাসিবাদি অপচেষ্টার বিরুদ্ধে নিন্দা জানাবেন।
আমরা রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘের ভূমিকার প্রশংসা করি, সংস্থাটি সংস্থার নীতিমালার আলোকে স্পষ্ট ও জোরালো ভূমিকা নিয়েছে। কফি আনান নেতৃত্বাধীন রাখাইন কমিশনের সুপারিশগুলি যাতে মিয়ানমার সরকার বাস্তবায়ন করে সে ব্যাপারে সাধারণ পরিষদ প্রস্তাব নেবে বলে বাংলাদেশ আশা করে। আমরা চাই রাশিয়া এবং চীন রোহিঙ্গা সমস্যায় বাংলাদেশ ও বিশ্বসম্প্রদায়ের অনুভূতির প্রতি সমর্থন জানাবে এবং ‘ভেটো’ প্রয়োগের নীতি থেকে সরে আসবে। আমরা আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের কাছ থেকে দৃঢ় সমর্থন ও সমযোগিতা প্রত্যাশা করি। রোহিঙ্গা সমস্যাটি বাংলাদেশের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। এ সমস্যা বাংলাদেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও গণতান্ত্রিক-মানবিক সমাজ গঠনের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তাই এ ব্যাপারে জাতির ঐক্যবদ্ধ সচেতন ভূমিকা জরুরি।