মির্জা ফখরুলের গাড়িবহরে হামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
Attack_Spot_Mirza-fokrul-(2)

পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ দিতে রাঙামাটি যাওয়ার পথে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা ইছাখালী এলাকায় হামলার শিকার হয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে থাকা দলটির একটি প্রতিনিধিদল। গতকাল শনিবার বিকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
৩০-৪০ জন সশস্ত্র যুবক লাঠিসোটা, হকিস্টিক, রামদা ও পাথর নিয়ে মির্জা ফখরুলকে বহনকারী গাড়িতে ভাঙচুর চালায়। এতে গাড়ির সামনে চালকের আসনের পাশে বসা মির্জা ফখরুল এবং পেছনে বসা বিএনপির স’ায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুর রহমান শামীম আহত হন।
রাঙামাটির দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে বিএনপি প্রতিনিধি দলের সদস্যরা সকালে চট্টগ্রাম থেকে সড়কপথে কাপ্তাইয়ের পথে রওনা হন। সেখান থেকে নৌপথে তাদের রাঙামাটি যাওয়ার কথা ছিল।
জানা গেছে, হামলার পর আতঙ্কিত হয়ে স’ানীয় একটি মসজিদে আশ্রয় নেন মির্জা ফখরুল ও আমীর খসরু। অন্য নেতারা ছুটে যান পার্শ্ববর্তী একটি এতিমখানায়।
হামলার পর রাঙামাটি যেতে না পেরে চট্টগ্রামে ফিরে আসে মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের প্রতিনিধি দলটি। দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে পৌঁছে সংবাদ সম্মেলন করেন তারা।
ঘটনরা বর্ণনা দিয়ে সাংবাদিকদের মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা রাঙ্গুনিয়া থানা পার হয়ে গেছি; রাঙ্গুনিয়ার ইছাখালী বাজারে পৌঁছে দেখি প্রচণ্ড বৃষ্টি। হঠাৎ করে আমরা দেখলাম, ৩০-৪০ যুবক লাঠিসোটা, হকিস্টিক, রামদা ও পাথর নিয়ে আমাদের গাড়িতে আক্রমণ করলো। তারা অনবরত হকিস্টিক ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে গাড়ির কাঁচ ভেঙে ফেলে। শামীমের (কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান) মাথায় আঘাত করে। তার মাথা ফুলে গেছে। আমীর খসরু সাহেবের হাত রক্তাক্ত হয়েছে। রুহুল আলম চৌধুরী সাহেবের ঘাড়ে আঘাত লেগেছে। আমিও আঘাত পেয়েছি।’
কার কী আঘাত লেগেছে, ব্যক্তিগতভাবে সেটা বড় কথা নয় বলে উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘এই আঘাত গণতন্ত্রের প্রতি, বাংলাদেশের রাজনীতিতে মুক্তচিন্তা যারা করেন, যারা এই সরকারের খারাপ কাজগুলোর বিরোধিতা করেন এবং গণতন্ত্রের প্রতি সোচ্চার হন তাদের প্রতি। এ আঘাত জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ওপর। এই আঘাতের পর আজকে আওয়ামী লীগের চরিত্র আরো বেশি উন্মোচিত হয়েছে। আওয়ামী লীগ সব সময় গণতন্ত্রের কথা বলে। কিন’ তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। সহনশীলতা বলতে তাদের মধ্যে কোনো কিছু নেই।’
এই হামলা ‘অবিশ্বাস্য’ মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা তো সেখানে কোনো জনসভা করতে যাইনি। আমাদের পার্টির মিটিংও করতে যাইনি। যারা নিহত হয়েছেন, সেসব পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানাতে যাচ্ছিলাম। সেই পথে এভাবে আক্রমণ, এটা আমাদের কাছে দুঃস্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে। এটা অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে। আমাদের পর্যায়ে যদি আক্রমণ হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের অবস’া কী, সেটা আপনারা বুঝে নিন।’
হামলাকারী যুবকরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়েছিলেন বলে তিনি জানান।
আমীর খসরু এ হামলার জন্য রাঙ্গুনিয়া এলাকার স’ানীয় সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা হাছান মাহমুদের লোকজনকে দায়ী করেন। তবে হাছান মাহমুদ একটি অনলাইন বার্তা সংস’াকে বলেছেন, বিএনপি নেতাদের গাড়ির ধাক্কায় দুজন আহত হওয়ার পর স’ানীয় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ হয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ সোমবার জেলা ও মহানগরে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে বিএনপি।
এ হামলার ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত সেটা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে একটি অনলাইন বার্তা সংস’াকে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) নুরে আলম মিনা। এ ঘটনার পর পুলিশ মহাপরির্দশক (আইজিপি) টেলিফোন করে ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান এসপি।