মির্জা ফখরুলের গাড়িবহরে হামলা : দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করা হোক

পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ দিতে রাঙামাটি যাওয়ার পথে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনীয়া উপজেলার ইছাখালী এলাকায় হামলার শিকার হয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে থাকা সাত সদস্যের প্রতিনিধিদল।
গত শনিবার সকালের দিকে প্রতিনিধিদের বহনকারী গাড়িতে হামলা চালায় ৩০ থেকে ৪০ জন সশস্ত্র যুবক। এসময় তাদের হাতে লাঠিসোটা, হকিস্টিক, রামদা ও ইট-পাটকেল ছিল। হামলায় মির্জা ফখরুল, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী ও মাহবুবুর রহমান শামীম আহত হন।
রাঙামাটির সাথে দেশের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত না হওয়ায় তাঁরা চট্টগ্রাম থেকে সড়কপথে কাপ্তাইয়ের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। সেখান থেকে নৌপথে তাদের রাঙামাটি যাওয়ার কথা।
এই ঘটনার পর প্রতিনিধিদল কাপ্তাই না গিয়ে চট্টগ্রামে ফিরে আসেন এবং দুপুরে প্রেসক্লাবে আয়োজিত তাৎক্ষণিক সাংবাদিক সম্মেলনে ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন। তাঁরা এই হামলার জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করে এই আক্রমণকে গণতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ওপর আক্রমণ বলে দাবি করেন।
একইদিন সন্ধ্যায় ঢাকায় এক ইফতার অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াও এই ঘটনার জন্য ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগকে দায়ী করেন এবং দোষীদের গ্রেফতার না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তবে রাঙ্গুনীয়ার স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক পরিবেশমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের মির্জা ফখরুলের ওপর হামলাকে অন্যায় বলে উল্লেখ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন।
ঘটনাটি যারাই ঘটিয়ে থাকুক তা নিঃসন্দেহে নিন্দনীয় ও ন্যক্কারজনক। এই ঘটনা সুস্থ রাজনীতি ও গণতন্ত্রের জন্য মঙ্গলজনক নয়। দেশের একটি অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দলের নেতাদের ওপর এমন প্রকাশ্য আক্রমণ দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের চরম দৈন্যকে তুলে ধরছে। কার ইঙ্গিতে, আশ্বাসে এবং প্ররোচনায় দুর্বৃত্তরা এমন নিন্দনীয় কাজ করেছে তা খতিয়ে দেখা দরকার। স্থানীয় সাংসদ তার দলের লোকদের প্রতি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, তাহলে এই ঘটনা কারা এবং কী উদ্দেশে করেছে তা খতিয়ে দেখার বিষয়ে তাকেই সবচেয়ে বেশি উদ্যোগী হতে হবে।
তাছাড়া ঘটনা ঘটেছেও তার নির্বাচনী এলাকায়। বেশ কিছু ইস্যু নিয়ে বর্তমানে সরকার বিব্রতকর পরিস্থিতিতে আছে। এরমধ্যে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের ওপর হামলার ঘটনা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করবে। সরকারের ভূমিকা সমালোচনার মধ্যে ফেলবে। বিএনপি নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল নয়। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অধিকার তাদেরও আছে। তাদেরকে তাদের নিজস্ব কার্যক্রম পরিচালনা করার ক্ষেত্রে বাধা দেওয়া যাবে না। কাজেই রাঙ্গুনীয়ার এই ঘটনার নিন্দা না করে উপায় নেই। আমরা আশা করব পুলিশ দ্রুত তদন্ত করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনবে।