মিরসরাই চুলের ফেরিওয়ালা!

রাজু কুমার দে, মিরসরাই

চুল আছে, চুল। প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেলে পর্যনত্ম মহিলাদের চুল  কেনার জন্য গ্রামে গ্রামে এভাবে চিৎকার করে অনেক ফেরিওয়ালা। অপ্রয়োজনীয় চুলের বিনিময়ে মহিলারা গৃহস’ালী ব্যবহার্য জিনিসপত্র ক্রয় করে থাকেন। কিন’ অনেকে জানে না এই চুলের বাজার মূল্য কত? কিংবা এই চুল কোথায় যায়? কিভাবে বিক্রি হয়? গত রবিবার চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার হিঙ্গুলী ইউনিয়নের পূর্ব হিঙ্গুলী গ্রামে চুল কিনতে আসা তৌফিকুর রহমানের সাথে কথা হয়। তার বাড়ি নাটোরে। সে ফেনী শহরে স্ত্রী সনত্মান নিয়ে ভাড়া থাকে। ফেরি করে চুল ক্রয় করে মিরসরাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে। সে জানায়, তার মতো আরো শতাধিক ফেরিওয়ালা মিরসরাইয়ের বিভিন্ন গ্রাম থেকে চুল ক্রয় করে থাকেন। প্রতিদিন ১ থেকে ২ কেজি চুল ক্রয় করতে পারেন। ওই চুল ঢাকার নারায়ণগঞ্জে পাইকারদের কাছে বিক্রি করেন। প্রতি কেজি চুল মানভেদে ২ থেকে ৪ হাজার টাকা বিক্রি হয়ে থাকে। ওই চুল দেশের বাইরে বিক্রি করে পাইকাররা। হিসেব মতে, দৈনিক একশ জন ফেরিওয়ালা কমপড়্গে দেড়শ থেকে ২শ কেজি চুল ক্রয় করে থাকে। ফলে দৈনিক প্রায় ৪ লাখ টাকার চুল বিকিকিনি হয়। মাসে লেনদেন হয় কোটি টাকা। তিনি আরো জানান, চুলের বিনিময়ে গ্রামের গৃহবধূরা গৃহস’ালী জিনিসপত্র ক্রয় করে থাকেন। প্রতিদিন চুলের বিনিময়ে গৃহস’লী জিনিসপত্র বিক্রি করে প্রায় ১ থেকে দেড় হাজার টাকা লাভ হয়। হিঙ্গুলী ইউনিয়নের পূর্ব হিঙ্গুলী গ্রামের গৃহবধূ তমা রানী দে জানান, প্রতিদিন মাথা আঁচড়ানোর পর কিছু চুল চিরম্ননীতে উঠে আসে। আগে চুলগুলো ফেলে দিলেও এখন তা জমিয়ে রাখেন। পরে চুলগুলো বিক্রি করে গৃহস’ালী জিনিসপত্র ক্রয় করেন। মিরসরাই উপজেলা চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন জানান, প্রতিদিন ঠিক কত জন ফেরিওয়ালা চুল ক্রয় করেন তা তিনি জানেন না। তবে গ্রামে গ্রামে ফেরি করে চুল ক্রয় করতে তিনি দেখেছেন।