মিরসরাই উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষার হতাশাপূর্ণ চিত্র

প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা অনবরত চলছে। সিলেবাস প্রণয়ন, শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ-পাঠদান, এসব অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে প্রতিদিন। নানা ধরনের কমিটি আছে প্রাথমিক শিক্ষার নানা আয়োজন নিয়ে, তারপরও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
প্রাথমিকে শিক্ষার মান যথাযথ না হওয়ায় মাধ্যমিক কিংবা উচ্চ শিক্ষা ক্ষেত্রে মানসম্মত শিক্ষা অর্জন দুরূহ হয়ে পড়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে গুণগত মান নিশ্চিত করতে যে সব উপাদান প্রয়োজন তার ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে প্রয়োজনীয়সংখ্যক শিক্ষক না থাকা, পাঠদান ও ব্যবস্থাপনায় মনিটরিং যথাযথ না হওয়া, অবকাঠামোগত দুর্বলতা, সর্বোপরি যথার্থ শিক্ষা পেতে শিক্ষার্থীদের জন্য যে আনন্দময় পরিবেশ, শিক্ষকদের সাহচর্য প্রয়োজন তার ঘাটতি রয়েছে প্রায় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।
মিরসরাই উপেজলার প্রাথমিক শিক্ষার হালচাল নিয়ে আমাদের পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। বলা হয়েছে, উপজেলার ১৯১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬১টি অর্থাৎ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক নেই, শতাধিক সহকারি শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা মনিটরিং করেন সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাগণ, এ ধরনের ৯ কর্মকর্তার পদ থাকলেও আছেন মাত্র ২ জন, ৭ জনের পদ খালি।
প্রধান শিক্ষককে নানা দাফতরিক এবং শিক্ষাবহির্ভূত সরকারি নানা কাজের দায়িত্ব পালন করতে হয়, এমন কি সহকারি শিক্ষকদেরও এ ধরনের নানা কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। ফলে প্রয়োজনীয় শিক্ষক না থাকা এবং শিক্ষকদের নানা দাফতরিক কাজে ব্যস্ত থাকায় পাঠদানে বিঘ্নও ঘটে। শিক্ষকদের যেখানে ছাত্র-ছাত্রীদের সাহচর্য কিংবা তাদের খোঁজখবর নিতে যত্নবান হওয়ার কথা তাতে ব্যাঘাত ঘটছে। তদুপরি শিক্ষকদের মধ্যে নানা ধরনের রাজনীতি, গ্রুপিংও থাকে, আবার স্কুল ম্যানেজিং কমিটি দায়িত্ববান না হলে স্কুলের সামগ্রিক বিষয়ে নজরদারিও যথাযথ হয় না। সরকার দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণ করেছে, এতে শিক্ষকদের বেতনভাতা নিশ্চিত হয়েছে, নিজ এলাকার কাছাকাছি নিয়োগ পাবার দিকটিও গুরুত্ব পেয়েছে, এর পরও পাঠদানে উন্নতি ঘটছে না। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী অনুপাতে শিক্ষক কম, এখন শতভাগ শিশু স্কুলে যাচ্ছে, তাই প্রতিটি স্কুলে শিক্ষকের সংখ্যা বাড়ানো, সেই সাথে শূন্যপদ অবিলম্বে পূরণ করা জরুরি।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দাফতরিক কাজের জন্য সহকারীর পদ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।
সরকার প্রাথমিক শিক্ষা ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত করার লক্ষ্য রেখেছে কিন্তু অবকাঠামো, শিক্ষক নির্বাচন, পাঠ্যক্রম নির্ধারণ এবং স্কুলের জন্য সুবিস্তৃত পরিসর এসব বিষয়গুলি নিয়ে এখনো কোন প্রস্তুতি নেই। প্রাথমিক শিক্ষা মানসম্পন্ন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া এবং শৈশবে শিক্ষার্থীদের জীবনের ভিত গড়ে তুলতে যে সব আয়োজন থাকা চাই, তার সকল ব্যবস্থাদি সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিতে হবে। এখানে কোনরূপ ফাঁক থাকা ও ফাঁকি দেওয়া চলবে না।