পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের

মিরসরাইয়ে জমিবিরোধের জের ধরে ঘর ভাঙচুর, আটক ৪

নিজস্ব প্রতিনিধি, মিরসরাই

মিরসরাইয়ে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে প্রতিপক্ষের বসতঘর ভেঙে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পুলিশ উভয়পক্ষের ৪জনকে আটক করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে। এদিকে ঘটনার সময় উপসি’ত হওয়া বিক্ষুব্ধ জনতা সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছে। ২৪ অক্টোবর সোমবার দুপুর দেড়টায় উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়ননের বিষুমিয়ারহাট এলাকার গোবিন্দপুর গ্রামের টুকু সওদাগর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার দুপুরে স’ানীয় মো. হানিফ, মাসুদ, মো. ফারুক, শাহজাহান, লিলি বেগম ও ছালেহা বেগম জানান, ওই বাড়ির আলমগীর (৬৫)-এর সাথে পাশের ঘরের সুলতানা আক্তারের ঘরের ভিটেমাটি ও অন্যান্য জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত বিরোধ চলে আসছিল। সম্প্রতি এঘটনা নিয়ে থানায় এবং স’ানীয়ভাবে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এক পর্যায়ে সুলতানার অংশের ঘরটি মেরামত করার জন্য ভাঙা হয়। এদিকে এ সুযোগে সেখানে প্রায় ৫-৬ হাত জায়গায় আলমগীর নতুন করে ঘর নির্মাণ করেন।
ঘর নির্মাণ করাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। ঘটনার দিন বারইয়ারহাট থেকে ছাত্রলীগ নামধারী ওমর ফারুকের নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক গিয়ে সুলতানার ঘরে অবস’ান নেয়। পরে দুপুর দেড়টার সময় মুসল্লিরা যখন নামাজে যায় এবং বাড়ির মহিলারা নাওয়া-খাওয়া নিয়ে ব্যস্ত ঠিক সে সময় ফারুকের নেতৃত্বে অজ্ঞাত যুবকেরা ঘরটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। পরে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি মসজিদের মাইকে ওদের ডাকাত বলে ঘোষণা দিলে মুহুর্তের মধ্যে শত শত নারীপুরুষ ওই বাড়িতে জড়ো হতে থাকে। ঘটনার প্রেক্ষাপট দেখে ফারুক ও অন্যেরা ফের সুলতানার ঘরে আশ্রয় নেয়। পরে স’ানীয়রা ফারুকের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি পুড়িয়ে দেয়। খবর পেয়ে স’ানীয় চেয়ারম্যান মকছুদ আহমদ চৌধুরী এবং ইউপি সদস্য আবুল খায়ের ঘটনাস’লে গিয়ে স’ানীয়দের উপযুক্ত বিচারের আশ্বাস দেন। পরে পুলিশ এসে সুলতানার ঘর থেকে ফারুক ও অন্যদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এবিষয়ে জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মকছুদ আহদম চৌধুরী বলেন, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস’লে ছুটে যাই। ওই সময় পরিসি’তি খুব খারাপ ছিল। উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করে পরিসি’তি নিয়ন্ত্রণে আনি।
বিষয়টি নিয়ে প্রতিপক্ষের সুলতানার সাথে কথা বলার জন্য তার ঘরে সন্ধান করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটিও বন্ধ ছিল।
জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুল কবির বলেন, খবর পেয়ে আমি থানা থেকে ফোর্স পাঠিয়েছি। উভয়পক্ষের দুজন করে চারজনকে আটক করে জেল হাজতে পাঠিয়েছি। উভয়পক্ষ বাদি হয়ে থানায় দুটি মামলা করেছে। বর্তমানে পরিসি’তি শান্ত রয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন