মিতু হত্যা মামলা : আরেক খালাত ভাইকে দেড় ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

চাঞ্চল্যকর মিতু হত্যা মামলায় সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আকতারের আরেক খালাত ভাই সফিউদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা নগর ডিবির অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. কামরুজ্জামান। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে নগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে তাকে প্রায় দেড় ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সফিউদ্দিন নগরের ইপিজেড এলাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কামরুজ্জামান গতকাল মঙ্গলবার রাতে সুপ্রভাতকে বলেন, ‘মিতু হত্যা মামলায় বাদির (বাবুল আকতার) খালাত ভাই সফিউদ্দিনকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। আত্মীয় হিসেবে সফিউদ্দিন নিয়মিত বাদির বাসায় যাতায়াত করতেন। হত্যাকাণ্ডের দুই সপ্তাহ আগেও সর্বশেষ বাবুল আকতারের বাসায় গিয়েছিলেন সফিউদ্দিন। মিতু খুনের ঘটনা নিয়ে নানা বিষয়ে সফিউদ্দিনের সঙ্গে কথা হলেও তদন্তের স্বার্থে তা বলা যাচ্ছে না।’
৮ জানুয়ারি বাবুল আকতারের আরেক খালাত ভাই মফিজকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অতিরিক্ত উপকমিশনার কামরুজ্জামান। এর আগে গত ১৫ ডিসেম্বর বাবুল আকতার, ২২ ডিসেম্বর তার শ্বশুর মোশাররফ হোসেন এবং চলতি বছর ১ জানুয়ারি বাবুল আকতারের মা-বাবাকে নিজ কার্যালয়ে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এডিসি কামরুজ্জামান।
গত ৫ জুন সকালে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় নগরের ও আর নিজাম রোডে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাত ও গুলিতে নিহত হন সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আকতারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। এ ঘটনায় বাবুল আকতার বাদি হয়ে পাঁচলাইশ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
হত্যাকাণ্ডের পর চলতি বছর ২৪ জুন রাতে বাবুল আকতারকে ঢাকার বনশ্রী এলাকায় তার শ্বশুরের বাসা থেকে নিয়ে গিয়ে টানা ১৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। মামলার বাদিকে আসামির মতো তুলে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করায় হত্যাকাণ্ডের কারণ নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
মিতু হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই মামলার দুইজন আসামি রাশেদ ও নবী রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। দুই আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। তারা আদালতকে জানিয়েছেন, মুছার নির্দেশে ও তদারকিতে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন