উচ্চারকের কাঁদতে আসিনি অনুষ্ঠানে আলোচকরা

মাহবুব উল আলমের মতো বোধসম্পন্ন মানুষ এখন বিরল

বিজ্ঞপ্তি

‘বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার বাতিঘর কবি মাহবুব উল আলম চৌধুরী জাতীয় ইতিহাসের অন্যতম ভাষ্যকার। তার প্রতিটি লেখায় যেমন বিষয়টি তীব্রভাবে আমরা দেখতে পাই, তেমনি তার ব্যক্তিগত চর্চা ও চরিত্রের মধ্যেও আমৃত্যু তারই স্পস্ট উপসি’তি ছিল।’
নগরীর জেলা শিল্পকলা একাডেমির আর্ট গ্যালারি হলে বুধবার সন্ধ্যায় দেশের অন্যতম আবৃত্তি ও মনন চর্চার সংগঠন উচ্চারক আবৃত্তি কুঞ্জ আয়োজিত ‘কাঁদতে আসিনি’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে আলোচকরা এসব কথা বলেন।
কবি মাহবুব উল আলম চৌধুরীর ৯২তম জন্মদিনের অনুষ্ঠান হলেও সমগ্র আয়োজন উৎসর্গ করা হয়েছে সদ্যপ্রয়াত বরেণ্য আবৃত্তিশিল্পী রণজিত রক্ষিতের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে।
উচ্চারক সভাপতি আবৃত্তিশিল্পী ও সাংবাদিক ফারুক তাহেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি আলোচক হিসেবে এই অনুষ্ঠানে কবির জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা করেন কবি, সাংবাদিক ও সংগঠক রাশেদ রউফ, সাংবাদিক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাছুম আহমেদ, উচ্চারকের শুভানুধ্যায়ী পরিষদের সদস্য, কবি ও নাট্যজন স্বপন মজুমদার।
অনুষ্ঠানে রাশেদ রউফ বলেন, কবি মাহবুব উল আলম চৌধুরী ছিলেন সময়ের অন্যতম একজন প্রজ্ঞাবান এবং পথপ্রদর্শক ব্যক্তি। তিনি কেবল একুশের প্রথম কবিতা লিখে কিংবদন্তি হয়েছেন তা নয়, ইতিহাসের ক্রান্তিলগ্নের প্রতিটি বাঁকেই তাকে দেখা গেছে আলোকবর্তিকার মতো। এই ধরনের মানুষগুলোকে নিয়মিতই চর্চা করতে হবে আমাদেরই প্রয়োজনে।
মাছুম আহমেদ তার বক্তব্যে বলেন, মাহবুব উল আলম চৌধুরীর মত স্পস্টভাষী মানুষ সমাজে খুব কমই দেখা যায়। তিনি ভেতরে যেটা বিশ্বাস করতেন, বাইরে সেটাই প্রকাশ এবং লালন করতেন। দেশের বর্তমান রাজনীতি কিংবা সংস্কৃতিতে তার মতো অকপট চরিত্রের বোধসম্পন্ন মানুষ এখন বিরল।
কবি ও নাট্যজন স্বপন মজুমদার বলেন, একজন মানুষ তার রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক আদর্শে অটুট থেকে মাথা উঁচু করে যে বেঁচে থাকতে পারেন, তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ কবি মাহবুব উল আলম চৌধুরী। চরিত্রে আপোষকামিতার কোন চিহ্ন না রেখে যিনি চট্টগ্রাম তথা সমগ্র দেশের প্রগতিশীল আন্দোলনের পুরোভাগে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
উচ্চারক সদস্য এ্যানি চৌধুরী ও ফারহিন মাহমুদ খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে কবি মাহবুব উল আলমের কবিতা আবৃত্তি করেন আবৃত্তিশিল্পী অঞ্চল চৌধুরী, মিলি চৌধুরী, এ এস এম এরফান, মৌসুমী চক্রবর্তী, শামীমা ইয়াছমিন, তৈয়বা জহির আরশি, শ্রাবণী দাশগুপ্তা, আল ইমরান, হাসান জাদিদ মাশরুখ, পুনম দত্ত, দীপা দাশ, অর্মিকা বিশ্বাস, রাকিব রায়হান, রেহানা আক্তার রিমা, তানিম চৌধুরী, বিজয় চক্রবর্তী ও কবির নাতনি তাসরিন চৌধুরী। কবির বিখ্যাত কবিতা ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ কবিতাটির পূর্ণাঙ্গ বৃন্দ পরিবেশন করেন উচ্চারকের সদস্যরা।