ড্রিমার অভিবাসীদের ভাগ্য নির্ধারণ

মার্কিন সিনেটে বিতর্ক শুরু

সুপ্রভাত বহির্বিশ্ব ডেস্ক

অন্তত ৭ লাখ ‘ড্রিমার’ অভিবাসীর ভাগ্য নির্ধারণে ‘উন্মুক্ত’ বিতর্ক শুরু করেছে মার্কিন সিনেট। সোমবার সন্ধ্যা থেকে এ বিতর্ক শুরু হয় বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস’া রয়টার্স। খবর বাংলাট্রিবিউন।
যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ তরুণ অভিবাসীদের সামাজিক সুরক্ষায় সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ঘোষিত ‘ড্রিমার কর্মসূচি’ পরিচালনায় বরাদ্দ অর্থ নিয়ে বিভক্ত ছিল মার্কিন সিনেট। ওই কর্মসূচির আওতায় থাকা সাত লাখ তরুণ-তরুণীর ব্যাপারে কোনও স’ায়ী সমাধানকে সমঝোতার শর্ত হিসেবে তুলে ধরেছিল ডেমোক্র্যাটরা। এ নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে মতানৈক্যের জেরে ৩ দিন শাট ডাউনে থাকে মার্কিন সরকার। তবে রিপাবলিকান নেতা ম্যাককনেলের দেওয়া ভবিষ্যত বিতর্কের মৌখিক প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে সরকার সচলে ডেমোক্র্যাট সিনেটররা অস’ায়ী বাজেট পাসে সম্মত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ড্রিমারদের ভাগ্য নির্ধারণে সিনেটে সোমবার থেকে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস’া রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, সিনেট বিতর্কে তিনটি বিষয় প্রাধান্য পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। সেগুলো হলো:
যেসব ড্রিমার সুনির্দিষ্ট শর্তগুলো পূরণ করতে পারবে এবং পূর্ব ইতিহাস যাচাই প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে তাদের সুরক্ষায় ‘ড্রিম অ্যাক্ট’ আইন প্রণয়ন। এর আওতায় ড্রিমারদের ১৩ বছরের মধ্যে নাগরিকত্ব প্রাপ্তির পথ খুলে যাবে।
হোয়াইট হাউস ঘোষিত ‘চার স্তম্ভ’ও আলোচনায় প্রাধান্য পাবে। এর আওতায় ১৮ লাখ ড্রিমারকে সুরক্ষা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কিন’ এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত দেয়াল নির্মাণে তহবিল চাইছেন ট্রাম্প। পাশাপাশি ভিসা লটারির বন্ধ এবং আত্মীয়তা সূত্রে অভিবাসন ভিসা প্রদানে কঠোরতা আনতে চান তিনি। রিপাবলিকান সিনেটর জন ম্যাককেইন এবং ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর ক্রিস কুনের একটি দ্বিদলীয় বিলেও এ ধরনের কয়েকটি মতামতের মিশ্রণ আছে। শৈশবে বাবা-মায়ের সঙ্গে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো অভিবাসীদের কাজের অনুমতি দিতে ‘ড্রিমার’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল ওবামা প্রশাসন।
এর আওতায় কয়েক লাখ অবৈধ অভিবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো থেকে বিরত ছিল হোয়াইট হাউস। এ কর্মসূচির দাফতরিক নাম ‘ডেফারড অ্যাকশন ফর চিলড্রেন অ্যারাইভাল’ (ডিএসিএ)। এর সুযোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস,পড়াশোনা ও কর্মসংস’ানের সুযোগ পান প্রায় ৭ লাখ তরুণ। এই তরুণদের বলা হয় ‘ড্রিমার’। তবে গত সেপ্টেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পটি সমাপ্তির ঘোষণা দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। এর মধ্য দিয়ে মার্চ থেকে বিতাড়িত হওয়ার হুমকিতে পড়েন ড্রিমাররা।
সোমবার সন্ধ্যায় রিপাবলিকান সিনেটর জন করনিন বিতর্ক দ্রুত শেষ করার তাগিদ দিয়েছেন। সাংবাদিকদেরকে তিনি বলেন, ‘এ সপ্তাহে না হলে আর কখনওই নয়।’ তার মতে, আগামী সপ্তাহে কংগ্রেসনাল অবকাশ শুরুর আগেই এবং বৃহস্পতিবারের মধ্যে বিতর্ক শেষ করতে হবে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর ডিক ডারবিনের আশা, সিনেটের ৪৯ ডেমোক্র্যাট ও স্বতন্ত্র সদস্যদের মধ্যে সমন্বয় হবে। ১১ জন রিপাবলিকানও তাদের সঙ্গে যোগ দেবে। এতে বিলটি পাস করানো সহজ হবে। তবে এ আশাকে অবাস্তব বলে উল্লেখ করেছেন করনিন। তিনি বলেন: ‘তারা যদি মনে করে সংখ্যাগরিষ্ঠ ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে গুটিকয়েক রিপাবলিকানকে নিয়ে হাউসে বিল পাস করাবে এবং প্রেসিডেন্ট তাতে স্বাক্ষর করবেন, তবে আমি মনে করি তা অবাস্তব।’
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারের সময় থেকেই অবৈধ অভিবাসী ঠেকাতে মেক্সিকো সীমান্তে প্রাচীর তোলার কথা বলে আসছেন ট্রাম্প। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটরা অভিবাসীদের বিরুদ্ধে নির্বিচারে কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার বিরোধী। এ ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের দীর্ঘদিন ধরে টানাপড়েন চলছে। ২০১৫ সালের এক হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসী ১ কোটি ১০ লাখ। সমপ্রতি ট্রাম্প ঘোষিত অভিবাসন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৮ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে মার্কিন নাগরিকত্ব দানে ১০ থেকে ১২ বছরের একটি রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। ওই অভিবাসীদের মধ্যে রয়েছে প্রায় সাত লাখ ‘ড্রিমার’, যারা ছোটবেলায় অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অনুপ্রবেশ করেছিল। তারা সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলের ডেফারড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যারাভাইলস (ডাকা) কর্মসূচির অধীনে প্রত্যাবাসন থেকে রেহাই পেয়ে আসছে। বাকি ১১ লাখ হচ্ছে ‘ডাকা’র জন্য আবেদন করেনি, কিন’ এর আওতাভুক্ত হওয়ার যোগ্য এমন অভিবাসী।
সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প ড্রিমার কর্মসূচি বাতিল করার পর ৫ মাচ থেকে ড্রিমার অভিবাসী বিতাড়ন শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন’ একটি ফেডারেল আদালত ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রুল জারি করে। পরে সুপ্রিম কোর্টের শরণাপন্ন হয় ট্রাম্প প্রশাসন। ওই আবেদনটি কিভাবে বিবেচনা করা হবে তা নিয়ে শুক্রবার ৯ বিচারপতি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। আদালত যদি মামলাটির শুনানি করার সিদ্ধান্ত নেয় তবে এ ব্যাপারে শুক্রবার দুপুরেই ঘোষণা আসতে পারে। আর সিদ্ধান্ত জানানো হবে জুনের শেষে।