চট্টগ্রাম অঞ্চলের বাজেট শুনানি ২০১৭-১৮ অনুষ্ঠানে বক্তারা

মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে বাজেট বাড়ানো দরকার

‘উন্নয়ন অগ্রাধিকার চিহ্নিত করার জন্য জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পর্যায় থেকে পরিকল্পনা ও বাজেট তৈরির কাজ শুরু করা দরকার। বিশেষত অনুন্নত অঞ্চলের প্রতি বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে আঞ্চলিক বৈষম্য দূর করতে সরকারকে আরো কিছু উদ্যোগী ভূমিকা নিতে হবে। সেইসাথে বাজেট ডকুমেন্টকে সাধারণ মানুষের বোধগম্য করে উপস’াপন করার প্রয়োজন রয়েছে। জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনার সময়সীমা আরো বাড়ানো উচিত যাতে সংসদ সদস্যগণ দীর্ঘ সময় নিয়ে সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিতে পারেন। বাজেটে জনমতামতের কার্যকরী প্রতিফলন ঘটাতে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-এসডিজি ও ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সকল শ্রেণী-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন কমর্কাণ্ডে জাতীয় পরিকল্পনা ও বাজেট একটি অত্যাবশ্যকীয় নীতি নির্ধারণী বিষয় যেখানে দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষ এবং তাদের নির্বাচিত আইনপ্রণেতা ও অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ অতি প্রয়োজনীয়। গত কয়েক বছর ধরে জাতীয় পরিকল্পনা ও বাজেট সম্পর্কিত সংসদীয় ককাস বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়ার নীতিগত সমস্যা এবং বাজেটে জনগণের প্রত্যাশা নিয়ে জাতীয় সংসদে কথা বলে যাচ্ছে। নগর দরিদ্রদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা বলয় তৈরি করা প্রয়োজন। প্রতিবন্ধী, উপকূল-চর-হাওর অঞ্চলের জনগোষ্ঠীসহ অন্য সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য জাতীয় বাজেটে বিশেষ কর্মসূচি থাকা দরকার। শিক্ষা, স্বাস’্য, কৃষি, সামাজিক নিরাপত্তা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে বাজেট বাড়ানো দরকার। কর্ণফুলীকে রক্ষার জন্য সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। কর্ণফুলীর দূষণ ও দখল রোধে কার্যকরী পদক্ষেপ ও বরাদ্ধ রাখতে হবে। কারণ কর্ণফুলী বাঁচলে বন্দর বাঁচবে এবং বন্দর বাঁচলে দেশ বাঁচবে। বিশ্বের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হালদা নদীকে রক্ষার জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে’।
জাতীয় পরিকল্পনা ও বাজেট সম্পর্কিত সংসদীয় ককাস ও গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলন-এর ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বাজেট শুনানি ২০১৭-১৮ অনুষ্ঠানে বক্তারা উপরোক্ত মতামত প্রদান করেন।
গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলন-চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সহ-সভাপতি এবং আইইবি-চট্টগ্রামের সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বাজেট শুনানিতে অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন জাতীয় পরিকল্পনা ও বাজেট সম্পর্কিত সংসদীয় ককাস’র সহসভাপতি ফজলে হোসেন বাদশা এমপি, নজরুল ইসলাম চৌধুরী এমপি, সাবিহা নাহার বেগম এমপি, ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কাজী মারুফুল ইসলাম।
বাজেট শুনানির শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলন-চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সহ-সভাপতি ও সুপ্রভাত বাংলাদেশের সহযোগী সম্পাদক এম. নাসিরুল হক। মনোয়ার মোস্তফা’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বাজেট প্রস্তাবনা উপস’াপন করেন গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলন-চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম।
চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন দাবি ও বাজেট প্রস্তাবনা নিয়ে আলোচনা করেন কাউন্সিলর আবিদা আযাদ, অ্যাডভোকেট রেহেনা আকতার, এম, এ, সাত্তার, আহমদ কবির, নুরজাহান খান, আহসান ফারুক, নোমান উল্লাহ বাহার, মাহাবুব-উল-আলম, মোহাম্মদ আলী সিকদার, বাপ্পা চৌধুরী, নজুরুল ইসলাম মজুমদার, আহসান উল্লাহ সরকার, ইয়াছমিন আকতার, রবিউল ইসলাম প্রমূখ।
ককাসের সভাপতি ফজলে হোসেন বাদশা এমপি বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়নসহ বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, দেশের সুষম ও সমন্বিত উন্নয়নের জন্য বাজেটকে জনকেন্দ্রীক ও জনবান্ধব করার জন্য সরকার ইতিমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
নজরুল ইসলাম চৌধুরী এমপি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়নের জন্য আমাদেরকে আরও বেশি সচেষ্ট হতে হবে। বাজেট শুনানিতে গণমাধ্যম কর্মী, উন্নয়ন কর্মী, শিক্ষাবিদ, তৃণমূল প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।