পাঠক মতামত

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমীপে

ললিত কুমার দে

শতভাগ পেনশন সমর্পণকারী অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীগণের আর্থিক সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করণার্থে সদাশয় সরকার কর্তৃক গৃহিত ০৮-১২-২০১৮ইং তারিখের সিদ্ধান্ত ছিল অভূতপূর্ব ও যুগান্তকারী। প্রাসঙ্গিক বিষয়ে সহৃদয়তার সাথে সদয় বিবেচনার জন্য কতিপয় আকুতি নিম্নে উপস্থাপন করা হলো:-
ক. ২০০৯ইং সন পূর্ব জাতীয় বেতন স্কেলের ধারাবাহিকতায় ২০০৯ইং সন ও ২০১৫ইং সনে যথাক্রমে ৭৫% ও ১০০% বৃদ্ধি সপ্তম ও অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণা ও বাস্তবায়ন করা হয়েছিল।
কিন্তু শতভাগ পেনশন সমর্পণকারীদের ক্ষেত্রে ৬৫ বছর বয়সীদের ৪০% ও ৬৫বছর ঊর্ধ্ব বয়সীদের ক্ষেত্রে ৫০% বৃদ্ধি করা হয়েছে, ফলে অবসরপ্রাপ্ত সকল শ্রেণির কর্মচারীগণ যথাক্রমে ৩৫% ও ৫০% বৃদ্ধি সুবিধা বঞ্চিত হয়েছেন।
খ. শতভাগ পেনশন সমর্পণকারী কর্মচারীগণসহ সকল শ্রেণির কর্মচারীগণকে জাতীয় বেতন স্কেলের আওতাভুক্ত হিসাবে গণ্য করে অন্যান্য নিয়মিত কর্মচারীগণের অনুরূপ চিকিৎসা ভাতা, নববর্ষ ভাতা, উৎসব ভাতা এবং ৫% হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট দেয়ার নীতিগত অনুমোদন দেয়া হলেও ২০০৯ইং সন পূর্ব জাতীয় বেতন স্কেলের ধারাবাহিকতায় ২০০৯ইং ও ২০১৫ইং সনে প্রবর্তিত ৭ম ও ৮ম জাতীয় বেতন স্কেলের করসপেন্ডিং গ্রেডের (ঈড়ৎৎবংঢ়ড়হফরহম এৎধফব) মূল বেতনের সমপর্যায়ে সমন্বয় করার বিষয়টি উপেক্ষিত হয়েছে।
গ. ২০০৯ইং সন পূর্ব সময়ে অবসর গ্রহণের সময় সর্বশেষ মূল বেতনের ২০% কেটে রেখে ৮০% ভিত্তি ধরে পেনশন নিষ্পত্তি করা হতো, যা বর্তমানে ১০% কেটে রেখে ৯০% ভিত্তি ধরে পেনশন নিষ্পত্তি করা হচ্ছে ২০০৯ইং সন পূর্ব জাতীয় বেতন স্কেল বর্তমানের তুলনায় খুবই নগণ্য ছিল, ফলে অবসরোত্তর প্রাপ্ত আর্থিক সুবিধাও ছিল যথাসামান্য।
উল্লেখিত ২০০৯ইং সন পূর্বাপর পেনশন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে তারতম্যের পরিমাণ ১০% হলেও জাতীয় বেতন স্কেলে অভূতপূর্ব বৃদ্ধির কারণে বর্তমানে পেনশন নিষ্পত্তিতে ৯০% ভিত্তি ধরে পেনশনোত্তার আর্থিক সুবিধা প্রাপ্তিতে ২০০৯ইং সন পূর্ব সময়ের তুলনায় অবিশ্বাস্য তারতম্য রয়েছে।
ঘ. অবসরকালীন সময়ে সর্বমোট ৮ বছর ৪ মাস ভিত্তি ধরে সর্বশেষ মূল বেতনের উপর অবসরোত্তর আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে আলোচ্য সময়সীমা অতিক্রান্ত হলেই শতভাগ পেনশন সমর্পণকারী অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীগণ স্বাভাবিকভাবে দায়মুক্তি লাভ করত পেনশন পুনঃ প্রত্যাবর্তনের যোগ্যতা অর্জন করে থাকেন, এক্ষেত্রে অবসর গ্রহণের পর ১৫ বছরের বাধ্যবাধকতা আরোপিত হিসাবে বিবেচিত।
ঙ. শতভাগ পেনশন সমর্পণকারী অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী যারা ২০০৪ইং সন থেকে ২০০৮ইং সন পর্যন্ত সময়কালে অবসর গ্রহণ করেছেন তাঁরা ইতিমধ্যে ১০ থেকে ১৪ বছর অবসরোত্তর সময়কাল অতিবাহিত করেছেন। পেনশন পুনঃ প্রত্যাবর্তনের সময়সীমা ১৫ বছরের বাধ্যবাধকতার কারণে আলোচ্য ১০ বছর থেকে ১৪ বছর অতিক্রমকারী কর্মচারীবৃন্দের বিষয়টি উপেক্ষিত হওয়ায় তাদের জীবদ্দশায় পেনশন পুনঃ প্রত্যাবর্তনের সুবিধা ভোগ করতে পারবেন কিনা সন্দেহের অবকাশ রয়েছে এবং তাঁরা অসহায়ত্বের আবর্তে পড়ে আর্থিক দৈন্যদশায় নিপতিত হয়ে বৃদ্ধ বয়সে জীবন-জীবিকা ও চিকিৎসা ব্যয় সংস্থানের অন্বেষায় মানবেতর জীবন অবলম্বন করে মৃত্যু পথযাত্রীর ভাগ্যবরণ করছেন।
অতএব, আলোচ্য বিষয়াদি সহানভূতির সাথে সম্পূর্ণ মানবিক কারণে সদয় বিবেচনায় এনে পুনঃ মূল্যায়ন পূর্বক পেনশন পুনঃ প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে ১৫ বছরের বাধ্যবাধকতার স্থলে ১০ বছর করণ এবং শতভাগ পেনশন সমর্পণকারী অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীবৃন্দসহ সকল অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীবৃন্ধের ২০০৯ইং সন পূর্ববর্তী জাতীয় বেতন স্কেলের ধারাবাহিকতায় ২০০৯ইং সন ও ২০১৫ইং সনে প্রবর্তিত ৭ম ও ৮ম বেতন স্কেলের করেসপন্ডিং গ্রেডে (ঈড়ৎৎবংঢ়ড়হফরহম এৎধফব) গ্রেডভুক্ত করত নিয়মিত কর্মচারীদের ন্যায় নতুন মূল বেতন ভিত্তি ধরে পেনশন পুনঃ নির্ধারণের সু-ব্যবস্থা করার আজ্ঞা হয়।
অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার
রামগড়, খাগড়াছড়ি