মাদ্রাসা ছাত্রী ধর্ষণ মামলা ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আসামি নিহত

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁশখালী

র্যাব-৭ ও সন্ত্রাসীদের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ধর্ষণ মামলার আসামি আব্দুল হাকিম (৩০) গতকাল মঙ্গলবার সকালে বাঁশখালীর সীমান্তে পেকুয়া উপজেলায় নিহত হয়েছে। ওই সময় ঘটনাস’ল থেকে র্যাব ১টি শুটার গান, ৫টি গুলি ও ২টি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে। নিহত ধর্ষক বাঁশখালীর শেখেরখীল ইউনিয়নের টেকপাড়া এলাকার শমসের আলমের পুত্র। সে দুই সন্তানের জনক। আব্দুল হাকিম বঙ্গোপসাগরে জেলে পেশায় নিয়োজিত ছিল। এলাকায় বেশ কয়েকটি ধর্ষণ ঘটনা ঘটিয়ে স’ানীয় বিচারে রক্ষা পেলেও সর্বশেষ গত ১৮ এপ্রিল শেখেরখীল সিকদার পাড়া ঢালী মাদ্রাসার ১০ বছর বয়সী ৩য় শ্রেণির মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণ করে প্রথম মামলার আসামি হয় বাঁশখালী থানায়। সেই মামলায় পলাতক থাকা অবস’ায় গতকাল মঙ্গলবার র্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়।
বাঁশখালী থানার উপ-পরিদর্শক ও শিশু ধর্ষণ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা লিটন চাকমা বলেন, ‘গত ১৮ এপ্রিল বেলা ২টার দিকে শেখেরখীল সিকদার পাড়া ঢালী মাদ্রাসার ১০ বছর বয়সী ৩য় শ্রেণির মাদ্রাসা ছাত্রী তাদের বাড়ির পাশে গুলিয়াখালী বিলের ধান ক্ষেতে গরুর জন্য ঘাস কাটতে যায়। ঘাস কাটার সময় ঝাপটে ধরে ওই ছাত্রীকে ধর্ষক আব্দুল হাকিম (৩০) ধর্ষণ করে। ছাত্রীটির শোর চিৎকারে স’ানীয় গ্রামবাসী গুরুতর আহত ছাত্রীকে উদ্ধার করে প্রথমে বাঁশখালী হাসপাতালে পরে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করান। এ ঘটনায় ধর্ষিতার বাবা বাদি হয়ে বাঁশখালী থানায় গত ২০ এপ্রিল মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থেকে আসামি পলাতক ছিল।’
শেখেরখীল ইউনিয়নের টেকপাড়ার বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, ধর্ষক আব্দুল হাকিম গ্রামে অন্ততঃ ১০/১২টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েছিল। প্রতিটি ঘটনায় স’ানীয় বিচারে তাকে মাতব্বররা রক্ষা করত। সংখ্যালঘু এক নারীকেও ধর্ষণ করেছিল সে। সর্বশেষ গত ১৮ এপ্রিল শেখেরখীল সিকদার পাড়া ৩য় শ্রেণির মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণ করে প্রথম মামলার আসামি হয় বাঁশখালী থানায়।
তার নিহত হবার খবরে এলাকার মানুষকে স্বস্তি প্রকাশ করতে দেখা যায়। স’ানীয় বাসিন্দারা বার বার ধর্ষণ ঘটনার পরও গ্রাম্য শালিসের মাতব্বররা যারা তাকে বাঁচাত তাদেরও বিচার দাবি করেছেন।
চট্টগ্রাম র্যাব-৭ চান্দগাঁও ক্যাম্পের অধিনায়ক লে. কমান্ডার আশেকুর রহমান বলেন, ‘ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় ধর্ষক আব্দুল হাকিম পুঁইছড়ি ইউনিয়নের প্রেমবাজারের সন্নিকটে এক পাহাড়ি এলাকায় তার বোনের বাড়িতে অবস’ান করছিল। ওখানে অভিযান চালিয়ে ঘটনাস’লের পাশাপাশি পেকুয়া উপজেলার কাছে গেলে সন্ত্রাসীরা গুলি চালায়। এসময় র্যাবও পাল্টা গুলি শুরু করলে বন্দুকযুদ্ধে এক সন্ত্রাসী নিহত হয়। নিহত ব্যক্তিকে পেকুয়া থানা পুলিশের সহযোগিতায় পেকুয়া উপজেলা স্বাস’্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তার পকেটে থাকা কাগজ থেকে পরিচয় পেয়ে জানা যায় নিহত সন্ত্রাসী বাঁশখালীর ধর্ষক আব্দুল হাকিম। বন্দুকযুদ্ধের স’ান থেকে ১টি শুটার গান, ৫টি গুলি ও ২টি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।’