মতবিনিময়সভায় স্বরাষ্ট্র সচিব ফরিদ উদ্দিন

মাদকের গডফাদারের মৃত্যুদণ্ডের বিধান আসছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

মাদকে পৃষ্ঠপোষকতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হচ্ছে। এ সংক্রান্ত আইনের খসড়া আগামী সপ্তাহে মন্ত্রিসভায় উঠছে। গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এক মতবিনিময়সভায় এ কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা ও সেবা বিভাগের সচিব ফরিদ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, বহির্গমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর, কারা কর্তৃপক্ষ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন সচিব।
মাদক নির্মূলে শিগগির যৌথবাহিনীর অভিযান শুরু হবে বলে জানিয়ে ফরিদ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘দেশে ক্রমান্বয়ে মাদকের ভয়াবহতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা মাদক উৎপাদনকারী দেশ নই, মাদক ভোগকারী। মিয়ানমার থেকে দেশে মাদক ঢুকছে। আমরা চেষ্টা করছি মাদকের প্রবেশ বন্ধ করতে। কিন’ দেশটির অসহযোগিতার কারণে পুরোপুরি তা পেরে উঠছি না।’
‘ভারতের সঙ্গে আমাদের চুক্তি হয়েছিলো। তাদের বর্ডারের পাশে থাকা মাদক কারাখানার তালিকা দিয়েছিলাম। তারা মাদক উৎপাদন কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে। এ কারণে ভারত থেকে মাদক আসা কমে গেছে। ১৯৯৪ সালে মিয়ানমারের সঙ্গেও চুক্তি হয়েছিল। তাদেরকেও তালিকা দিয়েছিলাম। চুক্তির পর থেকে মিয়ানমারের সঙ্গে মাত্র ৩টি মিটিং করতে পেরেছি। এসব মিটিংয়ের কোনো সিদ্ধান্ত আজও তারা বাস্তবায়ন করেনি। মাদক কারখানা বন্ধে তাদের আগ্রহ দেখতে পাচ্ছি না। মিয়ানমারে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে যারা আছেন তারাই এ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। মাদক নিয়ন্ত্রণে কক্সবাজার এবং বান্দরবান জেলায় মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্ত পথে কাঁটাতারের বেড়া দেয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলেন সচিব।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সচিব বলেন, ‘মাদক নিয়ন্ত্রণের জন্য ১৯৯০ সালে করা আইনে অনেক দুর্বলতা আছে। গণমাধ্যমে লেখা হচ্ছে, মাদকের গডফাদাররা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে। নতুন আইন আমরা করছি। সেখানে গডফাদারের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হচ্ছে।
চলমান মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়ে স্বরাষ্ট্র সচিব ফরিদ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘মাদকের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নির্দেশনা আছে। যতদিন পর্যন্ত পরিসি’তি সি’তিশীল না হবে ততদিন অভিযান চলবে। মাদকবিরোধী অভিযানে ‘বিচার বহির্ভূত’ হত্যাকাণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ থাকার বিষয়টি স্বীকার করে সচিব বলেন, ‘এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং নিয়ে আমরা অনেক চাপের মধ্যে আছি। বিশেষ করে ফরেন মিনিস্ট্রি আমাদের সবসময় এটা বলে। বিদেশ থেকেও চাপ দেওয়া হচ্ছে। কিন’ এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং বলতে যেটা বলা হচ্ছে সেটা তো হচ্ছে না।’
দেশের কারাগারগুলোর ধারণ ক্ষমতা ৩৬ হাজার ৬০০ জানিয়ে তিনি বলেন, এখন কারাগারগুলোতে ৯০ হাজার বন্দি আছে। এর ৪৩ শতাংশ মাদকের সাথে যুক্ত। যার সংখ্যা প্রায় ৩৬ হাজার। অর্থাৎ সক্ষমতার পুরোটাই মাদকের আসামি দিয়ে ভরা।
দেশে বর্তমানে ৮০ লাখ মাদকাসক্ত আছে জানিয়ে তাদের নেশার জগৎ থেকে বের করে আনতে প্রতিটি বিভাগীয় শহরে ২০০ শয্যার মাদক নিরাময় কেন্দ্র করা হবে বলে জানান সচিব।
চট্টগ্রাম কারাগারে ১৮০০ ধারণ ক্ষমতার বিপরীতে আট হাজার বন্দি আছে জানিয়ে এখানে আরেকটি কারাগার করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
পাসপোর্ট তৈরিতে বিলম্ব ও পুলিশ ভেরিফিকেশনের হয়রানি নিরসনে ই-পাসপোর্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং দ্রুত ভেরিফিকেশন সম্পাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান সচিব।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে একটি বিকলাঙ্গ প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে কার্যকর করার চেষ্টা করছি। এ সংস’ায় ৫০টি গাড়ি এবং চারজন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। দুজন ম্যাজিস্ট্রেট ঢাকায় ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছেন। চট্টগ্রামেও দুইজন ম্যাজিস্ট্রেট আসবেন।’
সভায় বক্তব্য দেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন, নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আমেনা বেগম, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স’র পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) মেজর একেএম শাকিল নেওয়াজ, কারা উপ-মহাপরিদর্শক পার্থ গোপাল বণিক, জেলা পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মজিবুর রহমান পাটোয়ারি, বহির্গমন ও পাসপোর্ট বিভাগের উপপরিচালক জাকির হোসেন নোমান প্রমুখ।