মাদকাসক্ত ছেলের হাতে বাবা খুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

রবিন বড়-য়া বাবু। বয়স ২৪। মা-বাবার একমাত্র সনত্মান। স’ায়ী বাড়ি রাউজান উপজেলার মহামুনি বড়-য়া পাড়ায়। বর্তমানে তারা থাকে কাজীর দেউড়ি, দুই নম্বর গলি এলাকায় সেমিপাকা টিনশেড ভাড়া বাসায়। শৈশব থেকে সনত্মান থেকে আলাদা থাকতেন বাবা রঞ্জন বড়ুয়া। তার মার নাম কুমকুম বড়-য়া। বাবার কাছ থেকে বিচ্ছিন্নতার কারণে সব সময় হতাশায় ডুবে থাকত রবিন। এক সময় তার মা মারা যান। তখন থেকে বাবার সাথে থাকা শুরম্ন রবিনের। মামার কাছে যেতে চাইলেও যেতে দিতেন না তার বাবা।
২০১৪ সালের কথা। হতাশা থেকে ইয়াবা সেবন শুরম্ন করে রবিন। মাদকসেবনে শামিল

করে তার বন্ধুদেরও। এক পর্যায়ে বাসায় নিজের কড়্গেই শুরম্ন করে মাদকসেবন। মাদকের জন্য প্রায় সময় বাবা রঞ্জন বড়-য়া ও দাদি নিভা বড়-য়ার কাছ থেকে টাকা চাইত রবিন। টাকা না দিলে তাদের মারধর করত।
২০-২৫ দিন আগে কাজীর দেউড়ি এলাকার কিছু ছেলের সঙ্গে ঝগড়া হলে রবিনের মাথা ফাটিয়ে দেয় তারা। এ ঘটনার পর রিয়াজউদ্দিন বাজার থেকে একটি টিপ ছুরি কিনে নিজের হেফাজতে রাখা শুরম্ন করে।
গত ১৪ এপ্রিলের (১ বৈশাখ) ঘটনা। রাত ১২টা। মাদকসেবনের টাকা না দেওয়ায় বাবার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় রবিনের। এ ঝগড়া চলতে থাকে সারারাত। অতিষ্ঠ হয়ে বাবা বলেন, ‘এভাবে তুমি বাসায় মাদকসেবন করতে থাকলে আমি বাইরের থেকে লোকজন ডেকে নিয়ে আসব’।
ওই দিন ভোর পাঁচটা থেকে সাড়ে পাঁচটার ঘটনা। বাবার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় রবিনের। এসময় লোক ডাকার জন্য বাইরে যেতে চাইলে বাবাকে বাধা দেয় রবিন। এক পর্যায়ে হাতে থাকা টিপ ছুরি দিয়ে বাবা রঞ্জন বড়-য়ার গলার বাম পাশে ও পিঠে ছুরিকাঘাত করে বসে রবিন। বাবার শরীর থেকে রক্ত ঝরছে দেখে ছুরি ফেলে পালিয়ে যায়। এ সময় ছেলে রঞ্জন বড়-য়ার চিৎকার শুনে ঘটনাস’লে এগিয়ে যায় দাদি নিভা বড়-য়া। তিনি দেখেন, ছেলের রক্তাক্ত দেহ মেঝেতে পড়ে আছে।
এরপর দাদি নিভা বড়-য়ার চিৎকারে লোকজন ছুটে এসে রঞ্জনের লাশ দেখে টহল পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস’ল থেকে ভিকটিম রঞ্জন বড়-য়ার লাশ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে কোতোয়ালি থানার এসআই ইকবাল হোসেন ভূইয়া জমিয়াতুল ফালাহ জামে মসজিদের সামনে অভিযান চালিয়ে রবিনকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে সে তার বাবাকে খুনের দায় স্বীকার করে।
এ ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় নিহতের ছোটভাই সঞ্জয় বড়-য়া বাদি হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। আসামি রবিনকে আদালতের নির্দেশে গত রোববার কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ